ভারতের উত্তরপ্রদেশের সম্ভলে ঐতিহাসিক শাহী জামে মসজিদ জরিপকে কেন্দ্র করে সহিংসতায় এক মুসলিম যুবককে গুলি করার দায়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা (FIR) করার নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারক বিভাংশু সুধীর। এই সাহসী আদেশের মাত্র কয়েক দিনের মাথায় এলাহাবাদ হাইকোর্ট তাকে বদলি করেছে। বিচারবিভাগের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে স্থানীয় জনমনে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
২০২৪ সালের নভেম্বরে সম্ভলের শাহী জামে মসজিদের জরিপ চলাকালীন ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটে। উক্ত ঘটনায় পুলিশের গুলিতে পাঁচজন মুসলিম ব্যক্তি নিহত হন এবং আলম নামক এক যুবক গুরুতর আহত হন। আলমের বাবা ইয়ামিন আদালতে অভিযোগ করেছিলেন যে, তার ছেলে যখন রাস্তার পাশে বিস্কুট বিক্রি করছিল, তখন পুলিশ তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি চালায়।
গত ২১ জানুয়ারি, সম্ভলের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (CJM) বিভাংশু সুধীর এই ঘটনায় তৎকালীন সার্কেল অফিসার অনুজ চৌধুরী, কোতোয়ালি ইনচার্জ অনুজ তোমার এবং আরও ১৫-২০ জন অজ্ঞাত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেন। বিচারক তার পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, আলমকে গুলি করা হয়েছে তা প্রমাণিত এবং খুনের চেষ্টার মতো গুরুতর অপরাধের তদন্ত হওয়া জরুরি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, অপরাধমূলক কাজের ক্ষেত্রে পুলিশ 'অফিসিয়াল ডিউটি' বা সরকারি দায়িত্ব পালনের দোহাই দিয়ে পার পেতে পারে না।
বিচারকের এই আদেশের পর সম্ভল পুলিশ হাইকোর্টে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। এর মধ্যেই গত মঙ্গলবার এলাহাবাদ হাইকোর্ট এক আদেশে বিচারক বিভাংশু সুধীরসহ ১৪ জন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাকে বদলি করে। বিভাংশু সুধীরকে সুলতানপুরের সিভিল জজ (সিনিয়র ডিভিশন) হিসেবে স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে, এবং তার স্থলে আদিত্য সিংকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
মানবাধিকার কর্মীদের মতে, বিচারকের এই আকস্মিক বদলি বিচারবিভাগের স্বাধীনতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যেখানে পুলিশের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ ছিল, সেখানে বিচারকের অপসারণ জনমনে বিচার ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
বিষয় : ভারত

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ জানুয়ারি ২০২৬
ভারতের উত্তরপ্রদেশের সম্ভলে ঐতিহাসিক শাহী জামে মসজিদ জরিপকে কেন্দ্র করে সহিংসতায় এক মুসলিম যুবককে গুলি করার দায়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা (FIR) করার নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারক বিভাংশু সুধীর। এই সাহসী আদেশের মাত্র কয়েক দিনের মাথায় এলাহাবাদ হাইকোর্ট তাকে বদলি করেছে। বিচারবিভাগের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে স্থানীয় জনমনে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
২০২৪ সালের নভেম্বরে সম্ভলের শাহী জামে মসজিদের জরিপ চলাকালীন ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটে। উক্ত ঘটনায় পুলিশের গুলিতে পাঁচজন মুসলিম ব্যক্তি নিহত হন এবং আলম নামক এক যুবক গুরুতর আহত হন। আলমের বাবা ইয়ামিন আদালতে অভিযোগ করেছিলেন যে, তার ছেলে যখন রাস্তার পাশে বিস্কুট বিক্রি করছিল, তখন পুলিশ তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি চালায়।
গত ২১ জানুয়ারি, সম্ভলের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (CJM) বিভাংশু সুধীর এই ঘটনায় তৎকালীন সার্কেল অফিসার অনুজ চৌধুরী, কোতোয়ালি ইনচার্জ অনুজ তোমার এবং আরও ১৫-২০ জন অজ্ঞাত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেন। বিচারক তার পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, আলমকে গুলি করা হয়েছে তা প্রমাণিত এবং খুনের চেষ্টার মতো গুরুতর অপরাধের তদন্ত হওয়া জরুরি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, অপরাধমূলক কাজের ক্ষেত্রে পুলিশ 'অফিসিয়াল ডিউটি' বা সরকারি দায়িত্ব পালনের দোহাই দিয়ে পার পেতে পারে না।
বিচারকের এই আদেশের পর সম্ভল পুলিশ হাইকোর্টে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। এর মধ্যেই গত মঙ্গলবার এলাহাবাদ হাইকোর্ট এক আদেশে বিচারক বিভাংশু সুধীরসহ ১৪ জন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাকে বদলি করে। বিভাংশু সুধীরকে সুলতানপুরের সিভিল জজ (সিনিয়র ডিভিশন) হিসেবে স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে, এবং তার স্থলে আদিত্য সিংকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
মানবাধিকার কর্মীদের মতে, বিচারকের এই আকস্মিক বদলি বিচারবিভাগের স্বাধীনতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যেখানে পুলিশের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ ছিল, সেখানে বিচারকের অপসারণ জনমনে বিচার ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন