বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কওমী টাইমস

২০২৫ সালে আল-আকসা ও ইব্রাহিমি মসজিদে নজিরবিহীন ধর্মীয় বিধিনিষেধ ও উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী

২০২৫ সালে মসজিদুল আকসায় ২৮০ বার হামলা ও ইব্রাহিমি মসজিদে ৭৬৯ বার আজান বন্ধ


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

২০২৫ সালে মসজিদুল আকসায় ২৮০ বার হামলা ও ইব্রাহিমি মসজিদে ৭৬৯ বার আজান বন্ধ

ফিলিস্তিনের ওয়াক্ফ ও ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রকাশিত ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে দখলদার ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই বছরে মসজিদুল আকসায় ২৮০ বার হামলা চালানো হয়েছে এবং হেবরনের হেরাম আল-ইব্রাহিমি মসজিদে ৭৬৯ বার আজান দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনাগুলোকে আন্তর্জাতিক আইন ও ধর্মীয় স্বাধীনতার চরম লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফিলিস্তিন ওয়াক্ফ ও ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালে ইসরায়েলি দখলদার বসতি স্থাপনকারী ও চরমপন্থীরা ইসরায়েলি পুলিশ ও সেনাবাহিনীর পূর্ণ নিরাপত্তায় মসজিদুল আকসা প্রাঙ্গণে অন্তত ২৮০ বার অনুপ্রবেশ ও হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার সময় প্রকাশ্যে তালমুদিক আচার-অনুষ্ঠান পালন করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আকসা প্রাঙ্গণে সিজদা, শোফার (ধর্মীয় শিঙা) বাজানো, বিশেষ ধর্মীয় পোশাকে দলবদ্ধ প্রার্থনা এবং নির্দিষ্ট সময় ও স্থানে ইবাদতের মাধ্যমে বাস্তবিক সময় ও স্থানভিত্তিক বিভাজন চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানায়, এসব অনুপ্রবেশের সময় জেরুজালেম ইসলামিক ওয়াক্ফ প্রশাসনের অধীন আকসা প্রহরীদের দায়িত্ব পালনে পরিকল্পিতভাবে বাধা দেওয়া হয়। বিশেষ করে ইহুদি ধর্মীয় উৎসব ও পবিত্র রমজান মাসে উসকানিমূলক হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির একাধিক সংসদ সদস্যসহ তথাকথিত “জেরুজালেম দিবস”-এ মসজিদুল আকসায় প্রবেশ করে ভেতরে “কোহেনদের আশীর্বাদ” নামক ধর্মীয় আচার পালন করেন, যা রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে একটি বিপজ্জনক নজির স্থাপন করেছে।

ইব্রাহিমি মসজিদে লঙ্ঘন

হেবরনের হেরাম আল-ইব্রাহিমি মসজিদে ২০২৫ সালে ৭৬৯ বার আজান দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়। মুসল্লিদের প্রবেশ সীমিত করা, নির্দিষ্ট সময়ে মসজিদ বন্ধ রাখা এবং ধর্মীয় উৎসবে মসজিদ ওয়াক্ফ প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানানোর ঘটনাও নথিভুক্ত করা হয়েছে।

মসজিদের ভেতরে ইসরায়েলি পতাকা টানানো, শামদান স্থাপন এবং দখলকৃত অংশে উচ্চ শব্দে অনুষ্ঠান ও তালমুদিক প্রার্থনা আয়োজনের অভিযোগও প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে মসজিদ প্রাঙ্গণকে কেন্দ্র করে একটি “অধিগ্রহণ (ইস্তিমলাক)” সিদ্ধান্ত জারি করা হয়।

ইরান–ইসরায়েল উত্তেজনা ও ইহুদি ধর্মীয় উৎসবকে অজুহাত দেখিয়ে মসজিদটি মোট ২৩ দিন বন্ধ রাখা হয়। বছরের শুরু থেকে মসজিদের পূর্ব ফটক এখনো বন্ধ রয়েছে।

প্রতিবেদন স্মরণ করিয়ে দেয়, ১৯৯৪ সালে এক ইহুদি চরমপন্থীর হামলায় ২৯ জন ফিলিস্তিনি মুসল্লি নিহত হওয়ার পর মসজিদটির ৬৩ শতাংশ ইহুদিদের এবং ৩৭ শতাংশ মুসলমানদের জন্য বরাদ্দ করা হয়। আজানের কক্ষটি দখলকৃত অংশে থাকায় আজান বন্ধের ঘটনা নিয়মিত ঘটছে।

অন্যান্য ধর্মীয় স্থাপনায় হামলা

২০২৫ সালে পশ্চিম তীর ও জেরুজালেমে কমপক্ষে ৪৫টি মসজিদ আংশিকভাবে ধ্বংস বা হামলার শিকার হয়েছে। খ্রিস্টানদের ক্ষেত্রেও জেরুজালেমের চার্চ অব দ্য হোলি সেপালকারে “হোলি স্যাটারডে”-তে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয় এবং তীর্থযাত্রীদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়।

ফিলিস্তিনিরা অভিযোগ করছে, দখলদার ইসরায়েল পূর্ব জেরুজালেমকে ইহুদিকরণ নীতির অংশ হিসেবে শহরটির আরব ও ইসলামি পরিচয় মুছে দেওয়ার চেষ্টা জোরদার করেছে। তারা আন্তর্জাতিক বৈধতা ও জাতিসংঘের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

বিষয় : ফিলিস্তিন

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


২০২৫ সালে মসজিদুল আকসায় ২৮০ বার হামলা ও ইব্রাহিমি মসজিদে ৭৬৯ বার আজান বন্ধ

প্রকাশের তারিখ : ১৪ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

ফিলিস্তিনের ওয়াক্ফ ও ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রকাশিত ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে দখলদার ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই বছরে মসজিদুল আকসায় ২৮০ বার হামলা চালানো হয়েছে এবং হেবরনের হেরাম আল-ইব্রাহিমি মসজিদে ৭৬৯ বার আজান দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনাগুলোকে আন্তর্জাতিক আইন ও ধর্মীয় স্বাধীনতার চরম লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফিলিস্তিন ওয়াক্ফ ও ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালে ইসরায়েলি দখলদার বসতি স্থাপনকারী ও চরমপন্থীরা ইসরায়েলি পুলিশ ও সেনাবাহিনীর পূর্ণ নিরাপত্তায় মসজিদুল আকসা প্রাঙ্গণে অন্তত ২৮০ বার অনুপ্রবেশ ও হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার সময় প্রকাশ্যে তালমুদিক আচার-অনুষ্ঠান পালন করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আকসা প্রাঙ্গণে সিজদা, শোফার (ধর্মীয় শিঙা) বাজানো, বিশেষ ধর্মীয় পোশাকে দলবদ্ধ প্রার্থনা এবং নির্দিষ্ট সময় ও স্থানে ইবাদতের মাধ্যমে বাস্তবিক সময় ও স্থানভিত্তিক বিভাজন চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানায়, এসব অনুপ্রবেশের সময় জেরুজালেম ইসলামিক ওয়াক্ফ প্রশাসনের অধীন আকসা প্রহরীদের দায়িত্ব পালনে পরিকল্পিতভাবে বাধা দেওয়া হয়। বিশেষ করে ইহুদি ধর্মীয় উৎসব ও পবিত্র রমজান মাসে উসকানিমূলক হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির একাধিক সংসদ সদস্যসহ তথাকথিত “জেরুজালেম দিবস”-এ মসজিদুল আকসায় প্রবেশ করে ভেতরে “কোহেনদের আশীর্বাদ” নামক ধর্মীয় আচার পালন করেন, যা রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে একটি বিপজ্জনক নজির স্থাপন করেছে।

ইব্রাহিমি মসজিদে লঙ্ঘন

হেবরনের হেরাম আল-ইব্রাহিমি মসজিদে ২০২৫ সালে ৭৬৯ বার আজান দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়। মুসল্লিদের প্রবেশ সীমিত করা, নির্দিষ্ট সময়ে মসজিদ বন্ধ রাখা এবং ধর্মীয় উৎসবে মসজিদ ওয়াক্ফ প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানানোর ঘটনাও নথিভুক্ত করা হয়েছে।

মসজিদের ভেতরে ইসরায়েলি পতাকা টানানো, শামদান স্থাপন এবং দখলকৃত অংশে উচ্চ শব্দে অনুষ্ঠান ও তালমুদিক প্রার্থনা আয়োজনের অভিযোগও প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে মসজিদ প্রাঙ্গণকে কেন্দ্র করে একটি “অধিগ্রহণ (ইস্তিমলাক)” সিদ্ধান্ত জারি করা হয়।

ইরান–ইসরায়েল উত্তেজনা ও ইহুদি ধর্মীয় উৎসবকে অজুহাত দেখিয়ে মসজিদটি মোট ২৩ দিন বন্ধ রাখা হয়। বছরের শুরু থেকে মসজিদের পূর্ব ফটক এখনো বন্ধ রয়েছে।

প্রতিবেদন স্মরণ করিয়ে দেয়, ১৯৯৪ সালে এক ইহুদি চরমপন্থীর হামলায় ২৯ জন ফিলিস্তিনি মুসল্লি নিহত হওয়ার পর মসজিদটির ৬৩ শতাংশ ইহুদিদের এবং ৩৭ শতাংশ মুসলমানদের জন্য বরাদ্দ করা হয়। আজানের কক্ষটি দখলকৃত অংশে থাকায় আজান বন্ধের ঘটনা নিয়মিত ঘটছে।

অন্যান্য ধর্মীয় স্থাপনায় হামলা

২০২৫ সালে পশ্চিম তীর ও জেরুজালেমে কমপক্ষে ৪৫টি মসজিদ আংশিকভাবে ধ্বংস বা হামলার শিকার হয়েছে। খ্রিস্টানদের ক্ষেত্রেও জেরুজালেমের চার্চ অব দ্য হোলি সেপালকারে “হোলি স্যাটারডে”-তে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয় এবং তীর্থযাত্রীদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়।

ফিলিস্তিনিরা অভিযোগ করছে, দখলদার ইসরায়েল পূর্ব জেরুজালেমকে ইহুদিকরণ নীতির অংশ হিসেবে শহরটির আরব ও ইসলামি পরিচয় মুছে দেওয়ার চেষ্টা জোরদার করেছে। তারা আন্তর্জাতিক বৈধতা ও জাতিসংঘের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মুস্তাইন বিল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত