বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কওমী টাইমস

ট্যাংক ও ভারী অস্ত্র পরিবহনে সক্ষম এই ল্যান্ডিং ক্রাফটগুলো উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় রাখবে যুগান্তকারী ভূমিকা

খুলনা শিপইয়ার্ডে ৩টি অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ শুরু: নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে নতুন মাইলফলক


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

খুলনা শিপইয়ার্ডে ৩টি অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ শুরু: নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে নতুন মাইলফলক

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর আধুনিকায়ন এবং নৌবহরের ত্রিমাত্রিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড (খুশিলি) ৩টি ল্যান্ডিং ক্রাফট ট্যাংক (এলসিটি) নির্মাণ করবে।

এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার নৌবাহিনীর নিজস্ব সক্ষমতায় খুলনা শিপইয়ার্ডে নির্মিত এলসিটি-১০১ এর লঞ্চিং উদ্বোধন করেন নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান। অনুষ্ঠানে সামরিক ও অসামরিক বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

নির্মাণাধীন এলসিটিগুলো উপকূলীয় অঞ্চলে সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর সমন্বিত এম্ফিবিয়াস অপারেশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এসব জাহাজের মাধ্যমে ট্যাংক, আর্টিলারি, এপিসিসহ ভারী সামরিক সরঞ্জাম পরিবহণ সম্ভব হবে। পাশাপাশি শান্তিকালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, মানবিক সহায়তা ও উদ্ধার অভিযানে এসব এলসিটি কার্যকর সহায়ক হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

নৌবাহিনী পরিচালিত খুলনা শিপইয়ার্ডে নিজস্ব কারিগরি সক্ষমতার পাশাপাশি কানাডার ভার্ড মেরিন ডিজাইন এর প্রযুক্তিগত সহায়তায় এলসিটিগুলো নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রতিটি এলসিটি একসঙ্গে ৬টি ট্যাংক, অথবা ১২টি এপিসি, কিংবা ১৮টি সামরিক যান বহনে সক্ষম। এসব জাহাজ নৌবাহিনীর অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের প্রতিরক্ষা শিল্প ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হবে।

রূপসা নদীর তীরে অবস্থিত খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড বাংলাদেশের একটি শীর্ষস্থানীয় রাষ্ট্রায়ত্ত জাহাজ নির্মাণ ও মেরামতকারী প্রতিষ্ঠান। ১৯৫৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি ১৯৯৯ সালে আর্থিক সংকটগ্রস্ত অবস্থায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নিকট হস্তান্তরের মাধ্যমে নতুন করে যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে খুশিলি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বাণিজ্যিক ও যুদ্ধজাহাজ নির্মাণে দেশি-বিদেশি অঙ্গনে সুপরিচিত।

জাহাজ নির্মাণের পাশাপাশি বিভিন্ন জাতীয় অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে খুলনা শিপইয়ার্ড গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। উৎপাদনের ক্ষেত্রে ISO নির্দেশনা অনুসরণ এবং আন্তর্জাতিক ক্লাসিফিকেশন সোসাইটি BV, DNV-GL, NKK, CCS, LR, RINA, ABS-এর তত্ত্বাবধানে গুণগতমান নিয়ন্ত্রণ ও নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়।

আন্তর্জাতিক মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, প্রায় ৭০০ কোটি টাকা বার্ষিক টার্নওভার, বছরে ৩ হাজার টন স্টিলওয়ার্ক সক্ষমতা এবং ৮০০-এর বেশি জলযান নির্মাণের অভিজ্ঞতা নিয়ে খুলনা শিপইয়ার্ড আজ বাংলাদেশের শিল্প খাতে একটি শক্তিশালী ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে। এছাড়া নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় কর্তৃক ‘গ্রীন ফ্যাক্টরি অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’ অর্জন করেছে। পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার ও সবুজায়নের মাধ্যমে ইকো-ফ্রেন্ডলি শিল্প প্রতিষ্ঠান হিসেবে এটি স্বীকৃতি লাভ করেছে।

বিষয় : বাংলাদেশ নৌবাহিনী

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


খুলনা শিপইয়ার্ডে ৩টি অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ শুরু: নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে নতুন মাইলফলক

প্রকাশের তারিখ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর আধুনিকায়ন এবং নৌবহরের ত্রিমাত্রিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড (খুশিলি) ৩টি ল্যান্ডিং ক্রাফট ট্যাংক (এলসিটি) নির্মাণ করবে।

এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার নৌবাহিনীর নিজস্ব সক্ষমতায় খুলনা শিপইয়ার্ডে নির্মিত এলসিটি-১০১ এর লঞ্চিং উদ্বোধন করেন নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান। অনুষ্ঠানে সামরিক ও অসামরিক বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

নির্মাণাধীন এলসিটিগুলো উপকূলীয় অঞ্চলে সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর সমন্বিত এম্ফিবিয়াস অপারেশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এসব জাহাজের মাধ্যমে ট্যাংক, আর্টিলারি, এপিসিসহ ভারী সামরিক সরঞ্জাম পরিবহণ সম্ভব হবে। পাশাপাশি শান্তিকালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, মানবিক সহায়তা ও উদ্ধার অভিযানে এসব এলসিটি কার্যকর সহায়ক হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

নৌবাহিনী পরিচালিত খুলনা শিপইয়ার্ডে নিজস্ব কারিগরি সক্ষমতার পাশাপাশি কানাডার ভার্ড মেরিন ডিজাইন এর প্রযুক্তিগত সহায়তায় এলসিটিগুলো নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রতিটি এলসিটি একসঙ্গে ৬টি ট্যাংক, অথবা ১২টি এপিসি, কিংবা ১৮টি সামরিক যান বহনে সক্ষম। এসব জাহাজ নৌবাহিনীর অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের প্রতিরক্ষা শিল্প ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হবে।

রূপসা নদীর তীরে অবস্থিত খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড বাংলাদেশের একটি শীর্ষস্থানীয় রাষ্ট্রায়ত্ত জাহাজ নির্মাণ ও মেরামতকারী প্রতিষ্ঠান। ১৯৫৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি ১৯৯৯ সালে আর্থিক সংকটগ্রস্ত অবস্থায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নিকট হস্তান্তরের মাধ্যমে নতুন করে যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে খুশিলি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বাণিজ্যিক ও যুদ্ধজাহাজ নির্মাণে দেশি-বিদেশি অঙ্গনে সুপরিচিত।

জাহাজ নির্মাণের পাশাপাশি বিভিন্ন জাতীয় অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে খুলনা শিপইয়ার্ড গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। উৎপাদনের ক্ষেত্রে ISO নির্দেশনা অনুসরণ এবং আন্তর্জাতিক ক্লাসিফিকেশন সোসাইটি BV, DNV-GL, NKK, CCS, LR, RINA, ABS-এর তত্ত্বাবধানে গুণগতমান নিয়ন্ত্রণ ও নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়।

আন্তর্জাতিক মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, প্রায় ৭০০ কোটি টাকা বার্ষিক টার্নওভার, বছরে ৩ হাজার টন স্টিলওয়ার্ক সক্ষমতা এবং ৮০০-এর বেশি জলযান নির্মাণের অভিজ্ঞতা নিয়ে খুলনা শিপইয়ার্ড আজ বাংলাদেশের শিল্প খাতে একটি শক্তিশালী ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে। এছাড়া নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় কর্তৃক ‘গ্রীন ফ্যাক্টরি অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’ অর্জন করেছে। পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার ও সবুজায়নের মাধ্যমে ইকো-ফ্রেন্ডলি শিল্প প্রতিষ্ঠান হিসেবে এটি স্বীকৃতি লাভ করেছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মুস্তাইন বিল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত