বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কওমী টাইমস

বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) খসড়ায় মুসলিম-অধ্যুষিত জেলাগুলোতে ব্যাপক নাম বাদ পড়ার অভিযোগ

উত্তরপ্রদেশের ভোটার তালিকায় ব্যাপক কাটছাঁট: মুসলিম প্রধান এলাকায় প্রভাব বেশি


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ০৭ জানুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

উত্তরপ্রদেশের ভোটার তালিকায় ব্যাপক কাটছাঁট: মুসলিম প্রধান এলাকায় প্রভাব বেশি

ভারতের উত্তরপ্রদেশে প্রকাশিত বিশেষ নিবিড় সংশোধনী (SIR) খসড়া ভোটার তালিকা নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। নতুন তালিকায় রাজ্যজুড়ে প্রায় ২.৮৯ কোটি ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যার একটি বড় অংশ মুসলিম অধ্যুষিত জেলাগুলোর বাসিন্দা। বিরোধী দলগুলো একে পদ্ধতিগত বৈষম্য হিসেবে আখ্যা দিয়ে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

মঙ্গলবার উত্তরপ্রদেশ নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রকাশিত খসড়া তালিকা অনুযায়ী, সংশোধনের আগে রাজ্যে নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা ছিল ১৫.৪৪ কোটি। বর্তমানে ১৮ শতাংশ হ্রাস পেয়ে সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২.৫৫ কোটিতে। অর্থাৎ, প্রায় ২.৮৯ কোটি মানুষ ভোটাধিকারের তালিকা থেকে ছিটকে পড়েছেন।

তথ্যচিত্র ও পরিসংখ্যান

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, রাজধানী লক্ষ্ণৌতে সর্বোচ্চ ৩০.০৫ শতাংশ ভোটারের নাম কাটা গেছে (১২ লাখ ভোটার)। গাজিয়াবাদে ২৮.৮৩ শতাংশ এবং নেপাল সীমান্তবর্তী বলরামপুরে ২৫.৯৮ শতাংশ ভোটার তালিকাচ্যুত হয়েছেন। তবে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে মুসলিম প্রধান জেলাগুলোর পরিসংখ্যান।

মোরাদাবাদ: ৩,৮৭,৬২৮ জন (১৫.৭৬%) বাদ।

সাহারানপুর: ৪,৩২,৫৩৯ জন (১৬.৩৭%) বাদ।

মুজাফফরনগর: ৩,৪৪,২২২ জন (১৬.২৯%) বাদ।

রামপুর ও সাম্ভাল: উভয় জেলাতেই প্রায় ১৮.২৯ শতাংশ করে নাম বাদ পড়েছে।

এই জেলাগুলোতে মুসলিম জনসংখ্যা ৪০ থেকে ৫০ শতাংশের মধ্যে এবং এখানে মোট ২৮টি বিধানসভা আসন রয়েছে, যা রাজ্যের রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সমাজবাদী পার্টির নেতা ফখরুল হাসান চাঁদ এই ঘটনাকে 'বিহার মডেলের' পুনরাবৃত্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, "পিডিএ (অনগ্রসর, দলিত ও সংখ্যালঘু) ভোটারদের অধিকার রক্ষায় আমরা সজাগ আছি। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ভোটার কার্ডের সাথে আধার কার্ডের সংযোগ জরুরি।" বিরোধীদের আশঙ্কা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সংখ্যালঘু ভোটারদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়ে থাকতে পারে।

নির্বাচন কমিশনের ব্যাখ্যা

অভিযোগের জবাবে কমিশন জানিয়েছে, এটি একটি রুটিন প্রক্রিয়া। তাদের তথ্যমতে:

মৃত্যুর কারণে ৪৬.২৩ লাখ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।

অন্যত্র চলে যাওয়ায় ২.১৭ কোটি নাম বাদ পড়েছে।

দ্বৈত ভোটার হওয়ায় ২৫.৪৭ লাখ নাম মুছে ফেলা হয়েছে।

কমিশন আরও জানিয়েছে, এটি একটি খসড়া তালিকা। যাদের নাম ভুলবশত বাদ পড়েছে, তারা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আপিল করে পুনরায় তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন।

বিষয় : ভারত ভোটার

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


উত্তরপ্রদেশের ভোটার তালিকায় ব্যাপক কাটছাঁট: মুসলিম প্রধান এলাকায় প্রভাব বেশি

প্রকাশের তারিখ : ০৭ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

ভারতের উত্তরপ্রদেশে প্রকাশিত বিশেষ নিবিড় সংশোধনী (SIR) খসড়া ভোটার তালিকা নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। নতুন তালিকায় রাজ্যজুড়ে প্রায় ২.৮৯ কোটি ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যার একটি বড় অংশ মুসলিম অধ্যুষিত জেলাগুলোর বাসিন্দা। বিরোধী দলগুলো একে পদ্ধতিগত বৈষম্য হিসেবে আখ্যা দিয়ে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

মঙ্গলবার উত্তরপ্রদেশ নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রকাশিত খসড়া তালিকা অনুযায়ী, সংশোধনের আগে রাজ্যে নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা ছিল ১৫.৪৪ কোটি। বর্তমানে ১৮ শতাংশ হ্রাস পেয়ে সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২.৫৫ কোটিতে। অর্থাৎ, প্রায় ২.৮৯ কোটি মানুষ ভোটাধিকারের তালিকা থেকে ছিটকে পড়েছেন।

তথ্যচিত্র ও পরিসংখ্যান

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, রাজধানী লক্ষ্ণৌতে সর্বোচ্চ ৩০.০৫ শতাংশ ভোটারের নাম কাটা গেছে (১২ লাখ ভোটার)। গাজিয়াবাদে ২৮.৮৩ শতাংশ এবং নেপাল সীমান্তবর্তী বলরামপুরে ২৫.৯৮ শতাংশ ভোটার তালিকাচ্যুত হয়েছেন। তবে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে মুসলিম প্রধান জেলাগুলোর পরিসংখ্যান।

মোরাদাবাদ: ৩,৮৭,৬২৮ জন (১৫.৭৬%) বাদ।

সাহারানপুর: ৪,৩২,৫৩৯ জন (১৬.৩৭%) বাদ।

মুজাফফরনগর: ৩,৪৪,২২২ জন (১৬.২৯%) বাদ।

রামপুর ও সাম্ভাল: উভয় জেলাতেই প্রায় ১৮.২৯ শতাংশ করে নাম বাদ পড়েছে।

এই জেলাগুলোতে মুসলিম জনসংখ্যা ৪০ থেকে ৫০ শতাংশের মধ্যে এবং এখানে মোট ২৮টি বিধানসভা আসন রয়েছে, যা রাজ্যের রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সমাজবাদী পার্টির নেতা ফখরুল হাসান চাঁদ এই ঘটনাকে 'বিহার মডেলের' পুনরাবৃত্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, "পিডিএ (অনগ্রসর, দলিত ও সংখ্যালঘু) ভোটারদের অধিকার রক্ষায় আমরা সজাগ আছি। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ভোটার কার্ডের সাথে আধার কার্ডের সংযোগ জরুরি।" বিরোধীদের আশঙ্কা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সংখ্যালঘু ভোটারদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়ে থাকতে পারে।

নির্বাচন কমিশনের ব্যাখ্যা

অভিযোগের জবাবে কমিশন জানিয়েছে, এটি একটি রুটিন প্রক্রিয়া। তাদের তথ্যমতে:

মৃত্যুর কারণে ৪৬.২৩ লাখ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।

অন্যত্র চলে যাওয়ায় ২.১৭ কোটি নাম বাদ পড়েছে।

দ্বৈত ভোটার হওয়ায় ২৫.৪৭ লাখ নাম মুছে ফেলা হয়েছে।

কমিশন আরও জানিয়েছে, এটি একটি খসড়া তালিকা। যাদের নাম ভুলবশত বাদ পড়েছে, তারা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আপিল করে পুনরায় তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মুস্তাইন বিল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত