ভারতের হায়দরাবাদে চলন্ত ট্রেনে দাড়ি ও টুপি দেখে এক মুসলিম যুবককে নৃশংসভাবে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। মনমাদ-কাকিনাদা-শিরডি এক্সপ্রেসে সফররত মোহাম্মদ ইমরান নামের ওই যাত্রীকে প্রায় ২০ জন যুবক মিলে আক্রমণ করে। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে তাকে টার্গেট করা হয়েছে বলে ভুক্তভোগী দাবি করেছেন, যা দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
ঘটনাটি ঘটে বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) যখন ট্রেনটি হায়দরাবাদের হাফিজপেট স্টেশনে যাত্রাবিরতি করছিল। ল্যাতুরগামী যাত্রী মোহাম্মদ ইমরান জানান, কোনো উসকানি ছাড়াই একদল যুবক হঠাৎ তাকে ঘিরে ধরে। তার দাড়ি এবং মাথায় থাকা টুপি দেখে আক্রমণকারীরা তাকে লক্ষ্যবস্তু করে এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রক্তাক্ত ও বিধ্বস্ত অবস্থায় ইমরান পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে নিজের অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিচ্ছেন। তিনি বলেন, “ওরা হঠাৎ আমাকে তুলে ধরে মারধর শুরু করে। তাদের আচরণ দেখে মনে হচ্ছিল তারা আমাকে আজ মেরেই ফেলবে।”
ইমরান জানান, ট্রেনের ভেতর আগে থেকেই অন্য একটি বিষয় নিয়ে যুবকদের জটলার মধ্যে তর্কাতর্কি চলছিল। তিনি কেবল সেখানে গিয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলেন কেন তারা মারামারি করছে। এর পরপরই যুবকদের দলটি তার ধর্মীয় প্রতীক (দাড়ি ও টুপি) লক্ষ্য করে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। ইমরানের সাথে থাকা তার এক বন্ধু তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাকেও নির্মমভাবে পেটানো হয়।
বর্তমানে ইমরান চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তিনি জানিয়েছেন যে তিনি আক্রমণকারীদের শনাক্ত করতে পারবেন। রেলওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক গ্রেফতারের খবর পাওয়া যায়নি।
মানবাধিকার কর্মীদের মতে, গণপরিবহনে বা পাবলিক প্লেসে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে এ ধরনের পরিকল্পিত হামলা ভারতের সামাজিক সম্প্রীতির জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক উত্তাপ এবং বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের প্রভাবে সংখ্যালঘুরা ক্রমাগত নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
বিষয় : ভারত

বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ভারতের হায়দরাবাদে চলন্ত ট্রেনে দাড়ি ও টুপি দেখে এক মুসলিম যুবককে নৃশংসভাবে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। মনমাদ-কাকিনাদা-শিরডি এক্সপ্রেসে সফররত মোহাম্মদ ইমরান নামের ওই যাত্রীকে প্রায় ২০ জন যুবক মিলে আক্রমণ করে। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে তাকে টার্গেট করা হয়েছে বলে ভুক্তভোগী দাবি করেছেন, যা দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
ঘটনাটি ঘটে বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) যখন ট্রেনটি হায়দরাবাদের হাফিজপেট স্টেশনে যাত্রাবিরতি করছিল। ল্যাতুরগামী যাত্রী মোহাম্মদ ইমরান জানান, কোনো উসকানি ছাড়াই একদল যুবক হঠাৎ তাকে ঘিরে ধরে। তার দাড়ি এবং মাথায় থাকা টুপি দেখে আক্রমণকারীরা তাকে লক্ষ্যবস্তু করে এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রক্তাক্ত ও বিধ্বস্ত অবস্থায় ইমরান পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে নিজের অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিচ্ছেন। তিনি বলেন, “ওরা হঠাৎ আমাকে তুলে ধরে মারধর শুরু করে। তাদের আচরণ দেখে মনে হচ্ছিল তারা আমাকে আজ মেরেই ফেলবে।”
ইমরান জানান, ট্রেনের ভেতর আগে থেকেই অন্য একটি বিষয় নিয়ে যুবকদের জটলার মধ্যে তর্কাতর্কি চলছিল। তিনি কেবল সেখানে গিয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলেন কেন তারা মারামারি করছে। এর পরপরই যুবকদের দলটি তার ধর্মীয় প্রতীক (দাড়ি ও টুপি) লক্ষ্য করে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। ইমরানের সাথে থাকা তার এক বন্ধু তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাকেও নির্মমভাবে পেটানো হয়।
বর্তমানে ইমরান চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তিনি জানিয়েছেন যে তিনি আক্রমণকারীদের শনাক্ত করতে পারবেন। রেলওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক গ্রেফতারের খবর পাওয়া যায়নি।
মানবাধিকার কর্মীদের মতে, গণপরিবহনে বা পাবলিক প্লেসে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে এ ধরনের পরিকল্পিত হামলা ভারতের সামাজিক সম্প্রীতির জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক উত্তাপ এবং বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের প্রভাবে সংখ্যালঘুরা ক্রমাগত নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

আপনার মতামত লিখুন