বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কওমী টাইমস

দাড়ি ও হিজাব রাখার কারণে গুজরাটে শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীদের পরীক্ষা দিতে বাধা; ক্ষুব্ধ মানবাধিকার কর্মীরা

ভারতে মুসলিম শিক্ষার্থীদের ওপর বৈষম্য: পরীক্ষা কেন্দ্রে হেনস্তার অভিযোগ


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

ভারতে মুসলিম শিক্ষার্থীদের ওপর বৈষম্য: পরীক্ষা কেন্দ্রে হেনস্তার অভিযোগ

ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য গুজরাটে মুসলিম শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা এবং মানসিক হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। নার্সিং শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সরকারি চাকরির পরীক্ষার্থী—সবক্ষেত্রে দাড়ি রাখা বা হিজাব পরিধানকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে এই বৈষম্য চালানো হচ্ছে বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন। ভারতীয় সংবিধান ধর্মীয় স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দিলেও মাঠ পর্যায়ে এর চরম লঙ্ঘন পরিলক্ষিত হচ্ছে।

ভারতের গুজরাট রাজ্যে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে মুসলিম শিক্ষার্থীদের ওপর পদ্ধতিগত বৈষম্যের অভিযোগ জোরালো হচ্ছে। সাম্প্রতিক এক ঘটনায়, আবু বকর সিদ্দিক নামে এক নার্সিং শিক্ষার্থীকে তার দাড়ির কারণে মৌখিক পরীক্ষায় (Viva) বসতে বাধা দেওয়া হয়। আবু বকর জানান, গত ২৩ ডিসেম্বর নির্ধারিত ইউনিফর্ম এবং মাস্ক পরে পরীক্ষা কেন্দ্রে গেলেও পরীক্ষকরা তাকে ‘অযোগ্য’ বলে ঘোষণা করেন।

গুজরাট নার্সিং কাউন্সিলের নিয়মানুযায়ী দাড়ি রাখার ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও, পরীক্ষকরা আবু বকরের কোনো যুক্তি শুনতে রাজি হননি। প্রায় দুই ঘণ্টা মানসিক চাপের পর কলেজ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে তিনি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারলেও, সেই হেনস্তা তার ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে তিনি দাবি করেন। আবু বকরের মতে, "বিগত তিন বছর ধরে অনেক ছাত্র কেবল নম্বর কাটার ভয়ে দাড়ি কামিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে বাধ্য হচ্ছে।"

নারীদের ক্ষেত্রে বাধা আরও প্রবল

একই ধরনের অভিযোগ তুলেছেন জেনিশা শাহ নামে এক নারী। গত ২৪ ডিসেম্বর রেলওয়ে রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের (RRB) পরীক্ষায় অংশ নিতে গেলে তাকে হিজাব ও বোরকা খুলতে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়। প্রতিবাদ জানালে কেন্দ্র কর্মীরা তাকে উপহাস করে বলেন, ‘মুসলিমরাই কেবল তর্ক করে’। শেষ পর্যন্ত নিজের ধর্মীয় বিশ্বাস বজায় রাখতে পরীক্ষা না দিয়েই কেন্দ্র ত্যাগ করেন জেনিশা। তিনি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ স্লোগানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে বলেন, "একদিকে মেয়েদের শিক্ষার কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে আমাদের পরীক্ষা দিতেই বাধা দেওয়া হচ্ছে।"

নিদা শেখ নামে অন্য এক চাকরিপ্রার্থী জানান, ক্লারিক্যাল নিয়োগ পরীক্ষার সময়ও তাকে একই ধরনের লাঞ্ছনার শিকার হতে হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হিন্দুত্ববাদী স্লোগান দিয়ে মুসলিম ছাত্রীদের আতঙ্কিত করার অভিযোগও ক্রমেই বাড়ছে।

মানবাধিকার ও আইনি উদ্বেগ

২০২২ সালে কর্ণাটকের হিজাব বিতর্কের অন্যতম মুখ আলিয়া আসাদি এই ঘটনাগুলোকে একটি বৃহত্তর ‘ইসলামোফোবিক’ নকশার অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। মানবাধিকার কর্মীদের মতে, যখন ধর্মীয় পরিচয় শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তখন তা কেবল ব্যক্তির নয়, বরং পুরো পরিবারের ভবিষ্যৎ অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৫ অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের নিজ ধর্ম পালনের অধিকার রয়েছে। তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে দাড়ি বা হিজাবের বিরুদ্ধে অলিখিত ও ভিত্তিহীন নিষেধাজ্ঞা এই সাংবিধানিক অধিকারকে চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করছে।

বিষয় : ভারত ইসলামফোবিয়া

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


ভারতে মুসলিম শিক্ষার্থীদের ওপর বৈষম্য: পরীক্ষা কেন্দ্রে হেনস্তার অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫

featured Image

ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য গুজরাটে মুসলিম শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা এবং মানসিক হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। নার্সিং শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সরকারি চাকরির পরীক্ষার্থী—সবক্ষেত্রে দাড়ি রাখা বা হিজাব পরিধানকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে এই বৈষম্য চালানো হচ্ছে বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন। ভারতীয় সংবিধান ধর্মীয় স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দিলেও মাঠ পর্যায়ে এর চরম লঙ্ঘন পরিলক্ষিত হচ্ছে।

ভারতের গুজরাট রাজ্যে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে মুসলিম শিক্ষার্থীদের ওপর পদ্ধতিগত বৈষম্যের অভিযোগ জোরালো হচ্ছে। সাম্প্রতিক এক ঘটনায়, আবু বকর সিদ্দিক নামে এক নার্সিং শিক্ষার্থীকে তার দাড়ির কারণে মৌখিক পরীক্ষায় (Viva) বসতে বাধা দেওয়া হয়। আবু বকর জানান, গত ২৩ ডিসেম্বর নির্ধারিত ইউনিফর্ম এবং মাস্ক পরে পরীক্ষা কেন্দ্রে গেলেও পরীক্ষকরা তাকে ‘অযোগ্য’ বলে ঘোষণা করেন।

গুজরাট নার্সিং কাউন্সিলের নিয়মানুযায়ী দাড়ি রাখার ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও, পরীক্ষকরা আবু বকরের কোনো যুক্তি শুনতে রাজি হননি। প্রায় দুই ঘণ্টা মানসিক চাপের পর কলেজ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে তিনি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারলেও, সেই হেনস্তা তার ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে তিনি দাবি করেন। আবু বকরের মতে, "বিগত তিন বছর ধরে অনেক ছাত্র কেবল নম্বর কাটার ভয়ে দাড়ি কামিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে বাধ্য হচ্ছে।"

নারীদের ক্ষেত্রে বাধা আরও প্রবল

একই ধরনের অভিযোগ তুলেছেন জেনিশা শাহ নামে এক নারী। গত ২৪ ডিসেম্বর রেলওয়ে রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের (RRB) পরীক্ষায় অংশ নিতে গেলে তাকে হিজাব ও বোরকা খুলতে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়। প্রতিবাদ জানালে কেন্দ্র কর্মীরা তাকে উপহাস করে বলেন, ‘মুসলিমরাই কেবল তর্ক করে’। শেষ পর্যন্ত নিজের ধর্মীয় বিশ্বাস বজায় রাখতে পরীক্ষা না দিয়েই কেন্দ্র ত্যাগ করেন জেনিশা। তিনি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ স্লোগানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে বলেন, "একদিকে মেয়েদের শিক্ষার কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে আমাদের পরীক্ষা দিতেই বাধা দেওয়া হচ্ছে।"

নিদা শেখ নামে অন্য এক চাকরিপ্রার্থী জানান, ক্লারিক্যাল নিয়োগ পরীক্ষার সময়ও তাকে একই ধরনের লাঞ্ছনার শিকার হতে হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হিন্দুত্ববাদী স্লোগান দিয়ে মুসলিম ছাত্রীদের আতঙ্কিত করার অভিযোগও ক্রমেই বাড়ছে।

মানবাধিকার ও আইনি উদ্বেগ

২০২২ সালে কর্ণাটকের হিজাব বিতর্কের অন্যতম মুখ আলিয়া আসাদি এই ঘটনাগুলোকে একটি বৃহত্তর ‘ইসলামোফোবিক’ নকশার অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। মানবাধিকার কর্মীদের মতে, যখন ধর্মীয় পরিচয় শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তখন তা কেবল ব্যক্তির নয়, বরং পুরো পরিবারের ভবিষ্যৎ অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৫ অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের নিজ ধর্ম পালনের অধিকার রয়েছে। তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে দাড়ি বা হিজাবের বিরুদ্ধে অলিখিত ও ভিত্তিহীন নিষেধাজ্ঞা এই সাংবিধানিক অধিকারকে চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মুস্তাইন বিল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত