বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কওমী টাইমস

তপ্ত শীতে ঘরছাড়া ১২০০ মুসলিম পরিবার

আসামে উচ্ছেদ অভিযানে ধ্বংস ১,২০০-এর বেশি বাঙালি মুসলিমের ঘর


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

আসামে উচ্ছেদ অভিযানে ধ্বংস ১,২০০-এর বেশি বাঙালি মুসলিমের ঘর

ভারতের আসাম রাজ্যে তীব্র শীতের মধ্যেই বড় ধরনের উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে হিমন্ত বিশ্ব শর্মার প্রশাসন। সোনিতপুর জেলার বুরহাচাপুরি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে পরিচালিত এই অভিযানে গত দুই দিনে প্রায় ১,২০০ বাঙালি মুসলিম পরিবারের ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। উচ্ছেদ হওয়া মানুষগুলো খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

আসামের সোনিতপুর জেলায় বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য দখলমুক্ত করার অজুহাতে গত ৫ ও ৬ জানুয়ারি ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান চালায় স্থানীয় প্রশাসন। সরকারি সূত্র মতে, সোনিতপুর জেলার তেজপুর সদর এবং ঢেকিয়াজুলি রাজস্ব সার্কেলের অন্তর্গত প্রায় ৬৫০ হেক্টর জমি থেকে এই উচ্ছেদ সম্পন্ন করা হয়েছে।

উচ্ছেদকৃত এলাকার মধ্যে রয়েছে জামুকতোল, অরিমানি, শিয়ালচর, বাঘেটাপু, গলাতিডুবি, লাঠিমারি, কুন্ডুলিচর, পূর্ব দুবরামারি এবং বাতুলিচর। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই এলাকাগুলো বুরহাচাপুরি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের অংশ এবং এখানে অবৈধভাবে বসতি স্থাপন ও চাষাবাদ করা হচ্ছিল।

সোনিতপুর জেলা কমিশনার আনন্দ কুমার দাস জানান, দখলদাররা শীতের অজুহাতে উচ্ছেদ পেছানোর অনুরোধ করলেও বনভূমি রক্ষায় কোনো ছাড় দেওয়া হয়নি। যদিও অনেক বাসিন্দা উচ্ছেদ শুরু হওয়ার আগেই নিজেদের ঘরবাড়ি ভেঙে এলাকা ত্যাগ করেছিলেন, কিন্তু ফসলি জমি এবং তীব্র শীতের কারণে অনেকেই থেকে গিয়েছিলেন।

ভুক্তভোগীদের দাবি, তারা কয়েক দশক ধরে এই অঞ্চলে বসবাস করছেন। তাদের পূর্বপুরুষরা ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে সবকিছু হারিয়ে এই চরাঞ্চলে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তাদের কাছে বৈধ নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাদের ওপর এই নিপিড়ন চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

উল্লেখ্য যে, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই আসামে এ ধরনের উচ্ছেদ অভিযান নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা দাবি করেছেন, তার সরকার এ পর্যন্ত প্রায় ১.৫ লাখ বিঘা জমি দখলমুক্ত করেছে। তবে মানবাধিকার কর্মীদের মতে, এই অভিযানের মূল লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে বাংলাভাষী মুসলিম জনগোষ্ঠী।

বিষয় : ভারত আসাম

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


আসামে উচ্ছেদ অভিযানে ধ্বংস ১,২০০-এর বেশি বাঙালি মুসলিমের ঘর

প্রকাশের তারিখ : ০৯ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

ভারতের আসাম রাজ্যে তীব্র শীতের মধ্যেই বড় ধরনের উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে হিমন্ত বিশ্ব শর্মার প্রশাসন। সোনিতপুর জেলার বুরহাচাপুরি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে পরিচালিত এই অভিযানে গত দুই দিনে প্রায় ১,২০০ বাঙালি মুসলিম পরিবারের ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। উচ্ছেদ হওয়া মানুষগুলো খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

আসামের সোনিতপুর জেলায় বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য দখলমুক্ত করার অজুহাতে গত ৫ ও ৬ জানুয়ারি ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান চালায় স্থানীয় প্রশাসন। সরকারি সূত্র মতে, সোনিতপুর জেলার তেজপুর সদর এবং ঢেকিয়াজুলি রাজস্ব সার্কেলের অন্তর্গত প্রায় ৬৫০ হেক্টর জমি থেকে এই উচ্ছেদ সম্পন্ন করা হয়েছে।

উচ্ছেদকৃত এলাকার মধ্যে রয়েছে জামুকতোল, অরিমানি, শিয়ালচর, বাঘেটাপু, গলাতিডুবি, লাঠিমারি, কুন্ডুলিচর, পূর্ব দুবরামারি এবং বাতুলিচর। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই এলাকাগুলো বুরহাচাপুরি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের অংশ এবং এখানে অবৈধভাবে বসতি স্থাপন ও চাষাবাদ করা হচ্ছিল।

সোনিতপুর জেলা কমিশনার আনন্দ কুমার দাস জানান, দখলদাররা শীতের অজুহাতে উচ্ছেদ পেছানোর অনুরোধ করলেও বনভূমি রক্ষায় কোনো ছাড় দেওয়া হয়নি। যদিও অনেক বাসিন্দা উচ্ছেদ শুরু হওয়ার আগেই নিজেদের ঘরবাড়ি ভেঙে এলাকা ত্যাগ করেছিলেন, কিন্তু ফসলি জমি এবং তীব্র শীতের কারণে অনেকেই থেকে গিয়েছিলেন।

ভুক্তভোগীদের দাবি, তারা কয়েক দশক ধরে এই অঞ্চলে বসবাস করছেন। তাদের পূর্বপুরুষরা ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে সবকিছু হারিয়ে এই চরাঞ্চলে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তাদের কাছে বৈধ নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাদের ওপর এই নিপিড়ন চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

উল্লেখ্য যে, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই আসামে এ ধরনের উচ্ছেদ অভিযান নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা দাবি করেছেন, তার সরকার এ পর্যন্ত প্রায় ১.৫ লাখ বিঘা জমি দখলমুক্ত করেছে। তবে মানবাধিকার কর্মীদের মতে, এই অভিযানের মূল লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে বাংলাভাষী মুসলিম জনগোষ্ঠী।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মুস্তাইন বিল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত