বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কওমী টাইমস

আইসিইর বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভের মধ্যেই নতুন উত্তেজনা

মুসলিমবি'দ্বেষী সমাবেশে কুর'আন পোড়ানোর চেষ্টা; পিটুনি খেয়ে পলায়ন


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

মুসলিমবি'দ্বেষী সমাবেশে কুর'আন পোড়ানোর চেষ্টা; পিটুনি খেয়ে পলায়ন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিস শহরে মুসলিমবিদ্বেষী একটি ছোট দলের সমাবেশে পবিত্র কুরআন পোড়ানোর চেষ্টা ঘিরে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনার নেতৃত্ব দেন ৬ জানুয়ারি কংগ্রেস ভবনে হামলার ঘটনায় দণ্ডপ্রাপ্ত ও পরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমাপ্রাপ্ত জেক ল্যাং। আইসিইবির বিতর্কিত অভিযানের পর ইতোমধ্যে উত্তপ্ত শহরে এই ঘটনা নতুন করে সংঘাতের জন্ম দেয়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিস শহর আবারও উত্তেজনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) শহরের সিটি হলের সামনে একটি ছোট মুসলিমবিদ্বেষী দল পবিত্র কুরআন পোড়ানোর চেষ্টা করলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এই উসকানিমূলক কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন জেক ল্যাং—যিনি ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি মার্কিন কংগ্রেস ভবনে হামলার ঘটনায় দণ্ডপ্রাপ্ত ছিলেন এবং পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে ক্ষমা পান।

ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটে, যখন মিনিয়াপোলিস ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE)–এর বিতর্কিত অভিযানের কারণে উত্তাল ছিল। ৭ জানুয়ারি ICE এজেন্টদের গুলিতে এক মার্কিন নারী নাগরিক নিহত হওয়ার পর থেকে শহরজুড়ে আইসিইবির বিরুদ্ধে ধারাবাহিক বিক্ষোভ চলছিল। এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশের মধ্যেই জেক ল্যাং প্রকাশ্যে কুরআন পোড়ানোর ঘোষণা দেন।

ল্যাং তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (টুইটার)-এ লিখেছিলেন, “সোমালিদের ‘দখলের’ বিরুদ্ধে এবং কংগ্রেস সদস্যা ইলহান ওমরের অবিলম্বে বহিষ্কার ও গভর্নর টিম ওয়ালজের গ্রেপ্তারের দাবিতে আমি মিনিয়াপোলিসে কুরআন পোড়াব।” তার এই পোস্টকে উসকানিমূলক ও ঘৃণামূলক বলে ব্যাপক সমালোচনা করা হয়।

ল্যাং ও তার সঙ্গীরা সিটি হলের সামনে সমাবেশ শুরু করলে আইসিইবির বিরুদ্ধে আন্দোলনরত স্থানীয় বিক্ষোভকারীরা তীব্র প্রতিবাদ জানান। দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কি হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ক্ষুব্ধ জনতার চাপে ল্যাং কিছুটা লাঞ্ছিত হন এবং এক পর্যায়ে একটি গাড়িতে উঠে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।

মার্কিন গণমাধ্যমের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ল্যাংয়ের এই কুরআন পোড়ানোর প্রচেষ্টা এমন এক সময়ে করা হয়েছে, যখন শহরটি ইতোমধ্যে আইসিইবির কর্মকাণ্ডের কারণে উত্তেজিত—যা পরিস্থিতিকে আরও উসকে দিয়েছে এবং অপ্রয়োজনীয় সংঘাত বাড়িয়েছে।

উল্লেখ্য, এটি ল্যাংয়ের প্রথম এমন প্রচেষ্টা নয়। ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর তিনি মিশিগানের ডিয়ারবর্ন শহরে—যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ মুসলিম জনগোষ্ঠী বসবাস করে—কুরআন পোড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন, যা তখনও তীব্র নিন্দার মুখে পড়ে।

এদিকে, মিনিয়াপোলিসে আইসিই এজেন্টের গুলিতে এক নারী নিহত হওয়ার পর শুরু হওয়া আইসিইবির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘ইনসারেকশন অ্যাক্ট’ (বিদ্রোহ দমন আইন) প্রয়োগের হুমকি সত্ত্বেও স্থানীয় আন্দোলনকারীরা রাজপথ ছাড়েননি।

বিষয় : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কুরআন

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


মুসলিমবি'দ্বেষী সমাবেশে কুর'আন পোড়ানোর চেষ্টা; পিটুনি খেয়ে পলায়ন

প্রকাশের তারিখ : ২০ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিস শহরে মুসলিমবিদ্বেষী একটি ছোট দলের সমাবেশে পবিত্র কুরআন পোড়ানোর চেষ্টা ঘিরে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনার নেতৃত্ব দেন ৬ জানুয়ারি কংগ্রেস ভবনে হামলার ঘটনায় দণ্ডপ্রাপ্ত ও পরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমাপ্রাপ্ত জেক ল্যাং। আইসিইবির বিতর্কিত অভিযানের পর ইতোমধ্যে উত্তপ্ত শহরে এই ঘটনা নতুন করে সংঘাতের জন্ম দেয়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিস শহর আবারও উত্তেজনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) শহরের সিটি হলের সামনে একটি ছোট মুসলিমবিদ্বেষী দল পবিত্র কুরআন পোড়ানোর চেষ্টা করলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এই উসকানিমূলক কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন জেক ল্যাং—যিনি ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি মার্কিন কংগ্রেস ভবনে হামলার ঘটনায় দণ্ডপ্রাপ্ত ছিলেন এবং পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে ক্ষমা পান।

ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটে, যখন মিনিয়াপোলিস ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE)–এর বিতর্কিত অভিযানের কারণে উত্তাল ছিল। ৭ জানুয়ারি ICE এজেন্টদের গুলিতে এক মার্কিন নারী নাগরিক নিহত হওয়ার পর থেকে শহরজুড়ে আইসিইবির বিরুদ্ধে ধারাবাহিক বিক্ষোভ চলছিল। এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশের মধ্যেই জেক ল্যাং প্রকাশ্যে কুরআন পোড়ানোর ঘোষণা দেন।

ল্যাং তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (টুইটার)-এ লিখেছিলেন, “সোমালিদের ‘দখলের’ বিরুদ্ধে এবং কংগ্রেস সদস্যা ইলহান ওমরের অবিলম্বে বহিষ্কার ও গভর্নর টিম ওয়ালজের গ্রেপ্তারের দাবিতে আমি মিনিয়াপোলিসে কুরআন পোড়াব।” তার এই পোস্টকে উসকানিমূলক ও ঘৃণামূলক বলে ব্যাপক সমালোচনা করা হয়।

ল্যাং ও তার সঙ্গীরা সিটি হলের সামনে সমাবেশ শুরু করলে আইসিইবির বিরুদ্ধে আন্দোলনরত স্থানীয় বিক্ষোভকারীরা তীব্র প্রতিবাদ জানান। দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কি হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ক্ষুব্ধ জনতার চাপে ল্যাং কিছুটা লাঞ্ছিত হন এবং এক পর্যায়ে একটি গাড়িতে উঠে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।

মার্কিন গণমাধ্যমের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ল্যাংয়ের এই কুরআন পোড়ানোর প্রচেষ্টা এমন এক সময়ে করা হয়েছে, যখন শহরটি ইতোমধ্যে আইসিইবির কর্মকাণ্ডের কারণে উত্তেজিত—যা পরিস্থিতিকে আরও উসকে দিয়েছে এবং অপ্রয়োজনীয় সংঘাত বাড়িয়েছে।

উল্লেখ্য, এটি ল্যাংয়ের প্রথম এমন প্রচেষ্টা নয়। ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর তিনি মিশিগানের ডিয়ারবর্ন শহরে—যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ মুসলিম জনগোষ্ঠী বসবাস করে—কুরআন পোড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন, যা তখনও তীব্র নিন্দার মুখে পড়ে।

এদিকে, মিনিয়াপোলিসে আইসিই এজেন্টের গুলিতে এক নারী নিহত হওয়ার পর শুরু হওয়া আইসিইবির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘ইনসারেকশন অ্যাক্ট’ (বিদ্রোহ দমন আইন) প্রয়োগের হুমকি সত্ত্বেও স্থানীয় আন্দোলনকারীরা রাজপথ ছাড়েননি।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মুস্তাইন বিল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত