ফ্রান্সের রেহন (Rehon) পৌরসভার বর্তমান কাউন্সিলর এবং আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী অরোরা কাতরামিজ (Aurore Katramiz) তার হিজাব পরিধানকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ অনলাইন বিদ্বেষের শিকার হয়েছেন। দীর্ঘ ছয় বছর জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর আবারও প্রার্থী হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে লক্ষ্য করে উসকানিমূলক ও বর্ণবাদী মন্তব্য করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতির প্রতিকার চেয়ে তিনি দেশটির প্রসিকিউটর অফিসে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ফ্রান্সের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর রেহনের ৩৯ বছর বয়সী হিজাবধারী রাজনীতিক অরোরা কাতরামিজ গত ২০২০ সাল থেকে সফলভাবে মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আগামী ১৫ ও ২২ মার্চ ফ্রান্সে অনুষ্ঠিতব্য দুই দফার স্থানীয় নির্বাচনে তিনি বর্তমান মেয়র জিন-পিয়েরে ওয়েবারের স্বতন্ত্র প্যানেল থেকে আবারও প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
তার এই প্রার্থীপদ ঘোষণার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চরমপন্থি ও বর্ণবাদী গোষ্ঠীগুলো তাকে লক্ষ্য করে বিদ্বেষ ছড়াতে শুরু করে। ফরাসি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কাতরামিজ বলেন, “২০২০ সালে যখন প্রথমবার দায়িত্ব নিই, তখনও সমালোচনা হয়েছিল। কিন্তু এবারের আক্রমণ অতীতের সব মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। এটি এখন সরাসরি ঘৃণায় রূপ নিয়েছে।”
তিনি আরও জানান, আক্রমণকারীরা তাকে ব্যক্তিগতভাবে না চিনেও শুধুমাত্র ধর্মীয় পরিচয় ও হিজাব ব্যবহারের কারণে তাকে অপমানজনক ভাষায় আক্রমণ করছে। কাতরামিজ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তিনি একজন মুসলিম এবং ধর্মীয় বিশ্বাসের জায়গা থেকেই হিজাব পরেন। তার এই ব্যক্তিগত পোশাক বা বিশ্বাস জনপ্রতিনিধি হিসেবে তার যোগ্যতা বা প্রার্থী হওয়ার পথে কোনো আইনি বাধা হতে পারে না।
উল্লেখ্য যে, ফ্রান্সে হিজাব নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক দীর্ঘদিনের হলেও স্থানীয় পর্যায়ে একজন নির্বাচিত প্রতিনিধির ওপর এমন সংগঠিত অনলাইন আক্রমণ দেশটির গণতান্ত্রিক সহনশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। অরোরা কাতরামিজ এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন যেন ভবিষ্যতে অন্য কোনো নারী তার পরিচয়ের কারণে রাজনীতির মাঠে এমন হেনস্তার শিকার না হন।
বিষয় : ফ্রান্স

বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ফ্রান্সের রেহন (Rehon) পৌরসভার বর্তমান কাউন্সিলর এবং আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী অরোরা কাতরামিজ (Aurore Katramiz) তার হিজাব পরিধানকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ অনলাইন বিদ্বেষের শিকার হয়েছেন। দীর্ঘ ছয় বছর জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর আবারও প্রার্থী হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে লক্ষ্য করে উসকানিমূলক ও বর্ণবাদী মন্তব্য করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতির প্রতিকার চেয়ে তিনি দেশটির প্রসিকিউটর অফিসে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ফ্রান্সের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর রেহনের ৩৯ বছর বয়সী হিজাবধারী রাজনীতিক অরোরা কাতরামিজ গত ২০২০ সাল থেকে সফলভাবে মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আগামী ১৫ ও ২২ মার্চ ফ্রান্সে অনুষ্ঠিতব্য দুই দফার স্থানীয় নির্বাচনে তিনি বর্তমান মেয়র জিন-পিয়েরে ওয়েবারের স্বতন্ত্র প্যানেল থেকে আবারও প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
তার এই প্রার্থীপদ ঘোষণার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চরমপন্থি ও বর্ণবাদী গোষ্ঠীগুলো তাকে লক্ষ্য করে বিদ্বেষ ছড়াতে শুরু করে। ফরাসি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কাতরামিজ বলেন, “২০২০ সালে যখন প্রথমবার দায়িত্ব নিই, তখনও সমালোচনা হয়েছিল। কিন্তু এবারের আক্রমণ অতীতের সব মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। এটি এখন সরাসরি ঘৃণায় রূপ নিয়েছে।”
তিনি আরও জানান, আক্রমণকারীরা তাকে ব্যক্তিগতভাবে না চিনেও শুধুমাত্র ধর্মীয় পরিচয় ও হিজাব ব্যবহারের কারণে তাকে অপমানজনক ভাষায় আক্রমণ করছে। কাতরামিজ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তিনি একজন মুসলিম এবং ধর্মীয় বিশ্বাসের জায়গা থেকেই হিজাব পরেন। তার এই ব্যক্তিগত পোশাক বা বিশ্বাস জনপ্রতিনিধি হিসেবে তার যোগ্যতা বা প্রার্থী হওয়ার পথে কোনো আইনি বাধা হতে পারে না।
উল্লেখ্য যে, ফ্রান্সে হিজাব নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক দীর্ঘদিনের হলেও স্থানীয় পর্যায়ে একজন নির্বাচিত প্রতিনিধির ওপর এমন সংগঠিত অনলাইন আক্রমণ দেশটির গণতান্ত্রিক সহনশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। অরোরা কাতরামিজ এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন যেন ভবিষ্যতে অন্য কোনো নারী তার পরিচয়ের কারণে রাজনীতির মাঠে এমন হেনস্তার শিকার না হন।

আপনার মতামত লিখুন