বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কওমী টাইমস

ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত; উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে উস্কানি ও হেনস্তার অভিযোগ

মুসলিম নারীকে ‘বন্দে মাতরম’ বলতে বাধ্য করার ভিডিও ভাইরাল


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

মুসলিম নারীকে ‘বন্দে মাতরম’ বলতে বাধ্য করার ভিডিও ভাইরাল

ভারতে ক্রমাগত বাড়ছে ধর্মীয় উগ্রবাদ ও জোরপূর্বক জাতীয়তাবাদ চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, এক বোরকা পরিহিত মুসলিম নারীকে গণপরিবহনে ‘বন্দে মাতরম’ ধ্বনি দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। এই ঘটনাটি দেশটিতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা এবং নাগরিক অধিকার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

ভারতে বিশেষ করে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) শাসিত রাজ্যগুলোতে কট্টরপন্থী হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীগুলোর হাতে মুসলিমদের হেনস্তার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ট্রেন, বাস কিংবা রাস্তার মতো জনাকীর্ণ স্থানে মুসলিমদের থামিয়ে ‘বন্দে মাতরম’ বা নির্দিষ্ট ধর্মীয় স্লোগান দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। যারা এই নির্দেশ মানতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন, তাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করা হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সাম্প্রতিক একটি ভিডিওতে দেখা যায়, জনৈক বোরকা পরিহিত নারীকে কয়েকজন যাত্রী ঘিরে ধরে ‘বন্দে মাতরম’ বলার জন্য চাপ দিচ্ছে। ওই নারী দৃঢ়তার সাথে তা প্রত্যাখ্যান করলে তাকে "দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার" হুমকি দেওয়া হয়। জবাবে ওই নারী সাহসিকতার সাথে জানান, জোর করে কেউ তার দেশপ্রেম প্রমাণ করতে পারে না এবং কাউকে নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে বাধ্য করা আইনত দণ্ডনীয়।

২০১৪ সালে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই এ ধরনের ঘটনার হার বেড়েছে। এর আগে বিহারে এক প্রাথমিক শিক্ষককে ধর্মীয় কারণে ‘বন্দে মাতরম’ গাইতে অস্বীকৃতি জানানোয় মারধর করা হয়েছিল। এছাড়া জম্মু-কাশ্মীরের ডোডা জেলাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের স্কুলগুলোতে এই গান বাধ্যতামূলক করার সরকারি নির্দেশনার বিরুদ্ধে মুসলিম নেতারা সোচ্চার হয়েছেন। তাদের মতে, এটি সরাসরি ইসলামি বিশ্বাসের ওপর আঘাত।

২০১৭ সালে মিরাটের পৌর কাউন্সিলরদেরও একই পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছিল। সে সময় "হিন্দুস্তানে থাকতে হলে বন্দে মাতরম বলতে হবে"– এমন উগ্র স্লোগান দিয়ে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হয়। মানবাধিকার কর্মীদের মতে, প্রশাসনের নিস্পৃহতা এবং উগ্রবাদীদের প্রতি নমনীয় মনোভাবই সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত মর্যাদা ও নিরাপত্তাকে ঝুঁকিতে ফেলছে।

এই ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণুতা ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ ভাবমূর্তিকে বিশ্বমঞ্চে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। ভারতের সংবিধানে প্রত্যেকের নিজ ধর্ম পালন ও বাকস্বাধীনতার অধিকার থাকলেও বর্তমানে উগ্র জাতীয়তাবাদের নামে সেই অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

বিষয় : ভারত ইসলামভীতি

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


মুসলিম নারীকে ‘বন্দে মাতরম’ বলতে বাধ্য করার ভিডিও ভাইরাল

প্রকাশের তারিখ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

ভারতে ক্রমাগত বাড়ছে ধর্মীয় উগ্রবাদ ও জোরপূর্বক জাতীয়তাবাদ চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, এক বোরকা পরিহিত মুসলিম নারীকে গণপরিবহনে ‘বন্দে মাতরম’ ধ্বনি দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। এই ঘটনাটি দেশটিতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা এবং নাগরিক অধিকার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

ভারতে বিশেষ করে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) শাসিত রাজ্যগুলোতে কট্টরপন্থী হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীগুলোর হাতে মুসলিমদের হেনস্তার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ট্রেন, বাস কিংবা রাস্তার মতো জনাকীর্ণ স্থানে মুসলিমদের থামিয়ে ‘বন্দে মাতরম’ বা নির্দিষ্ট ধর্মীয় স্লোগান দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। যারা এই নির্দেশ মানতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন, তাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করা হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সাম্প্রতিক একটি ভিডিওতে দেখা যায়, জনৈক বোরকা পরিহিত নারীকে কয়েকজন যাত্রী ঘিরে ধরে ‘বন্দে মাতরম’ বলার জন্য চাপ দিচ্ছে। ওই নারী দৃঢ়তার সাথে তা প্রত্যাখ্যান করলে তাকে "দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার" হুমকি দেওয়া হয়। জবাবে ওই নারী সাহসিকতার সাথে জানান, জোর করে কেউ তার দেশপ্রেম প্রমাণ করতে পারে না এবং কাউকে নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে বাধ্য করা আইনত দণ্ডনীয়।

২০১৪ সালে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই এ ধরনের ঘটনার হার বেড়েছে। এর আগে বিহারে এক প্রাথমিক শিক্ষককে ধর্মীয় কারণে ‘বন্দে মাতরম’ গাইতে অস্বীকৃতি জানানোয় মারধর করা হয়েছিল। এছাড়া জম্মু-কাশ্মীরের ডোডা জেলাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের স্কুলগুলোতে এই গান বাধ্যতামূলক করার সরকারি নির্দেশনার বিরুদ্ধে মুসলিম নেতারা সোচ্চার হয়েছেন। তাদের মতে, এটি সরাসরি ইসলামি বিশ্বাসের ওপর আঘাত।

২০১৭ সালে মিরাটের পৌর কাউন্সিলরদেরও একই পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছিল। সে সময় "হিন্দুস্তানে থাকতে হলে বন্দে মাতরম বলতে হবে"– এমন উগ্র স্লোগান দিয়ে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হয়। মানবাধিকার কর্মীদের মতে, প্রশাসনের নিস্পৃহতা এবং উগ্রবাদীদের প্রতি নমনীয় মনোভাবই সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত মর্যাদা ও নিরাপত্তাকে ঝুঁকিতে ফেলছে।

এই ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণুতা ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ ভাবমূর্তিকে বিশ্বমঞ্চে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। ভারতের সংবিধানে প্রত্যেকের নিজ ধর্ম পালন ও বাকস্বাধীনতার অধিকার থাকলেও বর্তমানে উগ্র জাতীয়তাবাদের নামে সেই অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মুস্তাইন বিল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত