বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কওমী টাইমস

উন্নত ড্রোন প্রযুক্তি ও সারফেস-টু-এয়ার মিসাইলের সফল পরীক্ষার মাধ্যমে সমুদ্রসীমায় সক্ষমতা প্রদর্শন

আরব সাগরে সফলভাবে সারফেস-টু-এয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করল পাকিস্তান নৌবাহিনী


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ১০ জানুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

আরব সাগরে সফলভাবে সারফেস-টু-এয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করল পাকিস্তান নৌবাহিনী

উত্তর আরব সাগরে একটি বিস্তৃত সামরিক মহড়ার মাধ্যমে সারফেস-টু-এয়ার ক্ষেপণাস্ত্রের সফল লাইভ ফায়ার পরীক্ষা চালিয়েছে পাকিস্তান নৌবাহিনী। আধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা, লয়টারিং মিউনিশন ও মানববিহীন নৌযান ব্যবহারের মাধ্যমে নৌবাহিনীর যুদ্ধপ্রস্তুতি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।

পাকিস্তান নৌবাহিনী উত্তর আরব সাগরে একটি “সমন্বিত ও বিস্তৃত সামরিক মহড়া” পরিচালনা করে সফলভাবে সারফেস-টু-এয়ার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে। শনিবার দেশটির সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করে।

আইএসপিআর জানায়, পরিবর্তনশীল নৌযুদ্ধ কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিচালিত এই মহড়ার মাধ্যমে পাকিস্তান নৌবাহিনী তাদের অপারেশনাল প্রস্তুতি, যুদ্ধ সক্ষমতা এবং প্রচলিত ও মানববিহীন প্রযুক্তির সমন্বিত ব্যবহারের দক্ষতা প্রদর্শন করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, মহড়ার অংশ হিসেবে ভের্টিক্যাল লঞ্চিং সিস্টেম থেকে LY-80 (N) মডেলের সারফেস-টু-এয়ার ক্ষেপণাস্ত্র দীর্ঘ পাল্লায় সফলভাবে নিক্ষেপ করা হয়। এই লাইভ ফায়ার পরীক্ষার মাধ্যমে পাকিস্তান নৌবাহিনীর আধুনিক দীর্ঘ-পাল্লার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাই ও নিশ্চিত করা হয়েছে।

আইএসপিআর জানায়, ক্ষেপণাস্ত্রটি নির্ধারিত আকাশ লক্ষ্যবস্তুকে সফলভাবে শনাক্ত, আঘাত ও নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম হয়, যা নৌবাহিনীর শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতার সুস্পষ্ট প্রমাণ।

মহড়ায় আরও অন্তর্ভুক্ত ছিল লয়টারিং মিউনিশন ব্যবহার করে সমুদ্রপৃষ্ঠের লক্ষ্যবস্তুর ওপর সফল আঘাত হানা। আইএসপিআর জানায়, এই অস্ত্রব্যবস্থা নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করে পাকিস্তান নৌবাহিনীর প্রিসিশন স্ট্রাইক বা নিখুঁত হামলা সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে।

এছাড়া মহড়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে মানববিহীন সারফেস ভেসেল (Unmanned Surface Vessel – USV)-এর সফল ওপেন-সি ট্রায়াল সম্পন্ন করা হয়। এই পরীক্ষাকে স্বায়ত্তশাসিত নৌপ্রযুক্তিতে পাকিস্তান নৌবাহিনীর জন্য একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেছে আইএসপিআর।

বিবৃতিতে বলা হয়, এই মানববিহীন নৌযানটি উচ্চগতির পারফরম্যান্সের পাশাপাশি মিশন-গুরুত্বপূর্ণ স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে সক্ষম। পরীক্ষায় নৌযানটির চরম গতিশীলতা, নির্ভুল নেভিগেশন ক্ষমতা এবং প্রতিকূল আবহাওয়ায় কার্যক্ষমতা সফলভাবে যাচাই করা হয়।

আইএসপিআর আরও জানায়, এই ধরনের মানববিহীন সারফেস ভেসেল কম ঝুঁকিতে উচ্চ কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে পারে এবং একটি ট্যাকটিক্যাল ইন্টারসেপ্টরের মতো গোপনীয়তা ও কৌশলগত সুবিধা প্রদান করে।

মহড়াটি প্রত্যক্ষ করেন পাকিস্তান নৌবহরের কমান্ডার। এতে নৌবাহিনীর উন্নত সামরিক ব্যবস্থা ব্যবহারের সক্ষমতা স্পষ্টভাবে উঠে আসে। মহড়া শেষে পাকিস্তান নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল নাভিদ আশরাফ অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তা ও সদস্যদের পেশাদারিত্ব এবং অপারেশনাল দক্ষতার জন্য প্রশংসা করেন।

তিনি সব পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের সমুদ্রসীমা রক্ষা এবং জাতীয় সামুদ্রিক স্বার্থ সংরক্ষণের ব্যাপারে পাকিস্তান নৌবাহিনীর অটল অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

বিষয় : পাকিস্তান

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


আরব সাগরে সফলভাবে সারফেস-টু-এয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করল পাকিস্তান নৌবাহিনী

প্রকাশের তারিখ : ১০ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

উত্তর আরব সাগরে একটি বিস্তৃত সামরিক মহড়ার মাধ্যমে সারফেস-টু-এয়ার ক্ষেপণাস্ত্রের সফল লাইভ ফায়ার পরীক্ষা চালিয়েছে পাকিস্তান নৌবাহিনী। আধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা, লয়টারিং মিউনিশন ও মানববিহীন নৌযান ব্যবহারের মাধ্যমে নৌবাহিনীর যুদ্ধপ্রস্তুতি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।

পাকিস্তান নৌবাহিনী উত্তর আরব সাগরে একটি “সমন্বিত ও বিস্তৃত সামরিক মহড়া” পরিচালনা করে সফলভাবে সারফেস-টু-এয়ার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে। শনিবার দেশটির সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করে।

আইএসপিআর জানায়, পরিবর্তনশীল নৌযুদ্ধ কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিচালিত এই মহড়ার মাধ্যমে পাকিস্তান নৌবাহিনী তাদের অপারেশনাল প্রস্তুতি, যুদ্ধ সক্ষমতা এবং প্রচলিত ও মানববিহীন প্রযুক্তির সমন্বিত ব্যবহারের দক্ষতা প্রদর্শন করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, মহড়ার অংশ হিসেবে ভের্টিক্যাল লঞ্চিং সিস্টেম থেকে LY-80 (N) মডেলের সারফেস-টু-এয়ার ক্ষেপণাস্ত্র দীর্ঘ পাল্লায় সফলভাবে নিক্ষেপ করা হয়। এই লাইভ ফায়ার পরীক্ষার মাধ্যমে পাকিস্তান নৌবাহিনীর আধুনিক দীর্ঘ-পাল্লার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাই ও নিশ্চিত করা হয়েছে।

আইএসপিআর জানায়, ক্ষেপণাস্ত্রটি নির্ধারিত আকাশ লক্ষ্যবস্তুকে সফলভাবে শনাক্ত, আঘাত ও নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম হয়, যা নৌবাহিনীর শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতার সুস্পষ্ট প্রমাণ।

মহড়ায় আরও অন্তর্ভুক্ত ছিল লয়টারিং মিউনিশন ব্যবহার করে সমুদ্রপৃষ্ঠের লক্ষ্যবস্তুর ওপর সফল আঘাত হানা। আইএসপিআর জানায়, এই অস্ত্রব্যবস্থা নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করে পাকিস্তান নৌবাহিনীর প্রিসিশন স্ট্রাইক বা নিখুঁত হামলা সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে।

এছাড়া মহড়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে মানববিহীন সারফেস ভেসেল (Unmanned Surface Vessel – USV)-এর সফল ওপেন-সি ট্রায়াল সম্পন্ন করা হয়। এই পরীক্ষাকে স্বায়ত্তশাসিত নৌপ্রযুক্তিতে পাকিস্তান নৌবাহিনীর জন্য একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেছে আইএসপিআর।

বিবৃতিতে বলা হয়, এই মানববিহীন নৌযানটি উচ্চগতির পারফরম্যান্সের পাশাপাশি মিশন-গুরুত্বপূর্ণ স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে সক্ষম। পরীক্ষায় নৌযানটির চরম গতিশীলতা, নির্ভুল নেভিগেশন ক্ষমতা এবং প্রতিকূল আবহাওয়ায় কার্যক্ষমতা সফলভাবে যাচাই করা হয়।

আইএসপিআর আরও জানায়, এই ধরনের মানববিহীন সারফেস ভেসেল কম ঝুঁকিতে উচ্চ কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে পারে এবং একটি ট্যাকটিক্যাল ইন্টারসেপ্টরের মতো গোপনীয়তা ও কৌশলগত সুবিধা প্রদান করে।

মহড়াটি প্রত্যক্ষ করেন পাকিস্তান নৌবহরের কমান্ডার। এতে নৌবাহিনীর উন্নত সামরিক ব্যবস্থা ব্যবহারের সক্ষমতা স্পষ্টভাবে উঠে আসে। মহড়া শেষে পাকিস্তান নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল নাভিদ আশরাফ অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তা ও সদস্যদের পেশাদারিত্ব এবং অপারেশনাল দক্ষতার জন্য প্রশংসা করেন।

তিনি সব পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের সমুদ্রসীমা রক্ষা এবং জাতীয় সামুদ্রিক স্বার্থ সংরক্ষণের ব্যাপারে পাকিস্তান নৌবাহিনীর অটল অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মুস্তাইন বিল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত