ভারতের আসাম রাজ্যে চলমান উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর ও বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, রাজ্যে শুধুমাত্র বাংলাভাষী মুসলমান (যাদের স্থানীয়ভাবে 'মিয়া' বলা হয়) জনগোষ্ঠীকেই উচ্ছেদ করা হচ্ছে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে তার এই মন্তব্য আসামের রাজনীতিতে নতুন করে মেরুকরণের সৃষ্টি করেছে।
রবিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা দাবি করেন, আসামে উচ্ছেদের লক্ষ্যবস্তু কেবল ‘মিয়া’ বা বাংলাভাষী মুসলমানরা; কোনো অসমীয়াকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে না। গুয়াহাটির পাহাড়ি এলাকায় উচ্ছেদ নিয়ে ছড়িয়ে পড়া গুঞ্জনকে উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যমগুলো অহেতুক আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে পাহাড়ে কোনো উচ্ছেদ হবে না বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "আসামে কেবল মিয়াদের উচ্ছেদ করা হয়। অসমীয়াদের কীভাবে উচ্ছেদ করা সম্ভব?" তিনি দাবি করেন, গত ১০ বছরে বিজেপি সরকারের শাসনামলে পাহাড়ি এলাকায় কোনো উচ্ছেদ হয়নি, বরং সরকার সেখানকার অধিবাসীদের প্রিমিয়াম ছাড়াই ভূমির অধিকার দেওয়ার কাজ করছে। তবে তিনি শর্ত জুড়ে দিয়ে বলেন, পাহাড়ে যদি কোনো ‘মিয়া’ বসবাস করেন, তবে তাকে অবশ্যই উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়া হবে।
কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তোষণনীতির অভিযোগ তুলে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, বর্তমানে কংগ্রেসের প্রার্থী পদের জন্য আবেদনকারীদের সংখ্যাগরিষ্ঠই মুসলিম সম্প্রদায়ভুক্ত। তার দেওয়া তথ্যমতে, ৭৫০টি আবেদনের মধ্যে প্রায় ৬০০টিই 'মিয়া' সম্প্রদায়ের, আর হিন্দু আবেদনকারী মাত্র ১২০-১৩০ জন। তিনি মন্তব্য করেন যে, কংগ্রেস এখন আসামের ধর্ম, সংস্কৃতি ও সম্প্রদায়ের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আরও উল্লেখ করা হয় যে, লোকসভার সাংসদ এবং কংগ্রেস নেতা গৌরব গগৈয়ের কথিত ‘পাকিস্তান সংযোগ’ নিয়ে বিস্তারিত তথ্য ৩১ জানুয়ারির মধ্যে জনসমক্ষে আনা হবে। কেন্দ্রীয় বাজেটের কারণে এই প্রকাশনায় একদিন দেরি হতে পারে বলে তিনি জানান। উল্লেখ্য, গৌরব গগৈয়ের ব্রিটিশ স্ত্রীর মাধ্যমে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে এর আগে একটি বিশেষ তদন্ত দল (SIT) গঠন করেছিল আসাম সরকার।
আসামের ১২৬টি আসনে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রকাশ্য সাম্প্রদায়িক বিভাজনমূলক বক্তব্য ভারতের জাতীয় রাজনীতিতেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬
ভারতের আসাম রাজ্যে চলমান উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর ও বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, রাজ্যে শুধুমাত্র বাংলাভাষী মুসলমান (যাদের স্থানীয়ভাবে 'মিয়া' বলা হয়) জনগোষ্ঠীকেই উচ্ছেদ করা হচ্ছে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে তার এই মন্তব্য আসামের রাজনীতিতে নতুন করে মেরুকরণের সৃষ্টি করেছে।
রবিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা দাবি করেন, আসামে উচ্ছেদের লক্ষ্যবস্তু কেবল ‘মিয়া’ বা বাংলাভাষী মুসলমানরা; কোনো অসমীয়াকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে না। গুয়াহাটির পাহাড়ি এলাকায় উচ্ছেদ নিয়ে ছড়িয়ে পড়া গুঞ্জনকে উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যমগুলো অহেতুক আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে পাহাড়ে কোনো উচ্ছেদ হবে না বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "আসামে কেবল মিয়াদের উচ্ছেদ করা হয়। অসমীয়াদের কীভাবে উচ্ছেদ করা সম্ভব?" তিনি দাবি করেন, গত ১০ বছরে বিজেপি সরকারের শাসনামলে পাহাড়ি এলাকায় কোনো উচ্ছেদ হয়নি, বরং সরকার সেখানকার অধিবাসীদের প্রিমিয়াম ছাড়াই ভূমির অধিকার দেওয়ার কাজ করছে। তবে তিনি শর্ত জুড়ে দিয়ে বলেন, পাহাড়ে যদি কোনো ‘মিয়া’ বসবাস করেন, তবে তাকে অবশ্যই উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়া হবে।
কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তোষণনীতির অভিযোগ তুলে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, বর্তমানে কংগ্রেসের প্রার্থী পদের জন্য আবেদনকারীদের সংখ্যাগরিষ্ঠই মুসলিম সম্প্রদায়ভুক্ত। তার দেওয়া তথ্যমতে, ৭৫০টি আবেদনের মধ্যে প্রায় ৬০০টিই 'মিয়া' সম্প্রদায়ের, আর হিন্দু আবেদনকারী মাত্র ১২০-১৩০ জন। তিনি মন্তব্য করেন যে, কংগ্রেস এখন আসামের ধর্ম, সংস্কৃতি ও সম্প্রদায়ের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আরও উল্লেখ করা হয় যে, লোকসভার সাংসদ এবং কংগ্রেস নেতা গৌরব গগৈয়ের কথিত ‘পাকিস্তান সংযোগ’ নিয়ে বিস্তারিত তথ্য ৩১ জানুয়ারির মধ্যে জনসমক্ষে আনা হবে। কেন্দ্রীয় বাজেটের কারণে এই প্রকাশনায় একদিন দেরি হতে পারে বলে তিনি জানান। উল্লেখ্য, গৌরব গগৈয়ের ব্রিটিশ স্ত্রীর মাধ্যমে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে এর আগে একটি বিশেষ তদন্ত দল (SIT) গঠন করেছিল আসাম সরকার।
আসামের ১২৬টি আসনে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রকাশ্য সাম্প্রদায়িক বিভাজনমূলক বক্তব্য ভারতের জাতীয় রাজনীতিতেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন