ভারতের ত্রিপুরার পানিসাগর মহকুমার পেকুছড়া এলাকায় একটি ওয়াজ মাহফিলের প্রচার চলাকালীন প্রচারবাহী গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। একটি উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর সদস্যরা গাড়িটি থামিয়ে দায়িত্বরত তিন মুসলিম ব্যক্তিকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধর করে। এই ঘটনার পর স্থানীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
গত ২৩ ডিসেম্বর উত্তর ত্রিপুরার পানিসাগর এলাকায় একটি স্থানীয় মসজিদের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ওয়াজ মাহফিল’ (ইসলামী ধর্মীয় আলোচনা সভা) প্রচারের জন্য একটি গাড়ি বের করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শী এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গাড়িটি যখন জনসম্মুখে ঘোষণা দিচ্ছিল, তখন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (ভিএইচপি) পতাকা সংবলিত একটি গাড়িতে আসা প্রায় ১৫ জন ব্যক্তি পথরোধ করে।
আক্রান্তদের পরিচয়
হামলায় গুরুতর আহত ও লাঞ্ছিতরা হলেন আব্দুল মালিক, তাসলিম উদ্দিন এবং মাওলানা জুনাইদ আহমেদ। প্রত্যক্ষদর্শী মাওলানা হাবিবুর রহমান জানান, হামলাটি ছিল সম্পূর্ণ উস্কানিমূলক। হামলাকারীরা চালক এবং ঘোষণাকারীকে গাড়ি থেকে নামিয়ে অমানবিক নির্যাতন চালায়।
প্রশাসনের ভূমিকা ও পরস্পরবিরোধী বক্তব্য
ঘটনার খবর পেয়ে পানিসাগর পুলিশ এবং মহকুমা শাসক (SDM) সুশান্ত দেববর্মা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে স্থানীয় কিছু সংবাদমাধ্যম এই প্রচারকে ‘অননুমোদিত কার্যক্রম’ হিসেবে দাবি করলেও আয়োজকরা তা অস্বীকার করেছেন। মাওলানা রহমান জানান, এ ধরনের ধর্মীয় প্রচারের জন্য কোনো বিশেষ প্রশাসনিক অনুমতির প্রয়োজন নেই, এবং আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে মারধর করার অধিকার কারও নেই।
বর্তমান পরিস্থিতি
এই হামলার পর এলাকায় ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় মুসলিম বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, এটি তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ এবং ভীতিকর পরিবেশ তৈরির একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা। পুলিশ এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা গ্রেপ্তারের খবর নিশ্চিত করেনি। স্থানীয় মসজিদের ইমাম নিরাপত্তার স্বার্থে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বিষয় : ভারত ইসলামফোবিয়া ত্রিপুরা

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫
ভারতের ত্রিপুরার পানিসাগর মহকুমার পেকুছড়া এলাকায় একটি ওয়াজ মাহফিলের প্রচার চলাকালীন প্রচারবাহী গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। একটি উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর সদস্যরা গাড়িটি থামিয়ে দায়িত্বরত তিন মুসলিম ব্যক্তিকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধর করে। এই ঘটনার পর স্থানীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
গত ২৩ ডিসেম্বর উত্তর ত্রিপুরার পানিসাগর এলাকায় একটি স্থানীয় মসজিদের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ওয়াজ মাহফিল’ (ইসলামী ধর্মীয় আলোচনা সভা) প্রচারের জন্য একটি গাড়ি বের করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শী এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গাড়িটি যখন জনসম্মুখে ঘোষণা দিচ্ছিল, তখন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (ভিএইচপি) পতাকা সংবলিত একটি গাড়িতে আসা প্রায় ১৫ জন ব্যক্তি পথরোধ করে।
আক্রান্তদের পরিচয়
হামলায় গুরুতর আহত ও লাঞ্ছিতরা হলেন আব্দুল মালিক, তাসলিম উদ্দিন এবং মাওলানা জুনাইদ আহমেদ। প্রত্যক্ষদর্শী মাওলানা হাবিবুর রহমান জানান, হামলাটি ছিল সম্পূর্ণ উস্কানিমূলক। হামলাকারীরা চালক এবং ঘোষণাকারীকে গাড়ি থেকে নামিয়ে অমানবিক নির্যাতন চালায়।
প্রশাসনের ভূমিকা ও পরস্পরবিরোধী বক্তব্য
ঘটনার খবর পেয়ে পানিসাগর পুলিশ এবং মহকুমা শাসক (SDM) সুশান্ত দেববর্মা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে স্থানীয় কিছু সংবাদমাধ্যম এই প্রচারকে ‘অননুমোদিত কার্যক্রম’ হিসেবে দাবি করলেও আয়োজকরা তা অস্বীকার করেছেন। মাওলানা রহমান জানান, এ ধরনের ধর্মীয় প্রচারের জন্য কোনো বিশেষ প্রশাসনিক অনুমতির প্রয়োজন নেই, এবং আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে মারধর করার অধিকার কারও নেই।
বর্তমান পরিস্থিতি
এই হামলার পর এলাকায় ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় মুসলিম বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, এটি তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ এবং ভীতিকর পরিবেশ তৈরির একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা। পুলিশ এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা গ্রেপ্তারের খবর নিশ্চিত করেনি। স্থানীয় মসজিদের ইমাম নিরাপত্তার স্বার্থে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

আপনার মতামত লিখুন