২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি বাহিনীর নৃশংস সামরিক অভিযানে গাজায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭১ হাজার ৬৬৭ জনে পৌঁছেছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আজ বুধবার সর্বশেষ এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পরেও ইসরায়েলি বাহিনীর ক্রমাগত নিয়ম লঙ্ঘন ও হামলার কারণে সাধারণ মানুষের মৃত্যুর মিছিল থামছে না।
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় দীর্ঘ দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা ধ্বংসযজ্ঞের এক ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে। মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যমতে, ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে এ পর্যন্ত ৭১ হাজার ৬৬৭ জন ফিলিস্তিনি শহীদ হয়েছেন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৫ জনের লাশ হাসপাতালে আনা হয়েছে এবং অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, গত ১০ অক্টোবর ২০২৫ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও ইসরায়েল ক্রমাগত এটি লঙ্ঘন করে চলেছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৪৯২ জন শহীদ হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১,৩৫৬ জন। যদিও জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে মার্কিন প্রশাসন যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ শুরুর ঘোষণা দিয়েছিল, বাস্তবে গাজায় গোলাবর্ষণ ও গুলিবর্ষণ অব্যাহত রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজায় এ পর্যন্ত মোট আহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লক্ষ ৭১ হাজার ৩৪৩ জনে। তবে এখনও অসংখ্য মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন। অ্যাম্বুলেন্স এবং সিভিল ডিফেন্স কর্মীরা ইসরায়েলি বাধার কারণে অনেক জায়গায় উদ্ধারকাজ চালাতে পারছেন না, ফলে প্রকৃত নিহতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জাতিসংঘের তথ্যমতে, ইসরায়েলি হামলায় গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল এবং আবাসিক এলাকা। এই বিশাল ধ্বংসযজ্ঞ কাটিয়ে উঠতে এবং গাজা পুনর্গঠন করতে প্রায় ৭০ বিলিয়ন (৭ হাজার কোটি) মার্কিন ডলার প্রয়োজন হবে বলে ধারণা করছে জাতিসংঘ।
নিহতদের সিংহভাগই নারী ও শিশু। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বারংবার যুদ্ধবিরতির আহ্বান সত্ত্বেও গাজার সাধারণ মানুষের জীবনে এখনও নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসেনি।
বিষয় : ফিলিস্তিন

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি বাহিনীর নৃশংস সামরিক অভিযানে গাজায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭১ হাজার ৬৬৭ জনে পৌঁছেছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আজ বুধবার সর্বশেষ এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পরেও ইসরায়েলি বাহিনীর ক্রমাগত নিয়ম লঙ্ঘন ও হামলার কারণে সাধারণ মানুষের মৃত্যুর মিছিল থামছে না।
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় দীর্ঘ দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা ধ্বংসযজ্ঞের এক ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে। মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যমতে, ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে এ পর্যন্ত ৭১ হাজার ৬৬৭ জন ফিলিস্তিনি শহীদ হয়েছেন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৫ জনের লাশ হাসপাতালে আনা হয়েছে এবং অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, গত ১০ অক্টোবর ২০২৫ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও ইসরায়েল ক্রমাগত এটি লঙ্ঘন করে চলেছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৪৯২ জন শহীদ হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১,৩৫৬ জন। যদিও জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে মার্কিন প্রশাসন যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ শুরুর ঘোষণা দিয়েছিল, বাস্তবে গাজায় গোলাবর্ষণ ও গুলিবর্ষণ অব্যাহত রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজায় এ পর্যন্ত মোট আহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লক্ষ ৭১ হাজার ৩৪৩ জনে। তবে এখনও অসংখ্য মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন। অ্যাম্বুলেন্স এবং সিভিল ডিফেন্স কর্মীরা ইসরায়েলি বাধার কারণে অনেক জায়গায় উদ্ধারকাজ চালাতে পারছেন না, ফলে প্রকৃত নিহতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জাতিসংঘের তথ্যমতে, ইসরায়েলি হামলায় গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল এবং আবাসিক এলাকা। এই বিশাল ধ্বংসযজ্ঞ কাটিয়ে উঠতে এবং গাজা পুনর্গঠন করতে প্রায় ৭০ বিলিয়ন (৭ হাজার কোটি) মার্কিন ডলার প্রয়োজন হবে বলে ধারণা করছে জাতিসংঘ।
নিহতদের সিংহভাগই নারী ও শিশু। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বারংবার যুদ্ধবিরতির আহ্বান সত্ত্বেও গাজার সাধারণ মানুষের জীবনে এখনও নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসেনি।

আপনার মতামত লিখুন