বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কওমী টাইমস

ইয়েমেন থেকে আমিরাতের পূর্ণ প্রত্যাহারকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে রিয়াদ; ফাটল ধরার গুঞ্জন উড়িয়ে দিলেন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় সৌদি-আমিরাত সম্পর্ক ‘অপরিহার্য’: ফয়সাল বিন ফারহান


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় সৌদি-আমিরাত সম্পর্ক ‘অপরিহার্য’: ফয়সাল বিন ফারহান

আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অবিচ্ছেদ্য বলে মন্তব্য করেছেন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান। ইয়েমেন ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) ঐক্যের স্বার্থে এই দুই শক্তিশালী প্রতিবেশীর সুসম্পর্ক বজায় থাকা জরুরি।

সোমবার পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশতে পোলিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাডোস্লাভ সিকোরস্কির সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান এই বার্তা দেন। সম্প্রতি ইয়েমেনে কৌশলগত স্বার্থ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে তৈরি হওয়া প্রকাশ্য মতবিরোধের পর এটিই রিয়াদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ের ইতিবাচক কূটনৈতিক বক্তব্য।

প্রিন্স ফয়সাল বলেন, "সংযুক্ত আরব আমিরাত ইয়েমেন থেকে তাদের বাহিনী সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, ইউএই-র সঙ্গে শক্তিশালী সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে এটি একটি অপরিহার্য পদক্ষেপ।" তিনি আরও যোগ করেন যে, সৌদি আরব ও আমিরাতের মধ্যকার ইতিবাচক সম্পর্ক শুধু দুই দেশের জন্যই নয়, বরং সমগ্র জিসিসি অঞ্চলের মৌলিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

উল্লেখ্য যে, গত মাসে ইয়েমেনের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি) সৌদি সীমান্ত সংলগ্ন হাদরামাউত ও আল-মাহরা প্রদেশ দখল করে নিলে দুই দেশের মধ্যে টানাপোড়েন শুরু হয়। রিয়াদ অভিযোগ করেছিল যে, আবুধাবি এই অভিযানে এসটিসি-কে মদদ দিচ্ছে, যা সৌদি আরবের দক্ষিণ সীমান্তের নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। যদিও সংযুক্ত আরব আমিরাত এই অভিযোগ অস্বীকার করেছিল।

পরবর্তীতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সহায়তায় ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী প্রদেশ দুটি পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এই ঘটনার রেশ ধরেই আমিরাত ইয়েমেন থেকে তাদের সামরিক উপস্থিতি সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নেওয়ার ঘোষণা দেয়, যা গত কয়েক বছরের মধ্যে দেশ দুটির মধ্যকার সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক ফাটল হিসেবে দেখা হচ্ছিল।

সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইয়েমেন থেকে আমিরাতের প্রস্থানকে রিয়াদ একটি সুযোগ হিসেবে দেখছে যাতে তারা পুনরায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে মজবুত করতে পারে এবং দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত অবসানের দিকে এগিয়ে যেতে পারে।

বিষয় : সৌদি আরব সংযুক্ত আরব আমিরাত

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় সৌদি-আমিরাত সম্পর্ক ‘অপরিহার্য’: ফয়সাল বিন ফারহান

প্রকাশের তারিখ : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অবিচ্ছেদ্য বলে মন্তব্য করেছেন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান। ইয়েমেন ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) ঐক্যের স্বার্থে এই দুই শক্তিশালী প্রতিবেশীর সুসম্পর্ক বজায় থাকা জরুরি।

সোমবার পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশতে পোলিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাডোস্লাভ সিকোরস্কির সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান এই বার্তা দেন। সম্প্রতি ইয়েমেনে কৌশলগত স্বার্থ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে তৈরি হওয়া প্রকাশ্য মতবিরোধের পর এটিই রিয়াদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ের ইতিবাচক কূটনৈতিক বক্তব্য।

প্রিন্স ফয়সাল বলেন, "সংযুক্ত আরব আমিরাত ইয়েমেন থেকে তাদের বাহিনী সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, ইউএই-র সঙ্গে শক্তিশালী সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে এটি একটি অপরিহার্য পদক্ষেপ।" তিনি আরও যোগ করেন যে, সৌদি আরব ও আমিরাতের মধ্যকার ইতিবাচক সম্পর্ক শুধু দুই দেশের জন্যই নয়, বরং সমগ্র জিসিসি অঞ্চলের মৌলিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

উল্লেখ্য যে, গত মাসে ইয়েমেনের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি) সৌদি সীমান্ত সংলগ্ন হাদরামাউত ও আল-মাহরা প্রদেশ দখল করে নিলে দুই দেশের মধ্যে টানাপোড়েন শুরু হয়। রিয়াদ অভিযোগ করেছিল যে, আবুধাবি এই অভিযানে এসটিসি-কে মদদ দিচ্ছে, যা সৌদি আরবের দক্ষিণ সীমান্তের নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। যদিও সংযুক্ত আরব আমিরাত এই অভিযোগ অস্বীকার করেছিল।

পরবর্তীতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সহায়তায় ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী প্রদেশ দুটি পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এই ঘটনার রেশ ধরেই আমিরাত ইয়েমেন থেকে তাদের সামরিক উপস্থিতি সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নেওয়ার ঘোষণা দেয়, যা গত কয়েক বছরের মধ্যে দেশ দুটির মধ্যকার সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক ফাটল হিসেবে দেখা হচ্ছিল।

সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইয়েমেন থেকে আমিরাতের প্রস্থানকে রিয়াদ একটি সুযোগ হিসেবে দেখছে যাতে তারা পুনরায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে মজবুত করতে পারে এবং দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত অবসানের দিকে এগিয়ে যেতে পারে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মুস্তাইন বিল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত