ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের হরিদ্বারে অবস্থিত হিন্দুদের অন্যতম পবিত্র তীর্থস্থান 'হর কি পৌরি'-তে তথাকথিত 'সৌদি শেখ' সেজে ভিডিও তৈরি করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর দায়ে দুই হিন্দু যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। স্রেফ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিউ এবং লাইক পাওয়ার উদ্দেশ্যে তারা এই ছদ্মবেশ ধারণ করেছিল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরুতে মুসলিম সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে ব্যাপক ঘৃণা ও অপপ্রচার ছড়ানো হলেও পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপে আসল সত্য উন্মোচিত হয়েছে।
গত মঙ্গলবার হরিদ্বারের পবিত্র গঙ্গা ঘাটে আরবীয় ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে দুই ব্যক্তিকে ঘুরে বেড়াতে এবং ভিডিও রেকর্ড করতে দেখা যায়। তারা নিজেদের সৌদি আরবের নাগরিক ও 'শেখ' হিসেবে পরিচয় দিচ্ছিল। এই ভিডিওগুলো দ্রুত ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে হিন্দু ধর্মীয় নেতাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। অনেকেই একে তীর্থস্থানের "পবিত্রতা নষ্ট" এবং "ইসলামী অনুপ্রবেশ" হিসেবে দাবি করে মুসলিমদের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রদান শুরু করেন।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে হরিদ্বারের সিনিয়র পুলিশ সুপারের নির্দেশে কোতোয়ালি নগর থানার একটি বিশেষ দল তদন্ত শুরু করে। সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রযুক্তিগত তথ্যের সহায়তায় পুলিশ সিডকুল এলাকার রাউলি মাহদুদ থেকে অভিযুক্তদের আটক করে। তদন্তে দেখা যায়, আটককৃতরা হলেন নবীন কুমার এবং প্রিন্স—যারা দুজনেই স্থানীয় হিন্দু যুবক।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছে যে, তারা একটি ইউটিউব চ্যানেল চালায় এবং শুধুমাত্র ভিউ বাড়ানোর জন্য তারা এই ছদ্মবেশ ধারণ করেছিল। এর আগে বিভিন্ন শপিং মলে একই কায়দায় ভিডিও করে জনপ্রিয়তা পাওয়ায় তারা এবার স্পর্শকাতর ধর্মীয় স্থানকে বেছে নেয়। অভিযুক্তরা তাদের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চেয়ে জানিয়েছে যে, এর ফলে কোনো সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগতে পারে তা তারা ভাবেনি।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই স্রেফ পোশাক দেখে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে মুসলিমদের গালাগাল করা হয়েছে এবং ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করা হয়েছে। পুলিশ জনসাধারণকে এই ধরণের বিভ্রান্তিকর তথ্য শেয়ার না করার আহ্বান জানিয়েছে এবং সতর্ক করেছে যে সামাজিক শান্তি বিঘ্নিত করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিষয় : ভারত

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের হরিদ্বারে অবস্থিত হিন্দুদের অন্যতম পবিত্র তীর্থস্থান 'হর কি পৌরি'-তে তথাকথিত 'সৌদি শেখ' সেজে ভিডিও তৈরি করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর দায়ে দুই হিন্দু যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। স্রেফ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিউ এবং লাইক পাওয়ার উদ্দেশ্যে তারা এই ছদ্মবেশ ধারণ করেছিল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরুতে মুসলিম সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে ব্যাপক ঘৃণা ও অপপ্রচার ছড়ানো হলেও পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপে আসল সত্য উন্মোচিত হয়েছে।
গত মঙ্গলবার হরিদ্বারের পবিত্র গঙ্গা ঘাটে আরবীয় ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে দুই ব্যক্তিকে ঘুরে বেড়াতে এবং ভিডিও রেকর্ড করতে দেখা যায়। তারা নিজেদের সৌদি আরবের নাগরিক ও 'শেখ' হিসেবে পরিচয় দিচ্ছিল। এই ভিডিওগুলো দ্রুত ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে হিন্দু ধর্মীয় নেতাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। অনেকেই একে তীর্থস্থানের "পবিত্রতা নষ্ট" এবং "ইসলামী অনুপ্রবেশ" হিসেবে দাবি করে মুসলিমদের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রদান শুরু করেন।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে হরিদ্বারের সিনিয়র পুলিশ সুপারের নির্দেশে কোতোয়ালি নগর থানার একটি বিশেষ দল তদন্ত শুরু করে। সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রযুক্তিগত তথ্যের সহায়তায় পুলিশ সিডকুল এলাকার রাউলি মাহদুদ থেকে অভিযুক্তদের আটক করে। তদন্তে দেখা যায়, আটককৃতরা হলেন নবীন কুমার এবং প্রিন্স—যারা দুজনেই স্থানীয় হিন্দু যুবক।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছে যে, তারা একটি ইউটিউব চ্যানেল চালায় এবং শুধুমাত্র ভিউ বাড়ানোর জন্য তারা এই ছদ্মবেশ ধারণ করেছিল। এর আগে বিভিন্ন শপিং মলে একই কায়দায় ভিডিও করে জনপ্রিয়তা পাওয়ায় তারা এবার স্পর্শকাতর ধর্মীয় স্থানকে বেছে নেয়। অভিযুক্তরা তাদের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চেয়ে জানিয়েছে যে, এর ফলে কোনো সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগতে পারে তা তারা ভাবেনি।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই স্রেফ পোশাক দেখে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে মুসলিমদের গালাগাল করা হয়েছে এবং ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করা হয়েছে। পুলিশ জনসাধারণকে এই ধরণের বিভ্রান্তিকর তথ্য শেয়ার না করার আহ্বান জানিয়েছে এবং সতর্ক করেছে যে সামাজিক শান্তি বিঘ্নিত করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন