ভারতের উত্তর প্রদেশে প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন, তলোয়ার বিতরণ এবং মুসলিমদের বিরুদ্ধে সহিংস হুমকির অভিযোগে হিন্দুত্ববাদী সংগঠন হিন্দু রক্ষা দল–এর ১০ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
গাজিয়াবাদের শালিমার গার্ডেন থানার আওতাধীন এলাকায় হিন্দু রক্ষা দল প্রকাশ্যে তলোয়ার বিতরণ এবং উসকানিমূলক স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই ঘটনায় ৪০ জনের বেশি ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে সংগঠনের সদস্যদের হাতে তলোয়ার দেখা যায় এবং মুসলিমদের বিরুদ্ধে সহিংস বক্তব্য দিতে শোনা যায়। এসব ভিডিওর ভিত্তিতেই পুলিশ এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করে।
শালিমার গার্ডেন থানার সহকারী পুলিশ কমিশনার অতুল কুমার সিং বলেন, “এ পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্ত চলমান রয়েছে এবং আরও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এফআইআরে মোট ১৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন হিন্দু রক্ষা দলের প্রধান পিঙ্কি চৌধুরীসহ হর্ষ চৌধুরী, অন্নু, শ্যাম যাদব, অমিত সিং, মোহিত কুমার, অরুণ জৈন, উজালা সিং, অমিত কুমার, মহেন্দ্র প্রধান, রামপাল, মোহিত, রাধে শ্যাম, অমিত প্রজাপতি, শ্রবণ চন্দেল ও কপিল।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)–এর ১৯১(২), ১৯১(৩), ১২৭(২) ধারাসহ একাধিক গুরুতর ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে।
এফআইআরে উল্লেখ করা হয়, পিঙ্কি চৌধুরীর কার্যালয়ে অস্ত্র বিতরণ এবং আক্রমণাত্মক বিক্ষোভের ফলে এলাকায় চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। পথচারীরা ভয় পেয়ে যানবাহন ফেলে পালিয়ে যান, আশপাশের বাসিন্দারা ঘরে লুকিয়ে পড়েন। পরিস্থিতির কারণে বৃদ্ধ, শিশু এমনকি একটি অ্যাম্বুলেন্সও আটকে পড়ে। এতে জনশান্তি মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়।
ভাইরাল ভিডিওতে সংগঠনের সদস্যদের মুসলিমদের বিরুদ্ধে সরাসরি সহিংসতায় উসকানি দিতে দেখা যায়। এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, “বাংলাদেশের মতো পরিস্থিতি হলে মেয়েদের নিরাপত্তার জন্য এই অস্ত্র রাখুন।” আরেকজন বলেন, “এটি মোল্লাদের (মুসলিমদের) হত্যার জন্য।”
কিছু সদস্য দাবি করেন, বাংলাদেশে হিন্দুদের কথিত নির্যাতনের প্রতিক্রিয়ায় তারা এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছেন। তারা আরও হুমকি দেন যে, কোনো বাংলাদেশি, পাকিস্তানি বা ‘জিহাদি’ পাওয়া গেলে তাকে নগ্ন করে থানায় টেনে নেওয়া হবে।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। উত্তর প্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব প্রশ্ন তোলেন, “সহিংস চিন্তা ও অস্ত্র মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কি আদৌ কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে?”
রাষ্ট্রীয় জনতা দলের মুখপাত্র কঞ্চনা যাদব ঘটনাটিকে “সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড” হিসেবে আখ্যা দিয়ে মোদি সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর ভাষায়, “এই ঘটনা সরকারের ব্যর্থতার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। তারা বলছে পুলিশ, সরকার ও আদালত সবই অকার্যকর—এমন দুর্বল দেশ আমরা আগে দেখিনি।”
ঘটনাটি ভারতের সামাজিক সম্প্রীতি, সংবিধান এবং আইনের শাসন নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বিষয় : ভারত ইসলামফোবিয়া

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫
ভারতের উত্তর প্রদেশে প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন, তলোয়ার বিতরণ এবং মুসলিমদের বিরুদ্ধে সহিংস হুমকির অভিযোগে হিন্দুত্ববাদী সংগঠন হিন্দু রক্ষা দল–এর ১০ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
গাজিয়াবাদের শালিমার গার্ডেন থানার আওতাধীন এলাকায় হিন্দু রক্ষা দল প্রকাশ্যে তলোয়ার বিতরণ এবং উসকানিমূলক স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই ঘটনায় ৪০ জনের বেশি ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে সংগঠনের সদস্যদের হাতে তলোয়ার দেখা যায় এবং মুসলিমদের বিরুদ্ধে সহিংস বক্তব্য দিতে শোনা যায়। এসব ভিডিওর ভিত্তিতেই পুলিশ এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করে।
শালিমার গার্ডেন থানার সহকারী পুলিশ কমিশনার অতুল কুমার সিং বলেন, “এ পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্ত চলমান রয়েছে এবং আরও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এফআইআরে মোট ১৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন হিন্দু রক্ষা দলের প্রধান পিঙ্কি চৌধুরীসহ হর্ষ চৌধুরী, অন্নু, শ্যাম যাদব, অমিত সিং, মোহিত কুমার, অরুণ জৈন, উজালা সিং, অমিত কুমার, মহেন্দ্র প্রধান, রামপাল, মোহিত, রাধে শ্যাম, অমিত প্রজাপতি, শ্রবণ চন্দেল ও কপিল।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)–এর ১৯১(২), ১৯১(৩), ১২৭(২) ধারাসহ একাধিক গুরুতর ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে।
এফআইআরে উল্লেখ করা হয়, পিঙ্কি চৌধুরীর কার্যালয়ে অস্ত্র বিতরণ এবং আক্রমণাত্মক বিক্ষোভের ফলে এলাকায় চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। পথচারীরা ভয় পেয়ে যানবাহন ফেলে পালিয়ে যান, আশপাশের বাসিন্দারা ঘরে লুকিয়ে পড়েন। পরিস্থিতির কারণে বৃদ্ধ, শিশু এমনকি একটি অ্যাম্বুলেন্সও আটকে পড়ে। এতে জনশান্তি মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়।
ভাইরাল ভিডিওতে সংগঠনের সদস্যদের মুসলিমদের বিরুদ্ধে সরাসরি সহিংসতায় উসকানি দিতে দেখা যায়। এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, “বাংলাদেশের মতো পরিস্থিতি হলে মেয়েদের নিরাপত্তার জন্য এই অস্ত্র রাখুন।” আরেকজন বলেন, “এটি মোল্লাদের (মুসলিমদের) হত্যার জন্য।”
কিছু সদস্য দাবি করেন, বাংলাদেশে হিন্দুদের কথিত নির্যাতনের প্রতিক্রিয়ায় তারা এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছেন। তারা আরও হুমকি দেন যে, কোনো বাংলাদেশি, পাকিস্তানি বা ‘জিহাদি’ পাওয়া গেলে তাকে নগ্ন করে থানায় টেনে নেওয়া হবে।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। উত্তর প্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব প্রশ্ন তোলেন, “সহিংস চিন্তা ও অস্ত্র মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কি আদৌ কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে?”
রাষ্ট্রীয় জনতা দলের মুখপাত্র কঞ্চনা যাদব ঘটনাটিকে “সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড” হিসেবে আখ্যা দিয়ে মোদি সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর ভাষায়, “এই ঘটনা সরকারের ব্যর্থতার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। তারা বলছে পুলিশ, সরকার ও আদালত সবই অকার্যকর—এমন দুর্বল দেশ আমরা আগে দেখিনি।”
ঘটনাটি ভারতের সামাজিক সম্প্রীতি, সংবিধান এবং আইনের শাসন নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

আপনার মতামত লিখুন