আফগানিস্তানের ইসলামিক আমিরাত জানিয়েছে, ২০২৫ সালে দেশটির অর্থনৈতিক অগ্রগতির অংশ হিসেবে শত শত উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। জাতীয় ক্রয় কমিশনের মাধ্যমে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সরকারের দাবি, এতে অর্থনীতি, শিল্প ও ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা এসেছে।
ইসলামিক আমিরাত অব আফগানিস্তান জানিয়েছে, ২০২৫ সালে জাতীয় ক্রয় কমিশনের ৩৩টি বৈঠকে মোট ৫৬২টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যার মোট মূল্য ১৩০ দশমিক ৬ বিলিয়ন আফগানি।
ইসলামিক আমিরাতের উপ-প্রবক্তা হামদুল্লাহ ফিতরাত বলেন, এই উদ্যোগ দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও আত্মনির্ভরতার জন্য সবচেয়ে বড় পদক্ষেপগুলোর একটি। তার মতে, বর্তমানে আফগানিস্তানে ২৪টি খাতে দেশীয় উৎপাদন চালু রয়েছে এবং শিল্প খাতে বিনিয়োগের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি আরও জানান, তেল খাতে ৫৭টি মানদণ্ড ও পরীক্ষামূলক নির্দেশিকা অনুমোদন করা হয়েছে, যা জ্বালানি খাতে কাঠামোগত উন্নয়নের অংশ।
২০২৫ সালে অর্থনৈতিক কমিশনের বৈঠকে অনুমোদিত উল্লেখযোগ্য প্রকল্প ও নীতির মধ্যে রয়েছে—
হেরাতে “বাম-হেরাত” বিনোদন কমপ্লেক্স নির্মাণ পরিকল্পনা
জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার খসড়া
খনিজ খাত থেকে রাজস্ব আহরণ সংক্রান্ত নীতিমালা
গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক খাতে আত্মনির্ভরতা কৌশল
ইসলামিক আমিরাতের সামগ্রিক অর্থনৈতিক নীতি
কোল্ড স্টোরেজ বিনিয়োগকারীদের জন্য পাঁচ বছরের কর অব্যাহতির প্রস্তাব
হামদুল্লাহ ফিতরাত বলেন, “১৩০ বিলিয়ন আফগানির বেশি মূল্যের ৫৬২টি প্রকল্প অনুমোদন দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বিকাশ ও আত্মনির্ভরতার জন্য সবচেয়ে বড় ও কার্যকর উদ্যোগ।”
এদিকে, ইসলামিক আমিরাতের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, ২০২৫ সালে আফগানিস্তানের ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে। এ বছর ব্যাংকে জনগণের সঞ্চয় বৃদ্ধি পেয়েছে, ব্যাংকিং সম্পদ প্রায় ১৫ বিলিয়ন আফগানি, মুনাফা ৩.৪ বিলিয়ন আফগানি এবং মূলধন ৩ বিলিয়ন আফগানি বৃদ্ধি পেয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক দা আফগানিস্তান ব্যাংকের মুখপাত্র হাসিবুল্লাহ নুরি বলেন, “মুদ্রাস্ফীতির হার সহনীয় পর্যায়ে রাখা সম্ভব হয়েছে। ব্যাংকিং খাতে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার হয়েছে এবং জনগণের আমানতও বেড়েছে।”
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মৌলিক অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন, ব্যাংকিং সেবার সম্প্রসারণ এবং শিল্প ও দেশীয় উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও নাগরিকদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হবে।
অর্থনীতিবিদ আবদুল জহুর মাদাবার বলেন, “অবকাঠামো ও উন্নয়ন প্রকল্পে কাজের প্রতিটি উদ্যোগই আফগানিস্তানের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে।”
ইসলামিক আমিরাত ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই অর্থনীতিকেন্দ্রিক নীতির কথা ঘোষণা করে আসছে এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগের কথা বারবার উল্লেখ করছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, দারিদ্র্য ও বেকারত্ব এখনও বড় চ্যালেঞ্জ, যা চলতি বছরে সরকারকে গুরুত্বের সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে।
বিষয় : আফগানিস্তান

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ জানুয়ারি ২০২৬
আফগানিস্তানের ইসলামিক আমিরাত জানিয়েছে, ২০২৫ সালে দেশটির অর্থনৈতিক অগ্রগতির অংশ হিসেবে শত শত উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। জাতীয় ক্রয় কমিশনের মাধ্যমে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সরকারের দাবি, এতে অর্থনীতি, শিল্প ও ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা এসেছে।
ইসলামিক আমিরাত অব আফগানিস্তান জানিয়েছে, ২০২৫ সালে জাতীয় ক্রয় কমিশনের ৩৩টি বৈঠকে মোট ৫৬২টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যার মোট মূল্য ১৩০ দশমিক ৬ বিলিয়ন আফগানি।
ইসলামিক আমিরাতের উপ-প্রবক্তা হামদুল্লাহ ফিতরাত বলেন, এই উদ্যোগ দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও আত্মনির্ভরতার জন্য সবচেয়ে বড় পদক্ষেপগুলোর একটি। তার মতে, বর্তমানে আফগানিস্তানে ২৪টি খাতে দেশীয় উৎপাদন চালু রয়েছে এবং শিল্প খাতে বিনিয়োগের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি আরও জানান, তেল খাতে ৫৭টি মানদণ্ড ও পরীক্ষামূলক নির্দেশিকা অনুমোদন করা হয়েছে, যা জ্বালানি খাতে কাঠামোগত উন্নয়নের অংশ।
২০২৫ সালে অর্থনৈতিক কমিশনের বৈঠকে অনুমোদিত উল্লেখযোগ্য প্রকল্প ও নীতির মধ্যে রয়েছে—
হেরাতে “বাম-হেরাত” বিনোদন কমপ্লেক্স নির্মাণ পরিকল্পনা
জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার খসড়া
খনিজ খাত থেকে রাজস্ব আহরণ সংক্রান্ত নীতিমালা
গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক খাতে আত্মনির্ভরতা কৌশল
ইসলামিক আমিরাতের সামগ্রিক অর্থনৈতিক নীতি
কোল্ড স্টোরেজ বিনিয়োগকারীদের জন্য পাঁচ বছরের কর অব্যাহতির প্রস্তাব
হামদুল্লাহ ফিতরাত বলেন, “১৩০ বিলিয়ন আফগানির বেশি মূল্যের ৫৬২টি প্রকল্প অনুমোদন দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বিকাশ ও আত্মনির্ভরতার জন্য সবচেয়ে বড় ও কার্যকর উদ্যোগ।”
এদিকে, ইসলামিক আমিরাতের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, ২০২৫ সালে আফগানিস্তানের ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে। এ বছর ব্যাংকে জনগণের সঞ্চয় বৃদ্ধি পেয়েছে, ব্যাংকিং সম্পদ প্রায় ১৫ বিলিয়ন আফগানি, মুনাফা ৩.৪ বিলিয়ন আফগানি এবং মূলধন ৩ বিলিয়ন আফগানি বৃদ্ধি পেয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক দা আফগানিস্তান ব্যাংকের মুখপাত্র হাসিবুল্লাহ নুরি বলেন, “মুদ্রাস্ফীতির হার সহনীয় পর্যায়ে রাখা সম্ভব হয়েছে। ব্যাংকিং খাতে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার হয়েছে এবং জনগণের আমানতও বেড়েছে।”
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মৌলিক অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন, ব্যাংকিং সেবার সম্প্রসারণ এবং শিল্প ও দেশীয় উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও নাগরিকদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হবে।
অর্থনীতিবিদ আবদুল জহুর মাদাবার বলেন, “অবকাঠামো ও উন্নয়ন প্রকল্পে কাজের প্রতিটি উদ্যোগই আফগানিস্তানের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে।”
ইসলামিক আমিরাত ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই অর্থনীতিকেন্দ্রিক নীতির কথা ঘোষণা করে আসছে এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগের কথা বারবার উল্লেখ করছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, দারিদ্র্য ও বেকারত্ব এখনও বড় চ্যালেঞ্জ, যা চলতি বছরে সরকারকে গুরুত্বের সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন