রাজস্থানের জয়পুর জেলার চোমু শহরে একটি মসজিদসংলগ্ন বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ও পৌরসভার যৌথ অভিযানে মুসলিম মালিকানাধীন একাধিক দোকান ও স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়েছে। প্রশাসন একে ‘অবৈধ দখল উচ্ছেদ’ বললেও ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের অভিযোগ, নিরপেক্ষ বিচার ছাড়াই তাদের শাস্তির মুখে পড়তে হয়েছে। এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
বৃহস্পতিবার চোমু শহরের ইমাম চকে ভারী বুলডোজার নিয়ে অভিযান চালায় স্থানীয় প্রশাসন ও পৌর পরিষদের যৌথ দল। কয়েক দিন আগে একটি মসজিদের কাছে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে, যাতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। ওই ঘটনার পর দ্রুততার সঙ্গে পুলিশ মামলা দায়ের হয় এবং এর কিছুদিনের মধ্যেই শুরু হয় ভাঙচুর অভিযান।
প্রশাসনের দাবি, অভিযানে কেবলমাত্র অবৈধভাবে নির্মিত স্থাপনাগুলোকেই লক্ষ্য করা হয়েছে। তবে স্থানীয় মুসলিম বাসিন্দারা বলছেন, একই ধরনের নির্মাণ আশপাশের অন্যান্য এলাকায় থাকলেও সেগুলো অক্ষত রয়েছে, কেবল মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাতেই বুলডোজার চালানো হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত দোকানদার আবদুল রহমান বলেন,
“সবকিছু খুব দ্রুত ঘটেছে। নোটিশ দেওয়া হলো, তারপরই বুলডোজার চলে এল। এই দোকানেই আমার পরিবারের রুজি-রুটি চলত। এখন সব শেষ। অথচ পাশের অনেক দোকান এখনো দাঁড়িয়ে আছে।”
অভিযানের সময় এলাকায় বিপুল পুলিশ মোতায়েন করা হয়। ব্যারিকেড, ড্রোন ও সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে পুরো এলাকা নজরদারিতে রাখা হয়।
চোমু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রদীপ শর্মা জানান,
“আইনশৃঙ্খলা রক্ষা আমাদের দায়িত্ব। পৌরসভার চিহ্নিত দখলদারির বিরুদ্ধেই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নির্দোষ কাউকে হয়রানি করা হবে না।”
জয়পুর পশ্চিমের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার রাজেশ গুপ্ত বলেন,
“আগেই ১৯–২০টি নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। যারা দখল সরাননি, তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সাম্প্রতিক সহিংসতায় অভিযুক্তদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু স্থাপনাও এর আওতায় এসেছে।”
তবে স্থানীয় মুসলিমদের প্রশ্ন—সহিংসতার ঘটনার সঙ্গে দখল উচ্ছেদের এই দ্রুত সংযোগ কি আদৌ ন্যায়সংগত?
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ সালিম বলেন,
“এটা সম্মিলিত শাস্তির মতো মনে হচ্ছে। পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন। কিন্তু কেন সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি ও দোকান ভেঙে দেওয়া হচ্ছে?”
কমিউনিটির প্রবীণরাও একই প্রশ্ন তুলেছেন। স্থানীয় আলেম মাওলানা ইউসুফ বলেন,
“অবৈধ নির্মাণের অভিযোগ বহু বছর ধরেই ছিল। কিন্তু ব্যবস্থা নেওয়া হলো কেবল মসজিদসংলগ্ন ঘটনার পর। এতে মানুষ নিজেদের লক্ষ্যবস্তু মনে করছে। আইন সবার জন্য সমান হওয়া উচিত।”
প্রশাসন শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানালেও ধ্বংসস্তূপের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা পরিবারগুলোর মধ্যে অনিশ্চয়তা ও ভয় স্পষ্ট—আগামী দিনে তাদের ভবিষ্যৎ কী, সে প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা।
বিষয় : ভারত ইসলামফোবিয়া

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ জানুয়ারি ২০২৬
রাজস্থানের জয়পুর জেলার চোমু শহরে একটি মসজিদসংলগ্ন বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ও পৌরসভার যৌথ অভিযানে মুসলিম মালিকানাধীন একাধিক দোকান ও স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়েছে। প্রশাসন একে ‘অবৈধ দখল উচ্ছেদ’ বললেও ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের অভিযোগ, নিরপেক্ষ বিচার ছাড়াই তাদের শাস্তির মুখে পড়তে হয়েছে। এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
বৃহস্পতিবার চোমু শহরের ইমাম চকে ভারী বুলডোজার নিয়ে অভিযান চালায় স্থানীয় প্রশাসন ও পৌর পরিষদের যৌথ দল। কয়েক দিন আগে একটি মসজিদের কাছে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে, যাতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। ওই ঘটনার পর দ্রুততার সঙ্গে পুলিশ মামলা দায়ের হয় এবং এর কিছুদিনের মধ্যেই শুরু হয় ভাঙচুর অভিযান।
প্রশাসনের দাবি, অভিযানে কেবলমাত্র অবৈধভাবে নির্মিত স্থাপনাগুলোকেই লক্ষ্য করা হয়েছে। তবে স্থানীয় মুসলিম বাসিন্দারা বলছেন, একই ধরনের নির্মাণ আশপাশের অন্যান্য এলাকায় থাকলেও সেগুলো অক্ষত রয়েছে, কেবল মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাতেই বুলডোজার চালানো হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত দোকানদার আবদুল রহমান বলেন,
“সবকিছু খুব দ্রুত ঘটেছে। নোটিশ দেওয়া হলো, তারপরই বুলডোজার চলে এল। এই দোকানেই আমার পরিবারের রুজি-রুটি চলত। এখন সব শেষ। অথচ পাশের অনেক দোকান এখনো দাঁড়িয়ে আছে।”
অভিযানের সময় এলাকায় বিপুল পুলিশ মোতায়েন করা হয়। ব্যারিকেড, ড্রোন ও সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে পুরো এলাকা নজরদারিতে রাখা হয়।
চোমু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রদীপ শর্মা জানান,
“আইনশৃঙ্খলা রক্ষা আমাদের দায়িত্ব। পৌরসভার চিহ্নিত দখলদারির বিরুদ্ধেই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নির্দোষ কাউকে হয়রানি করা হবে না।”
জয়পুর পশ্চিমের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার রাজেশ গুপ্ত বলেন,
“আগেই ১৯–২০টি নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। যারা দখল সরাননি, তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সাম্প্রতিক সহিংসতায় অভিযুক্তদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু স্থাপনাও এর আওতায় এসেছে।”
তবে স্থানীয় মুসলিমদের প্রশ্ন—সহিংসতার ঘটনার সঙ্গে দখল উচ্ছেদের এই দ্রুত সংযোগ কি আদৌ ন্যায়সংগত?
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ সালিম বলেন,
“এটা সম্মিলিত শাস্তির মতো মনে হচ্ছে। পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন। কিন্তু কেন সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি ও দোকান ভেঙে দেওয়া হচ্ছে?”
কমিউনিটির প্রবীণরাও একই প্রশ্ন তুলেছেন। স্থানীয় আলেম মাওলানা ইউসুফ বলেন,
“অবৈধ নির্মাণের অভিযোগ বহু বছর ধরেই ছিল। কিন্তু ব্যবস্থা নেওয়া হলো কেবল মসজিদসংলগ্ন ঘটনার পর। এতে মানুষ নিজেদের লক্ষ্যবস্তু মনে করছে। আইন সবার জন্য সমান হওয়া উচিত।”
প্রশাসন শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানালেও ধ্বংসস্তূপের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা পরিবারগুলোর মধ্যে অনিশ্চয়তা ও ভয় স্পষ্ট—আগামী দিনে তাদের ভবিষ্যৎ কী, সে প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা।

আপনার মতামত লিখুন