বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কওমী টাইমস

আফগানিস্তানে দল ও মতের বিভাজন শেষ হয়েছে এবং জাতীয় ঐক্যই বর্তমান সরকারের মূল ভিত্তি

পূর্ব বা পশ্চিম কারো ওপর নির্ভরশীল নয় ইসলামিক আমিরাত: সীমান্তে বিষয়ক উপমন্ত্রী


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

পূর্ব বা পশ্চিম কারো ওপর নির্ভরশীল নয় ইসলামিক আমিরাত: সীমান্তে বিষয়ক উপমন্ত্রী

আফগানিস্তানের বর্তমান সরকার কোনো বিদেশি শক্তির প্রভাবে নয়, বরং সম্পূর্ণ স্বাধীন নীতিতে পরিচালিত হচ্ছে বলে দাবি করেছেন দেশটির সীমান্ত ও উপজাতি বিষয়ক উপমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী জান আহমদ। কাবুলে আয়োজিত এক জনসমাবেশে তিনি স্পষ্ট করেন যে, ধর্মীয় আদর্শ ও রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে তারা পূর্ব বা পশ্চিম—কোনো বলয়ের ওপরই নির্ভরশীল নন।

আফগানিস্তানের সীমান্ত ও উপজাতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে কাবুলে "জাতীয় ঐক্য, ইসলামী ব্যবস্থার টিকে থাকা এবং জনকল্যাণ" শীর্ষক একটি বিশেষ জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে বর্তমান সরকারের নীতি এবং দেশের অভ্যন্তরীণ ঐক্য নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

উপমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী জান আহমদ তার বক্তব্যে বলেন, "বর্তমান ইসলামিক আমিরাত তার নীতি নির্ধারণে সম্পূর্ণ স্বাধীন। পূর্ব এবং পশ্চিমের দেশগুলো আমাদের ধর্মীয় বিশ্বাস, জিহাদ এবং আদর্শগত অবস্থানের বিরোধী। ইসলামিক কিংবা অ-ইসলামিক বিশ্ব—কেউই আফগানিস্তানের বর্তমান ব্যবস্থাকে পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছে না, তবুও আমরা কারো তোয়াজ করছি না।"

অনুষ্ঠানে ইসলামিক আমিরাতের উপ-মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত বলেন, বর্তমান ব্যবস্থার প্রধান লক্ষ্য হলো জনগণের মধ্যে ইস্পাতকঠিন ঐক্য নিশ্চিত করা। তিনি দাবি করেন, আফগানিস্তানে জোর-জবরদস্তি এবং মানুষকে বিভিন্ন দল বা উপদলে বিভক্ত করার রাজনীতি এখন অতীত। তিনি আরও বলেন, "এখন আর কোনো দলীয় বিভাজন নেই। জাতিগত, ভাষাগত বা আঞ্চলিক পরিচয় দিয়ে এখন আর আফগানদের আলাদা করা যায় না; আমরা সবাই এখন ঐক্যবদ্ধ।"

সমাবেশে উপস্থিত বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা সরকারের প্রতি তাদের সমর্থন ব্যক্ত করেন। তবে একই সাথে তারা যোগ্যতার ভিত্তিতে কর্মসংস্থানের ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানান। মোহাম্মদ নাসির তরাখাইল নামে এক অংশগ্রহণকারী বলেন, "আমিরাতের ভেতরে এবং বাইরে অনেক যোগ্য ব্যক্তি রয়েছেন। রাষ্ট্রের দায়িত্বগুলো যেন উপযুক্ত এবং দক্ষ ব্যক্তিদের হাতে তুলে দেওয়া হয়, সেই প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।"

উল্লেখ্য, জাতীয় ঐক্য এবং পারস্পরিক সহমর্মিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশটির সীমান্ত ও উপজাতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় গত কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন প্রদেশে এ ধরনের জনসমাবেশ করে আসছে।

বিষয় : আফগানিস্তান

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


পূর্ব বা পশ্চিম কারো ওপর নির্ভরশীল নয় ইসলামিক আমিরাত: সীমান্তে বিষয়ক উপমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

আফগানিস্তানের বর্তমান সরকার কোনো বিদেশি শক্তির প্রভাবে নয়, বরং সম্পূর্ণ স্বাধীন নীতিতে পরিচালিত হচ্ছে বলে দাবি করেছেন দেশটির সীমান্ত ও উপজাতি বিষয়ক উপমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী জান আহমদ। কাবুলে আয়োজিত এক জনসমাবেশে তিনি স্পষ্ট করেন যে, ধর্মীয় আদর্শ ও রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে তারা পূর্ব বা পশ্চিম—কোনো বলয়ের ওপরই নির্ভরশীল নন।

আফগানিস্তানের সীমান্ত ও উপজাতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে কাবুলে "জাতীয় ঐক্য, ইসলামী ব্যবস্থার টিকে থাকা এবং জনকল্যাণ" শীর্ষক একটি বিশেষ জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে বর্তমান সরকারের নীতি এবং দেশের অভ্যন্তরীণ ঐক্য নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

উপমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী জান আহমদ তার বক্তব্যে বলেন, "বর্তমান ইসলামিক আমিরাত তার নীতি নির্ধারণে সম্পূর্ণ স্বাধীন। পূর্ব এবং পশ্চিমের দেশগুলো আমাদের ধর্মীয় বিশ্বাস, জিহাদ এবং আদর্শগত অবস্থানের বিরোধী। ইসলামিক কিংবা অ-ইসলামিক বিশ্ব—কেউই আফগানিস্তানের বর্তমান ব্যবস্থাকে পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছে না, তবুও আমরা কারো তোয়াজ করছি না।"

অনুষ্ঠানে ইসলামিক আমিরাতের উপ-মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত বলেন, বর্তমান ব্যবস্থার প্রধান লক্ষ্য হলো জনগণের মধ্যে ইস্পাতকঠিন ঐক্য নিশ্চিত করা। তিনি দাবি করেন, আফগানিস্তানে জোর-জবরদস্তি এবং মানুষকে বিভিন্ন দল বা উপদলে বিভক্ত করার রাজনীতি এখন অতীত। তিনি আরও বলেন, "এখন আর কোনো দলীয় বিভাজন নেই। জাতিগত, ভাষাগত বা আঞ্চলিক পরিচয় দিয়ে এখন আর আফগানদের আলাদা করা যায় না; আমরা সবাই এখন ঐক্যবদ্ধ।"

সমাবেশে উপস্থিত বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা সরকারের প্রতি তাদের সমর্থন ব্যক্ত করেন। তবে একই সাথে তারা যোগ্যতার ভিত্তিতে কর্মসংস্থানের ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানান। মোহাম্মদ নাসির তরাখাইল নামে এক অংশগ্রহণকারী বলেন, "আমিরাতের ভেতরে এবং বাইরে অনেক যোগ্য ব্যক্তি রয়েছেন। রাষ্ট্রের দায়িত্বগুলো যেন উপযুক্ত এবং দক্ষ ব্যক্তিদের হাতে তুলে দেওয়া হয়, সেই প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।"

উল্লেখ্য, জাতীয় ঐক্য এবং পারস্পরিক সহমর্মিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশটির সীমান্ত ও উপজাতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় গত কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন প্রদেশে এ ধরনের জনসমাবেশ করে আসছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মুস্তাইন বিল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত