বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কওমী টাইমস

ইসরায়েলি হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞ উপেক্ষা করে পবিত্র কুরআন হিফজ সম্পন্ন করলেন উত্তর গাজার ৫০০ শিক্ষার্থী

ধ্বংসস্তূপের মাঝেও আলোর মিছিল: গাজায় ৫০০ হাফেজের দস্তারবন্দী সম্পন্ন


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

ধ্বংসস্তূপের মাঝেও আলোর মিছিল: গাজায় ৫০০ হাফেজের দস্তারবন্দী সম্পন্ন

দীর্ঘ দুই বছরের ভয়াবহ যুদ্ধ, অবরুদ্ধ অবস্থা এবং অবর্ণনীয় ধ্বংসযজ্ঞের মাঝেও ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় এক অনন্য নজির সৃষ্টি হয়েছে। উত্তর গাজার আল-শাতি শরণার্থী শিবিরে ৫০০ জন ছাত্র-ছাত্রীর পবিত্র কুরআন হিফজ সম্পন্ন হওয়া উপলক্ষে একটি বিশাল সমাবর্তন ও দস্তারবন্দী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপের মাঝে এই অনুষ্ঠান গাজাবাসীর অদম্য মনোবল ও ধর্মীয় নিষ্ঠার এক জীবন্ত প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

"গাজা কুরআনের হাফেজদের মাধ্যমে প্রস্ফুটিত হচ্ছে"—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কুয়েতের আলিয়া চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশন এবং এয়াদি আল-খায়ের ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে এই মহতী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ৫০০ জন নবীন হাফেজ ও হাফেজার অংশগ্রহণে পুরো শাতি ক্যাম্প এলাকা উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে হাফেজরা কুরআনের কপি এবং ফিলিস্তিনি পতাকা হাতে নিয়ে রাজপথে মিছিল করেন। এ সময় তাদের মুখে ছিল তাকবীর ও তাওহীদের ধ্বনি। ধ্বংস হয়ে যাওয়া ঘরবাড়ি এবং বোমায় বিধ্বস্ত রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষ হাততালি ও দোয়ার মাধ্যমে এই তরুণদের অভিনন্দন জানান। গাজার বর্তমান পরিস্থিতিতে যেখানে খাবারের হাহাকার ও নিরাপত্তার অভাব নিত্যদিনের সঙ্গী, সেখানে এই উৎসব ছিল সাধারণ মানুষের জন্য এক পশলা স্বস্তির মতো।

অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া হাফেজা ইবতিসাম আবু হুওয়াইদি জানান, "বোমাবর্ষণের নিচে দুই বছর ধরে কুরআন মুখস্থ করা মোটেও সহজ ছিল না। কিন্তু পবিত্র কুরআনই আমাদের এই কঠিন সময়ে টিকে থাকার শক্তি ও ধৈর্য দিয়েছে।" অন্যদিকে, হুইলচেয়ারে বসে অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া এক গর্বিত মা মুশিরা আবু ওয়াতফা আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, "অবরোধ ও দারিদ্র্য আমাদের সন্তানদের কুরআন থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি।"

উল্লেখ্য যে, গত দুই বছরের সামরিক অভিযানে গাজায় ৮৩৫টিরও বেশি মসজিদ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং ১৮০টিরও বেশি মসজিদ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমন প্রতিকূল পরিবেশে মসজিদবিহীন তাবু ও ধ্বংসস্তূপের নিচেই এই শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষা সম্পন্ন করেছেন। আয়োজকরা জানিয়েছেন, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ছিল চরম সংকটের মাঝেও গাজার সামাজিক, ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধকে টিকিয়ে রাখা। অনুষ্ঠান শেষে সকল হাফেজকে সম্মাননা স্মারক ও বিশেষ উপহার প্রদান করা হয়।

বিষয় : ফিলিস্তিন

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


ধ্বংসস্তূপের মাঝেও আলোর মিছিল: গাজায় ৫০০ হাফেজের দস্তারবন্দী সম্পন্ন

প্রকাশের তারিখ : ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫

featured Image

দীর্ঘ দুই বছরের ভয়াবহ যুদ্ধ, অবরুদ্ধ অবস্থা এবং অবর্ণনীয় ধ্বংসযজ্ঞের মাঝেও ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় এক অনন্য নজির সৃষ্টি হয়েছে। উত্তর গাজার আল-শাতি শরণার্থী শিবিরে ৫০০ জন ছাত্র-ছাত্রীর পবিত্র কুরআন হিফজ সম্পন্ন হওয়া উপলক্ষে একটি বিশাল সমাবর্তন ও দস্তারবন্দী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপের মাঝে এই অনুষ্ঠান গাজাবাসীর অদম্য মনোবল ও ধর্মীয় নিষ্ঠার এক জীবন্ত প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

"গাজা কুরআনের হাফেজদের মাধ্যমে প্রস্ফুটিত হচ্ছে"—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কুয়েতের আলিয়া চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশন এবং এয়াদি আল-খায়ের ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে এই মহতী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ৫০০ জন নবীন হাফেজ ও হাফেজার অংশগ্রহণে পুরো শাতি ক্যাম্প এলাকা উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে হাফেজরা কুরআনের কপি এবং ফিলিস্তিনি পতাকা হাতে নিয়ে রাজপথে মিছিল করেন। এ সময় তাদের মুখে ছিল তাকবীর ও তাওহীদের ধ্বনি। ধ্বংস হয়ে যাওয়া ঘরবাড়ি এবং বোমায় বিধ্বস্ত রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষ হাততালি ও দোয়ার মাধ্যমে এই তরুণদের অভিনন্দন জানান। গাজার বর্তমান পরিস্থিতিতে যেখানে খাবারের হাহাকার ও নিরাপত্তার অভাব নিত্যদিনের সঙ্গী, সেখানে এই উৎসব ছিল সাধারণ মানুষের জন্য এক পশলা স্বস্তির মতো।

অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া হাফেজা ইবতিসাম আবু হুওয়াইদি জানান, "বোমাবর্ষণের নিচে দুই বছর ধরে কুরআন মুখস্থ করা মোটেও সহজ ছিল না। কিন্তু পবিত্র কুরআনই আমাদের এই কঠিন সময়ে টিকে থাকার শক্তি ও ধৈর্য দিয়েছে।" অন্যদিকে, হুইলচেয়ারে বসে অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া এক গর্বিত মা মুশিরা আবু ওয়াতফা আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, "অবরোধ ও দারিদ্র্য আমাদের সন্তানদের কুরআন থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি।"

উল্লেখ্য যে, গত দুই বছরের সামরিক অভিযানে গাজায় ৮৩৫টিরও বেশি মসজিদ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং ১৮০টিরও বেশি মসজিদ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমন প্রতিকূল পরিবেশে মসজিদবিহীন তাবু ও ধ্বংসস্তূপের নিচেই এই শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষা সম্পন্ন করেছেন। আয়োজকরা জানিয়েছেন, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ছিল চরম সংকটের মাঝেও গাজার সামাজিক, ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধকে টিকিয়ে রাখা। অনুষ্ঠান শেষে সকল হাফেজকে সম্মাননা স্মারক ও বিশেষ উপহার প্রদান করা হয়।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মুস্তাইন বিল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত