বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কওমী টাইমস

শাবান ও রমজান মাসজুড়ে হাজার হাজার নিরাপত্তা সদস্য ও সাধারণ নাগরিকদের জন্য এই বিশেষ ধর্মীয় শিক্ষার আয়োজন করেছে দেশটির হজ্জ ও আওকাফ মন্ত্রণালয়

আফগানিস্তানে ৪১১টি সামরিক কেন্দ্রে পবিত্র কুরআনের তাফসির ও অনুবাদ কোর্স শুরু


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

আফগানিস্তানে ৪১১টি সামরিক কেন্দ্রে পবিত্র কুরআনের তাফসির ও অনুবাদ কোর্স শুরু

আফগানিস্তানজুড়ে ৪১১টি বৃহৎ সামরিক কেন্দ্রে পবিত্র কুরআনের অনুবাদ ও তাফসির শিক্ষা কার্যক্রমের পঞ্চম ধাপ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। দেশটির ‘ইরশাদ, হজ্জ ও আওকাফ’ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে পবিত্র শাবান ও রমজান মাসকে কেন্দ্র করে এই বিশেষ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে। কাবুলে এক উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনের মাধ্যমে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী শেখ নূর মোহাম্মদ সাকিব।

মঙ্গলবার (শাবান মাসের প্রথম দিন) কাবুলে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক সভার মাধ্যমে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইরশাদ, হজ ও আওকাফ মন্ত্রী শাইখ নূর মুহাম্মদ সাকিব, শীর্ষ ওলামায়ে কেরাম, শাইখগণ, মুফতিগণ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতিনিধিরা।

মন্ত্রী শাইখ নূর মুহাম্মদ সাকিব তাঁর বক্তব্যে কোরআনের অনুবাদ ও তাফসিরের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, আগামী দিন থেকে দেশের সব ৩৪টি প্রদেশে অভিজ্ঞ ওলামায়ে কেরামের মাধ্যমে এই কার্যক্রম শুরু হবে এবং রমজান মাসের ২৫ তারিখ পর্যন্ত তা চলবে।

তিনি জানান, চলতি ১৪৪৭ হিজরি বছরে এই কর্মসূচির আওতায় মোট কেন্দ্রের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪১১টিতে। এর মধ্যে ৩৬৪টি কেন্দ্র দেশের বিভিন্ন প্রদেশে এবং অবশিষ্ট ৪৭টি কাবুল ও এর আশপাশের এলাকায় অবস্থিত।

মন্ত্রী আরও বলেন, ভবিষ্যতে এই কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে দেশের সর্বস্তরের মানুষ কোরআনের শিক্ষা ও উপকারিতা থেকে পূর্ণভাবে উপকৃত হতে পারে।

ইসলামি আমিরাত প্রতিষ্ঠার পর কোরআনভিত্তিক শিক্ষা ও গবেষণায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোরআনই ইসলামী জীবনব্যবস্থা, শরিয়ত ও আইনকানুনের মূল উৎস; সুতরাং এর সর্বাঙ্গীণ খেদমত অপরিহার্য।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট আলেম ও শাইখদের জন্য ১০ দফা গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। এর মধ্যে রয়েছে—

  • নেক নিয়ত, তাকওয়া ও আমানতদারির শিক্ষা জোরদার করা
  • সাধারণ মানুষের সঙ্গে নম্র আচরণ ও উত্তম চরিত্র চর্চা
  • হানাফি মাযহাবের ভিত্তি ও গ্রহণযোগ্যতা ব্যাখ্যা
  • ভ্রান্ত ও বিভ্রান্তিকর মতাদর্শের যুক্তিভিত্তিক খণ্ডন
  • কুসংস্কার ও বিভাজনমূলক বক্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান
  • শত্রুপক্ষের প্রচারণা ও মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ মোকাবিলায় সচেতনতা
  • কোরআন শিক্ষা কার্যক্রমে নিয়মিত তদারকি ও প্রশাসনিক নজরদারি

এছাড়া সাধারণ জনগণের জন্য আফগানিস্তান জাতীয় রেডিও টেলিভিশনে দুইজন জ্যেষ্ঠ শাইখের মাধ্যমে পশতু ও দারি ভাষায় সরাসরি কোরআনের অনুবাদ ও তাফসির সম্প্রচার করা হবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী মাওলভি মাখদুম আবদুল হক, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি মাওলভি সাইয়্যিদ আগা, গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধি মুফতি মাহমুদুল হাসান, জাতীয় রেডিও টেলিভিশনের মহাপরিচালক কারি মুহাম্মদ ইউসুফ আহমাদি এবং আমন্ত্রিত শাইখদের মধ্যে শাইখ তালিব জান আদিব ও শাইখ মুফতি মুহাম্মদ তাহের।

বিষয় : আফগানিস্তান

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


আফগানিস্তানে ৪১১টি সামরিক কেন্দ্রে পবিত্র কুরআনের তাফসির ও অনুবাদ কোর্স শুরু

প্রকাশের তারিখ : ২১ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

আফগানিস্তানজুড়ে ৪১১টি বৃহৎ সামরিক কেন্দ্রে পবিত্র কুরআনের অনুবাদ ও তাফসির শিক্ষা কার্যক্রমের পঞ্চম ধাপ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। দেশটির ‘ইরশাদ, হজ্জ ও আওকাফ’ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে পবিত্র শাবান ও রমজান মাসকে কেন্দ্র করে এই বিশেষ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে। কাবুলে এক উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনের মাধ্যমে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী শেখ নূর মোহাম্মদ সাকিব।

মঙ্গলবার (শাবান মাসের প্রথম দিন) কাবুলে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক সভার মাধ্যমে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইরশাদ, হজ ও আওকাফ মন্ত্রী শাইখ নূর মুহাম্মদ সাকিব, শীর্ষ ওলামায়ে কেরাম, শাইখগণ, মুফতিগণ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতিনিধিরা।

মন্ত্রী শাইখ নূর মুহাম্মদ সাকিব তাঁর বক্তব্যে কোরআনের অনুবাদ ও তাফসিরের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, আগামী দিন থেকে দেশের সব ৩৪টি প্রদেশে অভিজ্ঞ ওলামায়ে কেরামের মাধ্যমে এই কার্যক্রম শুরু হবে এবং রমজান মাসের ২৫ তারিখ পর্যন্ত তা চলবে।

তিনি জানান, চলতি ১৪৪৭ হিজরি বছরে এই কর্মসূচির আওতায় মোট কেন্দ্রের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪১১টিতে। এর মধ্যে ৩৬৪টি কেন্দ্র দেশের বিভিন্ন প্রদেশে এবং অবশিষ্ট ৪৭টি কাবুল ও এর আশপাশের এলাকায় অবস্থিত।

মন্ত্রী আরও বলেন, ভবিষ্যতে এই কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে দেশের সর্বস্তরের মানুষ কোরআনের শিক্ষা ও উপকারিতা থেকে পূর্ণভাবে উপকৃত হতে পারে।

ইসলামি আমিরাত প্রতিষ্ঠার পর কোরআনভিত্তিক শিক্ষা ও গবেষণায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোরআনই ইসলামী জীবনব্যবস্থা, শরিয়ত ও আইনকানুনের মূল উৎস; সুতরাং এর সর্বাঙ্গীণ খেদমত অপরিহার্য।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট আলেম ও শাইখদের জন্য ১০ দফা গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। এর মধ্যে রয়েছে—

  • নেক নিয়ত, তাকওয়া ও আমানতদারির শিক্ষা জোরদার করা
  • সাধারণ মানুষের সঙ্গে নম্র আচরণ ও উত্তম চরিত্র চর্চা
  • হানাফি মাযহাবের ভিত্তি ও গ্রহণযোগ্যতা ব্যাখ্যা
  • ভ্রান্ত ও বিভ্রান্তিকর মতাদর্শের যুক্তিভিত্তিক খণ্ডন
  • কুসংস্কার ও বিভাজনমূলক বক্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান
  • শত্রুপক্ষের প্রচারণা ও মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ মোকাবিলায় সচেতনতা
  • কোরআন শিক্ষা কার্যক্রমে নিয়মিত তদারকি ও প্রশাসনিক নজরদারি

এছাড়া সাধারণ জনগণের জন্য আফগানিস্তান জাতীয় রেডিও টেলিভিশনে দুইজন জ্যেষ্ঠ শাইখের মাধ্যমে পশতু ও দারি ভাষায় সরাসরি কোরআনের অনুবাদ ও তাফসির সম্প্রচার করা হবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী মাওলভি মাখদুম আবদুল হক, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি মাওলভি সাইয়্যিদ আগা, গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধি মুফতি মাহমুদুল হাসান, জাতীয় রেডিও টেলিভিশনের মহাপরিচালক কারি মুহাম্মদ ইউসুফ আহমাদি এবং আমন্ত্রিত শাইখদের মধ্যে শাইখ তালিব জান আদিব ও শাইখ মুফতি মুহাম্মদ তাহের।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মুস্তাইন বিল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত