অধিকৃত পশ্চিমতীরে অবৈধ বসতি স্থাপন এবং প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইসরায়েলি মন্ত্রিসভার সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কায়রোতে জরুরি বৈঠকে বসেছে আরব লীগ। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সদস্য রাষ্ট্রগুলো ইসরায়েলের এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনা নস্যাতের অপচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেছে। তারা এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশ্ব সম্প্রদায়ের কার্যকর ও জোরালো পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে।
মিশরের রাজধানী কায়রোতে অবস্থিত আরব লীগের সদর দপ্তরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সভাপতিত্বে এই বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। সম্প্রতি ইসরায়েলি নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা (ক্যাবিনেট) পশ্চিমতীরের আইনি ও প্রশাসনিক কাঠামো পরিবর্তনের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তার প্রেক্ষিতে এই জরুরি বৈঠকের ডাক দেওয়া হয়।
গত রবিবার ইসরায়েলি সরকার পশ্চিমতীরে বসতি স্থাপনকারীদের জমি কেনা ও নিবন্ধনের সুযোগ সহজ করার পাশাপাশি হেব্রন (আল-খলিল) শহরের প্রশাসনিক ক্ষমতা তথাকথিত 'বেসামরিক প্রশাসন'-এর কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়। এর ফলে ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ইব্রাহিমি মসজিদের অবস্থান এবং এর চারপাশের আইনি মর্যাদা হুমকির মুখে পড়েছে।
বৈঠকে আরব লীগের সহকারী মহাসচিব ও ফিলিস্তিন বিষয়ক প্রধান সাফায়দ মোস্তফা বলেন, "ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্তগুলো নজিরবিহীন উস্কানি। এর মাধ্যমে তারা পশ্চিমতীরের বিশাল অংশকে কার্যত দখল করে নিতে চাইছে, যা দুই-রাষ্ট্র সমাধান (Two-State Solution) এর পথকে চিরতরে বন্ধ করে দেবে।"
ফিলিস্তিনি ও আরব প্রতিনিধিদের ক্ষোভ: আরব লীগে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত মোহান্নাদ আল-আকলুক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ইসরায়েল এখন পশ্চিমতীরে 'বর্ণবৈষম্য' (Apartheid) নীতি পাকাপোক্ত করছে। তিনি শুধু নিন্দার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপের জন্য আরব দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।
জর্ডানের রাষ্ট্রদূত আমজাদ আল-আদাইলাহ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত হামাদ আল-জাবি পৃথক বিবৃতিতে জানান যে, ইসরায়েলের এই অবৈধ কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক বৈধতা ও জাতিসংঘের প্রস্তাবের পরিপন্থী। তারা বিশেষ করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে ফিলিস্তিনি জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করার দায়িত্ব নিতে অনুরোধ করেন।
১৯৯৫ সালের অসলো চুক্তি অনুযায়ী পশ্চিমতীর তিন ভাগে (এ, বি এবং সি) বিভক্ত। কিন্তু ইসরায়েলের নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা এখন ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রিত 'এ' এবং 'বি' অঞ্চলেও ভবন উচ্ছেদ এবং প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের ক্ষমতা দখল করছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধের সমান্তরালে পশ্চিমতীরেও ইসরায়েলি সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারি তথ্যমতে, এই সময়ে পশ্চিমতীরে ১১১২ জন ফিলিস্তিনি নিহত, ১১,৫০০ জন আহত এবং ২১,০০০-এর বেশি মানুষ গ্রেফতার হয়েছেন। ইসরায়েলের এই সাম্প্রতিক প্রশাসনিক পরিবর্তনকে ফিলিস্তিনিরা পশ্চিমতীরকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রীয় ভূখণ্ডের সাথে যুক্ত করার প্রাথমিক ধাপ হিসেবে দেখছে।

বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
অধিকৃত পশ্চিমতীরে অবৈধ বসতি স্থাপন এবং প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইসরায়েলি মন্ত্রিসভার সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কায়রোতে জরুরি বৈঠকে বসেছে আরব লীগ। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সদস্য রাষ্ট্রগুলো ইসরায়েলের এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনা নস্যাতের অপচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেছে। তারা এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশ্ব সম্প্রদায়ের কার্যকর ও জোরালো পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে।
মিশরের রাজধানী কায়রোতে অবস্থিত আরব লীগের সদর দপ্তরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সভাপতিত্বে এই বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। সম্প্রতি ইসরায়েলি নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা (ক্যাবিনেট) পশ্চিমতীরের আইনি ও প্রশাসনিক কাঠামো পরিবর্তনের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তার প্রেক্ষিতে এই জরুরি বৈঠকের ডাক দেওয়া হয়।
গত রবিবার ইসরায়েলি সরকার পশ্চিমতীরে বসতি স্থাপনকারীদের জমি কেনা ও নিবন্ধনের সুযোগ সহজ করার পাশাপাশি হেব্রন (আল-খলিল) শহরের প্রশাসনিক ক্ষমতা তথাকথিত 'বেসামরিক প্রশাসন'-এর কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়। এর ফলে ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ইব্রাহিমি মসজিদের অবস্থান এবং এর চারপাশের আইনি মর্যাদা হুমকির মুখে পড়েছে।
বৈঠকে আরব লীগের সহকারী মহাসচিব ও ফিলিস্তিন বিষয়ক প্রধান সাফায়দ মোস্তফা বলেন, "ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্তগুলো নজিরবিহীন উস্কানি। এর মাধ্যমে তারা পশ্চিমতীরের বিশাল অংশকে কার্যত দখল করে নিতে চাইছে, যা দুই-রাষ্ট্র সমাধান (Two-State Solution) এর পথকে চিরতরে বন্ধ করে দেবে।"
ফিলিস্তিনি ও আরব প্রতিনিধিদের ক্ষোভ: আরব লীগে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত মোহান্নাদ আল-আকলুক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ইসরায়েল এখন পশ্চিমতীরে 'বর্ণবৈষম্য' (Apartheid) নীতি পাকাপোক্ত করছে। তিনি শুধু নিন্দার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপের জন্য আরব দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।
জর্ডানের রাষ্ট্রদূত আমজাদ আল-আদাইলাহ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত হামাদ আল-জাবি পৃথক বিবৃতিতে জানান যে, ইসরায়েলের এই অবৈধ কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক বৈধতা ও জাতিসংঘের প্রস্তাবের পরিপন্থী। তারা বিশেষ করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে ফিলিস্তিনি জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করার দায়িত্ব নিতে অনুরোধ করেন।
১৯৯৫ সালের অসলো চুক্তি অনুযায়ী পশ্চিমতীর তিন ভাগে (এ, বি এবং সি) বিভক্ত। কিন্তু ইসরায়েলের নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা এখন ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রিত 'এ' এবং 'বি' অঞ্চলেও ভবন উচ্ছেদ এবং প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের ক্ষমতা দখল করছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধের সমান্তরালে পশ্চিমতীরেও ইসরায়েলি সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারি তথ্যমতে, এই সময়ে পশ্চিমতীরে ১১১২ জন ফিলিস্তিনি নিহত, ১১,৫০০ জন আহত এবং ২১,০০০-এর বেশি মানুষ গ্রেফতার হয়েছেন। ইসরায়েলের এই সাম্প্রতিক প্রশাসনিক পরিবর্তনকে ফিলিস্তিনিরা পশ্চিমতীরকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রীয় ভূখণ্ডের সাথে যুক্ত করার প্রাথমিক ধাপ হিসেবে দেখছে।

আপনার মতামত লিখুন