কাতারের রাজধানী দোহায় আয়োজিত চতুর্থ বার্ষিক 'ফিলিস্তিন ফোরাম'-এ গাজায় চলমান শিক্ষা সংকটের এক ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। ইসরায়েলি বাহিনীর ক্রমাগত হামলার ফলে গাজার শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার উপক্রম হলেও, ফিলিস্তিনি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অদম্য সাহসে তাদের জ্ঞানচর্চা অব্যাহত রেখেছেন। ফোরামে বিশেষজ্ঞরা এই পরিকল্পিত শিক্ষা ধ্বংসযজ্ঞকে 'স্কলাস্টিসাইড' বা শিক্ষাহনন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজ এবং আরব সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি স্টাডিজ-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই ফোরামে "গণহত্যার সময়ে শিক্ষার অর্থ" শীর্ষক একটি বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। সামিয়া বিশারার সঞ্চালনায় এই অধিবেশনে গাজা থেকে অনলাইনে যুক্ত হয়ে সরাসরি বক্তব্য রাখেন ফিলিস্তিনি শিক্ষিকা আসমা মুস্তফা।
বিনা পারিশ্রমিকে তাঁবুর নিচে পাঠদান গাজা থেকে যুক্ত হওয়া আসমা মুস্তফা জানান, হাড়কাঁপানো শীতের মধ্যে তাবু ও খোলা আকাশের নিচে কোনো বেতন ছাড়াই শিক্ষকতা চালিয়ে যাচ্ছেন গাজার শিক্ষকরা। তিনি বলেন, “যতক্ষণ আমরা বেঁচে আছি, ততক্ষণ আমরা শেখানো বন্ধ করব না। যেখানেই আমরা একটি ছোট ক্লাসরুম গড়ার সুযোগ পাচ্ছি, সেখানেই শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করছি।” তিনি আরও জানান, অনেক শিক্ষার্থী আহত অবস্থায়ও ক্লাসে যোগ দিচ্ছে, যা তাদের শিক্ষার প্রতি তৃষ্ণার এক অনন্য উদাহরণ।
মেধার কারারুদ্ধ অবস্থা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক করুণ বাস্তবতা। অনেক শিক্ষার্থী প্রতিকূলতার মাঝেও আন্তর্জাতিক মানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ইউরোপ ও বিশ্বের নামী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়ার সুযোগ পেলেও ইসরায়েলি নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা গাজা ত্যাগ করতে পারছে না। ফলে তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ অঙ্কুরেই বিনষ্ট হচ্ছে।
শিক্ষাহনন বা 'স্কলাস্টিসাইড' গবেষক আহমদ আশুর এবং মালিক আল রিমাওয়ি তাদের বক্তব্যে বলেন, গাজায় শুধু ভবন ধ্বংস করা হচ্ছে না, বরং ফিলিস্তিনিদের পরিচয় ও মেধা ধ্বংসের একটি পদ্ধতিগত প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তারা বিষয়টিকে 'স্কলাস্টিসাইড' হিসেবে অভিহিত করেন। বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, গাজার শিক্ষা ব্যবস্থা পুনর্গঠনে কেবল নতুন ভবন নির্মাণ করলেই হবে না, বরং শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মনস্তাত্ত্বিক সহায়তা এবং নতুন পাঠ্যক্রম প্রণয়ন এখন সময়ের দাবি।
আন্তর্জাতিক মহলের প্রতি আহ্বান ফোরামে উপস্থিত শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা গাজার এই পরিকল্পিত মেধা নিধন বন্ধে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেন। ফিলিস্তিনিদের কাছে শিক্ষা এখন কেবল পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান নয়, বরং এটি তাদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই ও প্রতিরোধের একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিষয় : কাতার

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
কাতারের রাজধানী দোহায় আয়োজিত চতুর্থ বার্ষিক 'ফিলিস্তিন ফোরাম'-এ গাজায় চলমান শিক্ষা সংকটের এক ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। ইসরায়েলি বাহিনীর ক্রমাগত হামলার ফলে গাজার শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার উপক্রম হলেও, ফিলিস্তিনি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অদম্য সাহসে তাদের জ্ঞানচর্চা অব্যাহত রেখেছেন। ফোরামে বিশেষজ্ঞরা এই পরিকল্পিত শিক্ষা ধ্বংসযজ্ঞকে 'স্কলাস্টিসাইড' বা শিক্ষাহনন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজ এবং আরব সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি স্টাডিজ-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই ফোরামে "গণহত্যার সময়ে শিক্ষার অর্থ" শীর্ষক একটি বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। সামিয়া বিশারার সঞ্চালনায় এই অধিবেশনে গাজা থেকে অনলাইনে যুক্ত হয়ে সরাসরি বক্তব্য রাখেন ফিলিস্তিনি শিক্ষিকা আসমা মুস্তফা।
বিনা পারিশ্রমিকে তাঁবুর নিচে পাঠদান গাজা থেকে যুক্ত হওয়া আসমা মুস্তফা জানান, হাড়কাঁপানো শীতের মধ্যে তাবু ও খোলা আকাশের নিচে কোনো বেতন ছাড়াই শিক্ষকতা চালিয়ে যাচ্ছেন গাজার শিক্ষকরা। তিনি বলেন, “যতক্ষণ আমরা বেঁচে আছি, ততক্ষণ আমরা শেখানো বন্ধ করব না। যেখানেই আমরা একটি ছোট ক্লাসরুম গড়ার সুযোগ পাচ্ছি, সেখানেই শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করছি।” তিনি আরও জানান, অনেক শিক্ষার্থী আহত অবস্থায়ও ক্লাসে যোগ দিচ্ছে, যা তাদের শিক্ষার প্রতি তৃষ্ণার এক অনন্য উদাহরণ।
মেধার কারারুদ্ধ অবস্থা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক করুণ বাস্তবতা। অনেক শিক্ষার্থী প্রতিকূলতার মাঝেও আন্তর্জাতিক মানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ইউরোপ ও বিশ্বের নামী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়ার সুযোগ পেলেও ইসরায়েলি নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা গাজা ত্যাগ করতে পারছে না। ফলে তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ অঙ্কুরেই বিনষ্ট হচ্ছে।
শিক্ষাহনন বা 'স্কলাস্টিসাইড' গবেষক আহমদ আশুর এবং মালিক আল রিমাওয়ি তাদের বক্তব্যে বলেন, গাজায় শুধু ভবন ধ্বংস করা হচ্ছে না, বরং ফিলিস্তিনিদের পরিচয় ও মেধা ধ্বংসের একটি পদ্ধতিগত প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তারা বিষয়টিকে 'স্কলাস্টিসাইড' হিসেবে অভিহিত করেন। বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, গাজার শিক্ষা ব্যবস্থা পুনর্গঠনে কেবল নতুন ভবন নির্মাণ করলেই হবে না, বরং শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মনস্তাত্ত্বিক সহায়তা এবং নতুন পাঠ্যক্রম প্রণয়ন এখন সময়ের দাবি।
আন্তর্জাতিক মহলের প্রতি আহ্বান ফোরামে উপস্থিত শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা গাজার এই পরিকল্পিত মেধা নিধন বন্ধে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেন। ফিলিস্তিনিদের কাছে শিক্ষা এখন কেবল পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান নয়, বরং এটি তাদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই ও প্রতিরোধের একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন