বিতর্কিত হিন্দু পুরোহিত ইয়াতি নরসিংহানন্দ আবারও মুসলিম বিদ্বেষী ও উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে হিন্দু রক্ষা দল কর্তৃক তলোয়ার বিতরণের জেরে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের সমর্থন করতে গিয়ে তিনি হিন্দুদের ‘সুইসাইড স্কোয়াড’ এবং জঙ্গি গোষ্ঠী আইসিসের আদলে সংগঠন গড়ার আহ্বান জানান। তার এই চরমপন্থী বক্তব্যে ভারতের বিচারব্যবস্থা ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে।
গাজিয়াবাদের দাসনা দেবী মন্দিরের পুরোহিত ইয়াতি নরসিংহানন্দ, যিনি দীর্ঘ সময় ধরে ঘৃণা ছড়ানোর অভিযোগে অভিযুক্ত, সম্প্রতি একটি ভিডিও বার্তায় এই বিতর্কিত মন্তব্য করেন। গত মঙ্গলবার গাজিয়াবাদ পুলিশ 'হিন্দু রক্ষা দল'-এর প্রধান পিঙ্কি চৌধুরীসহ ১০ জনকে গ্রেপ্তার এবং আরও ৪০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তারা জনসমক্ষে তলোয়ার বিতরণ করে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছিল।
এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় নরসিংহানন্দ গ্রেপ্তারকৃত পিঙ্কি চৌধুরীকে ‘হিন্দু হৃদয় সম্রাট’ ও ‘সিংহ’ হিসেবে আখ্যা দেন। ভিডিওতে তিনি বলেন:
"আমি পিঙ্কি চৌধুরীকে বলতে চাই যে, এখন আর শুধু তলোয়ারে কাজ হবে না। হিন্দুদের এখন আত্মঘাতী দল (Suicide Squad) গঠন করতে হবে। বজরং দলের মতো সংগঠন ছেড়ে হিন্দুদের এখন আইসিসের (ISIS) মতো সংগঠন গড়ে তোলা উচিত। তাদের কার্যক্রম হতে হবে আইসিসের মতো এবং নিজেদের ধর্মের জন্য সেই জঙ্গি গোষ্ঠীর মতোই কাজ করতে হবে। তবেই হিন্দুদের রক্ষা করা সম্ভব।"
তিনি আরও দাবি করেন যে, বর্তমান পুলিশ বা প্রশাসনের ওপর নির্ভর করে হিন্দুরা টিকে থাকতে পারবে না। তাই তিনি অস্ত্র হিসেবে তলোয়ারের চেয়েও ভয়ঙ্কর কিছু ব্যবহারের প্ররোচনা দেন।
প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনা
নরসিংহানন্দের এই উগ্রবাদী আহ্বানের পর ভারতের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বলিউড গীতিকার ও কৌতুকাভিনেতা বরুণ গ্রোভার সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "যেকোনো কার্যকর গণতন্ত্রে এমন প্রকাশ্য সহিংসতার ডাক দিলে বিচার বিভাগ ও প্রশাসন নড়েচড়ে বসত। কিন্তু আমরা এমন এক অবস্থায় আছি যেখানে এগুলোই এখন স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়িয়েছে।"
কংগ্রেস মুখপাত্র ড. রাগিনী নায়ক সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি জানতে চান, প্রশাসন কেন এখনো এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। অন্যদিকে, সাবেক আইপিএস কর্মকর্তা ড. মুকেশ চন্দর নরসিংহানন্দকে ‘গেরুয়া পোশাকে বিষধর সাপ’ হিসেবে অভিহিত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ইয়াতি নরসিংহানন্দের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বেও ঘৃণা ছড়ানো এবং উস্কানিমূলক বক্তব্যের অভিযোগে ডজনেরও বেশি মামলা রয়েছে। তবে বারবার আইন অমান্য করার পরেও তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত পদক্ষেপ না নেওয়ায় পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বিষয় : ভারত ইসলামফোবিয়া

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ জানুয়ারি ২০২৬
বিতর্কিত হিন্দু পুরোহিত ইয়াতি নরসিংহানন্দ আবারও মুসলিম বিদ্বেষী ও উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে হিন্দু রক্ষা দল কর্তৃক তলোয়ার বিতরণের জেরে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের সমর্থন করতে গিয়ে তিনি হিন্দুদের ‘সুইসাইড স্কোয়াড’ এবং জঙ্গি গোষ্ঠী আইসিসের আদলে সংগঠন গড়ার আহ্বান জানান। তার এই চরমপন্থী বক্তব্যে ভারতের বিচারব্যবস্থা ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে।
গাজিয়াবাদের দাসনা দেবী মন্দিরের পুরোহিত ইয়াতি নরসিংহানন্দ, যিনি দীর্ঘ সময় ধরে ঘৃণা ছড়ানোর অভিযোগে অভিযুক্ত, সম্প্রতি একটি ভিডিও বার্তায় এই বিতর্কিত মন্তব্য করেন। গত মঙ্গলবার গাজিয়াবাদ পুলিশ 'হিন্দু রক্ষা দল'-এর প্রধান পিঙ্কি চৌধুরীসহ ১০ জনকে গ্রেপ্তার এবং আরও ৪০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তারা জনসমক্ষে তলোয়ার বিতরণ করে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছিল।
এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় নরসিংহানন্দ গ্রেপ্তারকৃত পিঙ্কি চৌধুরীকে ‘হিন্দু হৃদয় সম্রাট’ ও ‘সিংহ’ হিসেবে আখ্যা দেন। ভিডিওতে তিনি বলেন:
"আমি পিঙ্কি চৌধুরীকে বলতে চাই যে, এখন আর শুধু তলোয়ারে কাজ হবে না। হিন্দুদের এখন আত্মঘাতী দল (Suicide Squad) গঠন করতে হবে। বজরং দলের মতো সংগঠন ছেড়ে হিন্দুদের এখন আইসিসের (ISIS) মতো সংগঠন গড়ে তোলা উচিত। তাদের কার্যক্রম হতে হবে আইসিসের মতো এবং নিজেদের ধর্মের জন্য সেই জঙ্গি গোষ্ঠীর মতোই কাজ করতে হবে। তবেই হিন্দুদের রক্ষা করা সম্ভব।"
তিনি আরও দাবি করেন যে, বর্তমান পুলিশ বা প্রশাসনের ওপর নির্ভর করে হিন্দুরা টিকে থাকতে পারবে না। তাই তিনি অস্ত্র হিসেবে তলোয়ারের চেয়েও ভয়ঙ্কর কিছু ব্যবহারের প্ররোচনা দেন।
প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনা
নরসিংহানন্দের এই উগ্রবাদী আহ্বানের পর ভারতের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বলিউড গীতিকার ও কৌতুকাভিনেতা বরুণ গ্রোভার সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "যেকোনো কার্যকর গণতন্ত্রে এমন প্রকাশ্য সহিংসতার ডাক দিলে বিচার বিভাগ ও প্রশাসন নড়েচড়ে বসত। কিন্তু আমরা এমন এক অবস্থায় আছি যেখানে এগুলোই এখন স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়িয়েছে।"
কংগ্রেস মুখপাত্র ড. রাগিনী নায়ক সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি জানতে চান, প্রশাসন কেন এখনো এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। অন্যদিকে, সাবেক আইপিএস কর্মকর্তা ড. মুকেশ চন্দর নরসিংহানন্দকে ‘গেরুয়া পোশাকে বিষধর সাপ’ হিসেবে অভিহিত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ইয়াতি নরসিংহানন্দের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বেও ঘৃণা ছড়ানো এবং উস্কানিমূলক বক্তব্যের অভিযোগে ডজনেরও বেশি মামলা রয়েছে। তবে বারবার আইন অমান্য করার পরেও তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত পদক্ষেপ না নেওয়ায় পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন