বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কওমী টাইমস

ধর্মীয় আইন, ওয়াক্‌ফ আইন ও মানবিক মূল্যবোধ লঙ্ঘনের অভিযোগ

আহমেদাবাদে পুরনো কবরস্থান উচ্ছেদের নোটিশ: মুসলিম সম্প্রদায়ের ক্ষোভ ও উদ্বেগ


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

আহমেদাবাদে পুরনো কবরস্থান উচ্ছেদের নোটিশ: মুসলিম সম্প্রদায়ের ক্ষোভ ও উদ্বেগ

গুজরাটের আহমেদাবাদ শহরের গোমতিপুর এলাকায় অবস্থিত ঐতিহাসিক চার তোড়া কবরস্থান থেকে ৩০০–এর বেশি কবর সরানোর নোটিশ ঘিরে মুসলিম সমাজে তীব্র ক্ষোভ ও শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।

আহমেদাবাদ মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন (AMC) রাস্তা প্রশস্তকরণের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নিতে চাইছে।

স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি ও ওয়াক্‌ফ কর্তৃপক্ষ একে ধর্মীয় অনুভূতি ও আইন লঙ্ঘনের শামিল বলে অভিহিত করেছেন।

বিষয়টি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সংখ্যালঘু অধিকার নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।

গুজরাটের আহমেদাবাদের গোমতিপুর এলাকায় অবস্থিত শতাব্দীপ্রাচীন চার তোড়া কবরস্থান ঘিরে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। আহমেদাবাদ মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন ২৫ ডিসেম্বর জারি করা এক নোটিশে জানায়, ‘রোড ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান (RDP)’ অনুযায়ী ৩০.৫০ মিটার চওড়া রাস্তা নির্মাণের জন্য কবরস্থানের সীমানা প্রাচীরসহ ৩০০–এর বেশি কবর সরাতে হবে।

এই নোটিশ স্থানীয় মুসলিম বাসিন্দাদের মধ্যে গভীর শোক, আতঙ্ক ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। তাঁদের দাবি, ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী একবার দাফন সম্পন্ন হলে কবর সরানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। একই সঙ্গে এটি ওয়াক্‌ফ আইন ও গুজরাট হাইকোর্টের নির্দেশনার পরিপন্থী।

চার তোড়া কবরস্থান কেবল একটি দাফনস্থল নয়, বরং পূর্ব আহমেদাবাদের মুসলিম ইতিহাস ও উত্তরাধিকারের প্রতীক। কবরস্থানের ভেতরে অবস্থিত ‘দাদি মাই কা রোজা’ নামের দরগাটি প্রায় ৬০০ বছরের পুরোনো বলে স্থানীয়দের বিশ্বাস। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মুসলিম পরিবারগুলোর আত্মীয়স্বজন এখানে দাফন হয়ে আসছেন।

গোমতিপুর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জুলফিকার খান পাঠান এই উদ্যোগের তীব্র বিরোধিতা করে বলেন,

“ইসলামে কবর সরানোর কোনো বিধান নেই। উন্নয়ন হোক, কিন্তু তা যেন ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত না করে এবং মৃতদের শান্তি নষ্ট না করে।”

তিনি আরও জানান, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে গুজরাট হাইকোর্ট স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল— কবরস্থানের ভেতরে কোনো ধরনের ভাঙচুর বা উচ্ছেদ করা যাবে না।

এছাড়া এই জমি ওয়াক্‌ফ আইনের আওতায় সুরক্ষিত, যা হস্তান্তর বা দখলের সুযোগ রাখে না।

পাঠানের ভাষ্যমতে, গত বছর RDP প্রকল্পে গোমতিপুরে ভাঙচুর শুরু হলেও কাজ কবরস্থানের প্রাচীরের কাছে এসে থেমে যায়। হঠাৎ করেই সম্প্রতি সুন্নি মুসলিম ওয়াক্‌ফ কমিটিকে নোটিশ পাঠানো হয়, যেখানে ধর্মীয় দায়িত্বের কথা উল্লেখ করে কবর সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

নোটিশের পর তিনি পূর্বাঞ্চলের ডেপুটি মিউনিসিপ্যাল কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করেন।

“আমরা পরিষ্কার বলেছি— শরিয়াহ অনুযায়ী কবর সরানো যাবে না। উন্নয়ন করুন, কিন্তু কবরস্থানের জমি দখল করবেন না,” বলেন পাঠান।

কর্তৃপক্ষ আইনি প্রক্রিয়া মেনে চলার আশ্বাস দিলেও উদ্বেগ কাটেনি।

কবরস্থানে স্বজনদের দাফন থাকা পরিবারগুলোর জন্য এই নোটিশ পুরোনো ক্ষত নতুন করে খুলে দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আয়ুব ভাই জানান, তাঁর বাবা ১৯৯৭ সালে এখানে দাফন হন।

“আমার চাচা, পরিবারের প্রবীণরাও এখানে শায়িত। আমাদের পারিবারিক ইতিহাস এই কবরস্থানে,” বলেন তিনি।

“উন্নয়নের বিরুদ্ধে নই, কিন্তু কবর সরিয়ে নয়।”

আরেক বাসিন্দা সালিমভাই ঘানি বলেন,

“১৯৯৬ সাল থেকে আমার বাবার কবর এখানে। শরিয়াহ অনুমতি দেয় না কবর সরাতে। আমরা চাই, কবরগুলো যেখানে আছে সেখানেই থাকুক।”

বিরোধী দলগুলো বিষয়টিকে ‘নৈতিক সীমালঙ্ঘন’ বলে আখ্যা দিয়েছে।

বিরোধীদলীয় নেতা শাহজাদ খান পাঠান বলেন,

“একদিকে মানুষের ঘরবাড়ি ভাঙা হচ্ছে, আর মৃত্যুর পরও মানুষকে শান্তিতে থাকতে দেওয়া হচ্ছে না— এর চেয়ে লজ্জাজনক কিছু হতে পারে না।”

তাঁর অভিযোগ, RDP-এর আওতায় একাধিক কবরস্থানে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

“এই ক্ষেত্রে ২৮৩টি কবর ও একটি ৬০০ বছরের পুরোনো দরগা সরানোর কথা বলা হচ্ছে, যা মুসলিম ইতিহাস ও অনুভূতির চরম অবমাননা।”

কংগ্রেস কাউন্সিলর ও স্থানীয় বাসিন্দারা যৌথভাবে মিউনিসিপ্যাল কমিশনারের কাছে প্রস্তাব জমা দিয়ে নোটিশ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। প্রস্তাবে স্পষ্ট বলা হয়েছে, কবর সরানো হলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

যদিও কমিশনার ‘ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নেওয়ার’ আশ্বাস দিয়েছেন, তবুও মুসলিম এলাকাগুলোতে অতীতের ভাঙচুর অভিযান মানুষের মনে গভীর ভয় সৃষ্টি করেছে।

কংগ্রেস বিজেপি ও করপোরেশনের বিরুদ্ধে ধর্মীয় ইস্যু উসকে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে। এক কংগ্রেস নেতা বলেন,

“পানি, ড্রেনেজ, রাস্তার মতো মৌলিক সমস্যা ছেড়ে করপোরেশন মন্দির, মসজিদ, কবরস্থান নিয়েই ব্যস্ত।”

গোমতিপুরের কাউন্সিলর ইকবাল শেখ জানান, চার তোড়া কবরস্থান প্রায় ১,০৭,০০০ বর্গমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এবং এটি আহমেদাবাদ সুন্নি মুসলিম ওয়াক্‌ফ কমিটির তত্ত্বাবধানে রয়েছে।

“১৯৪৪ সালে ব্রিটিশ শাসনামলে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে কবরস্থান হিসেবে চিহ্নিত হয়,” বলেন তিনি।

তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন,

“এএমসি এখনো শহরে একটি কবরস্থানও বরাদ্দ দেয়নি। তাহলে বৈধ ও ঐতিহাসিক মুসলিম কবরস্থানকেই কেন টার্গেট করা হচ্ছে?”

ওয়াক্‌ফ কমিটি জানিয়েছে, কবরস্থান রক্ষায় তারা সব ধরনের আইনি পথ অবলম্বন করছে।

গুজরাট ওয়াক্‌ফ বোর্ডও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এবং জমিটি ওয়াক্‌ফ আইনে সুরক্ষিত বলে নিশ্চিত করেছে।

আহমেদাবাদের বহু মুসলিমের কাছে এটি কেবল রাস্তার প্রকল্প নয়; বরং মুসলিম স্থাপনাগুলোকে সহজ লক্ষ্যবস্তু বানানোর আরেকটি উদাহরণ।

বাসিন্দাদের ভাষায়— উন্নয়ন মানে ধর্ম, ইতিহাস ও মৃতদের প্রতি অসম্মান হতে পারে না।

করপোরেশনের নির্ধারিত সময়সীমা যত ঘনিয়ে আসছে, ততই ভারী মন নিয়ে মানুষ কবরস্থানে যাচ্ছেন।

বাবার কবরের পাশে দাঁড়িয়ে আয়ুব ভাই নীরবে বলেন,

“আজ আমরা বেঁচে আছি, কাল আমরাও কোথাও শায়িত হব। যদি কবরও নিরাপদ না থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?”

আগামী দিনগুলোই বলে দেবে— প্রশাসন এই কণ্ঠস্বর শুনবে, নাকি এমন এক সিদ্ধান্ত নেবে যা বহু ভারতীয় মুসলিমের কাছে চরম অন্যায় ও বেদনাদায়ক বলে বিবেচিত হবে।

বিষয় : ভারত গুজরাট কবরস্থান

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


আহমেদাবাদে পুরনো কবরস্থান উচ্ছেদের নোটিশ: মুসলিম সম্প্রদায়ের ক্ষোভ ও উদ্বেগ

প্রকাশের তারিখ : ০৯ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

গুজরাটের আহমেদাবাদ শহরের গোমতিপুর এলাকায় অবস্থিত ঐতিহাসিক চার তোড়া কবরস্থান থেকে ৩০০–এর বেশি কবর সরানোর নোটিশ ঘিরে মুসলিম সমাজে তীব্র ক্ষোভ ও শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।

আহমেদাবাদ মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন (AMC) রাস্তা প্রশস্তকরণের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নিতে চাইছে।

স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি ও ওয়াক্‌ফ কর্তৃপক্ষ একে ধর্মীয় অনুভূতি ও আইন লঙ্ঘনের শামিল বলে অভিহিত করেছেন।

বিষয়টি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সংখ্যালঘু অধিকার নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।

গুজরাটের আহমেদাবাদের গোমতিপুর এলাকায় অবস্থিত শতাব্দীপ্রাচীন চার তোড়া কবরস্থান ঘিরে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। আহমেদাবাদ মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন ২৫ ডিসেম্বর জারি করা এক নোটিশে জানায়, ‘রোড ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান (RDP)’ অনুযায়ী ৩০.৫০ মিটার চওড়া রাস্তা নির্মাণের জন্য কবরস্থানের সীমানা প্রাচীরসহ ৩০০–এর বেশি কবর সরাতে হবে।

এই নোটিশ স্থানীয় মুসলিম বাসিন্দাদের মধ্যে গভীর শোক, আতঙ্ক ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। তাঁদের দাবি, ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী একবার দাফন সম্পন্ন হলে কবর সরানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। একই সঙ্গে এটি ওয়াক্‌ফ আইন ও গুজরাট হাইকোর্টের নির্দেশনার পরিপন্থী।

চার তোড়া কবরস্থান কেবল একটি দাফনস্থল নয়, বরং পূর্ব আহমেদাবাদের মুসলিম ইতিহাস ও উত্তরাধিকারের প্রতীক। কবরস্থানের ভেতরে অবস্থিত ‘দাদি মাই কা রোজা’ নামের দরগাটি প্রায় ৬০০ বছরের পুরোনো বলে স্থানীয়দের বিশ্বাস। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মুসলিম পরিবারগুলোর আত্মীয়স্বজন এখানে দাফন হয়ে আসছেন।

গোমতিপুর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জুলফিকার খান পাঠান এই উদ্যোগের তীব্র বিরোধিতা করে বলেন,

“ইসলামে কবর সরানোর কোনো বিধান নেই। উন্নয়ন হোক, কিন্তু তা যেন ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত না করে এবং মৃতদের শান্তি নষ্ট না করে।”

তিনি আরও জানান, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে গুজরাট হাইকোর্ট স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল— কবরস্থানের ভেতরে কোনো ধরনের ভাঙচুর বা উচ্ছেদ করা যাবে না।

এছাড়া এই জমি ওয়াক্‌ফ আইনের আওতায় সুরক্ষিত, যা হস্তান্তর বা দখলের সুযোগ রাখে না।

পাঠানের ভাষ্যমতে, গত বছর RDP প্রকল্পে গোমতিপুরে ভাঙচুর শুরু হলেও কাজ কবরস্থানের প্রাচীরের কাছে এসে থেমে যায়। হঠাৎ করেই সম্প্রতি সুন্নি মুসলিম ওয়াক্‌ফ কমিটিকে নোটিশ পাঠানো হয়, যেখানে ধর্মীয় দায়িত্বের কথা উল্লেখ করে কবর সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

নোটিশের পর তিনি পূর্বাঞ্চলের ডেপুটি মিউনিসিপ্যাল কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করেন।

“আমরা পরিষ্কার বলেছি— শরিয়াহ অনুযায়ী কবর সরানো যাবে না। উন্নয়ন করুন, কিন্তু কবরস্থানের জমি দখল করবেন না,” বলেন পাঠান।

কর্তৃপক্ষ আইনি প্রক্রিয়া মেনে চলার আশ্বাস দিলেও উদ্বেগ কাটেনি।

কবরস্থানে স্বজনদের দাফন থাকা পরিবারগুলোর জন্য এই নোটিশ পুরোনো ক্ষত নতুন করে খুলে দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আয়ুব ভাই জানান, তাঁর বাবা ১৯৯৭ সালে এখানে দাফন হন।

“আমার চাচা, পরিবারের প্রবীণরাও এখানে শায়িত। আমাদের পারিবারিক ইতিহাস এই কবরস্থানে,” বলেন তিনি।

“উন্নয়নের বিরুদ্ধে নই, কিন্তু কবর সরিয়ে নয়।”

আরেক বাসিন্দা সালিমভাই ঘানি বলেন,

“১৯৯৬ সাল থেকে আমার বাবার কবর এখানে। শরিয়াহ অনুমতি দেয় না কবর সরাতে। আমরা চাই, কবরগুলো যেখানে আছে সেখানেই থাকুক।”

বিরোধী দলগুলো বিষয়টিকে ‘নৈতিক সীমালঙ্ঘন’ বলে আখ্যা দিয়েছে।

বিরোধীদলীয় নেতা শাহজাদ খান পাঠান বলেন,

“একদিকে মানুষের ঘরবাড়ি ভাঙা হচ্ছে, আর মৃত্যুর পরও মানুষকে শান্তিতে থাকতে দেওয়া হচ্ছে না— এর চেয়ে লজ্জাজনক কিছু হতে পারে না।”

তাঁর অভিযোগ, RDP-এর আওতায় একাধিক কবরস্থানে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

“এই ক্ষেত্রে ২৮৩টি কবর ও একটি ৬০০ বছরের পুরোনো দরগা সরানোর কথা বলা হচ্ছে, যা মুসলিম ইতিহাস ও অনুভূতির চরম অবমাননা।”

কংগ্রেস কাউন্সিলর ও স্থানীয় বাসিন্দারা যৌথভাবে মিউনিসিপ্যাল কমিশনারের কাছে প্রস্তাব জমা দিয়ে নোটিশ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। প্রস্তাবে স্পষ্ট বলা হয়েছে, কবর সরানো হলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

যদিও কমিশনার ‘ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নেওয়ার’ আশ্বাস দিয়েছেন, তবুও মুসলিম এলাকাগুলোতে অতীতের ভাঙচুর অভিযান মানুষের মনে গভীর ভয় সৃষ্টি করেছে।

কংগ্রেস বিজেপি ও করপোরেশনের বিরুদ্ধে ধর্মীয় ইস্যু উসকে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে। এক কংগ্রেস নেতা বলেন,

“পানি, ড্রেনেজ, রাস্তার মতো মৌলিক সমস্যা ছেড়ে করপোরেশন মন্দির, মসজিদ, কবরস্থান নিয়েই ব্যস্ত।”

গোমতিপুরের কাউন্সিলর ইকবাল শেখ জানান, চার তোড়া কবরস্থান প্রায় ১,০৭,০০০ বর্গমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এবং এটি আহমেদাবাদ সুন্নি মুসলিম ওয়াক্‌ফ কমিটির তত্ত্বাবধানে রয়েছে।

“১৯৪৪ সালে ব্রিটিশ শাসনামলে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে কবরস্থান হিসেবে চিহ্নিত হয়,” বলেন তিনি।

তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন,

“এএমসি এখনো শহরে একটি কবরস্থানও বরাদ্দ দেয়নি। তাহলে বৈধ ও ঐতিহাসিক মুসলিম কবরস্থানকেই কেন টার্গেট করা হচ্ছে?”

ওয়াক্‌ফ কমিটি জানিয়েছে, কবরস্থান রক্ষায় তারা সব ধরনের আইনি পথ অবলম্বন করছে।

গুজরাট ওয়াক্‌ফ বোর্ডও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এবং জমিটি ওয়াক্‌ফ আইনে সুরক্ষিত বলে নিশ্চিত করেছে।

আহমেদাবাদের বহু মুসলিমের কাছে এটি কেবল রাস্তার প্রকল্প নয়; বরং মুসলিম স্থাপনাগুলোকে সহজ লক্ষ্যবস্তু বানানোর আরেকটি উদাহরণ।

বাসিন্দাদের ভাষায়— উন্নয়ন মানে ধর্ম, ইতিহাস ও মৃতদের প্রতি অসম্মান হতে পারে না।

করপোরেশনের নির্ধারিত সময়সীমা যত ঘনিয়ে আসছে, ততই ভারী মন নিয়ে মানুষ কবরস্থানে যাচ্ছেন।

বাবার কবরের পাশে দাঁড়িয়ে আয়ুব ভাই নীরবে বলেন,

“আজ আমরা বেঁচে আছি, কাল আমরাও কোথাও শায়িত হব। যদি কবরও নিরাপদ না থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?”

আগামী দিনগুলোই বলে দেবে— প্রশাসন এই কণ্ঠস্বর শুনবে, নাকি এমন এক সিদ্ধান্ত নেবে যা বহু ভারতীয় মুসলিমের কাছে চরম অন্যায় ও বেদনাদায়ক বলে বিবেচিত হবে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মুস্তাইন বিল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত