বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ২৯৭টি আসনের ফলাফল চূড়ান্ত করে গেজেট প্রকাশের প্রস্তুতি নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। প্রাথমিক গণনা অনুযায়ী ভোটের হার দাঁড়িয়েছে ৫৯.৪৪ শতাংশ। দুইটি আসনের ফল ঘোষণা স্থগিত রাখা হয়েছে এবং একটি আসনে প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ভোটগ্রহণ হয়নি।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সারাদেশে ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে কমিশন।
কমিশন সচিব জানিয়েছেন, প্রাথমিক গণনা শেষে এবারের নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের হার ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ। বিচ্ছিন্ন কিছু অনিয়ম ও ছোটখাটো ঘটনার তথ্য পাওয়া গেলেও বড় ধরনের সহিংসতা বা অস্থিতিশীলতার খবর পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছে নির্বাচন প্রশাসন।
৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৭টির ফলাফল চূড়ান্ত করে তা আজ গেজেট আকারে প্রকাশের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। তবে চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফল ঘোষণা আপাতত স্থগিত থাকবে বলে আগেই জানানো হয়েছিল। অন্যদিকে শেরপুর-৩ আসনে এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে পূর্বনির্ধারিত সময়েই ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়।
প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে দল ও জোটগুলোর আসন সংখ্যা নিম্নরূপ:
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) — ২০৯টি
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী — ৬৮টি
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) — ৬টি
স্বতন্ত্র প্রার্থী — ৭টি
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস — ২টি
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ — ১টি
গণঅধিকার পরিষদ — ১টি
বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) — ১টি
গণসংহতি আন্দোলন — ১টি
খেলাফত মজলিস — ১টি
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। প্রায় ১৮ মাস পর সেই সরকারের অধীনেই এই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো।
নির্বাচন সুষ্ঠু রাখতে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব ও পুলিশের সমন্বয়ে বহুস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়। বিদেশি পর্যবেক্ষকরা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে সামগ্রিকভাবে ‘সন্তোষজনক’ বলে অভিহিত করেছেন বলে কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে।
ভোটগ্রহণ শেষে রাজধানীর গুলশানে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বলেন,
“আজকের দিনটি নতুন বাংলাদেশের জন্মদিন। মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে আগামীর বাংলাদেশ গড়বে।”
বিশ্লেষণাত্মক দৃষ্টিকোণ
৫৯.৪৪ শতাংশ ভোটার উপস্থিতি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক নির্বাচনী ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। রাজনৈতিক অস্থিরতার পর এই নির্বাচনকে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার পরীক্ষাস্বরূপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে স্থগিত আসনগুলোর চূড়ান্ত ফলাফল এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশের পর নির্বাচনের সামগ্রিক মূল্যায়ন আরও স্পষ্ট হবে বলে বিশ্লেষকদের মত।

রোববার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ২৯৭টি আসনের ফলাফল চূড়ান্ত করে গেজেট প্রকাশের প্রস্তুতি নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। প্রাথমিক গণনা অনুযায়ী ভোটের হার দাঁড়িয়েছে ৫৯.৪৪ শতাংশ। দুইটি আসনের ফল ঘোষণা স্থগিত রাখা হয়েছে এবং একটি আসনে প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ভোটগ্রহণ হয়নি।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সারাদেশে ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে কমিশন।
কমিশন সচিব জানিয়েছেন, প্রাথমিক গণনা শেষে এবারের নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের হার ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ। বিচ্ছিন্ন কিছু অনিয়ম ও ছোটখাটো ঘটনার তথ্য পাওয়া গেলেও বড় ধরনের সহিংসতা বা অস্থিতিশীলতার খবর পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছে নির্বাচন প্রশাসন।
৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৭টির ফলাফল চূড়ান্ত করে তা আজ গেজেট আকারে প্রকাশের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। তবে চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফল ঘোষণা আপাতত স্থগিত থাকবে বলে আগেই জানানো হয়েছিল। অন্যদিকে শেরপুর-৩ আসনে এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে পূর্বনির্ধারিত সময়েই ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়।
প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে দল ও জোটগুলোর আসন সংখ্যা নিম্নরূপ:
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) — ২০৯টি
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী — ৬৮টি
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) — ৬টি
স্বতন্ত্র প্রার্থী — ৭টি
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস — ২টি
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ — ১টি
গণঅধিকার পরিষদ — ১টি
বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) — ১টি
গণসংহতি আন্দোলন — ১টি
খেলাফত মজলিস — ১টি
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। প্রায় ১৮ মাস পর সেই সরকারের অধীনেই এই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো।
নির্বাচন সুষ্ঠু রাখতে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব ও পুলিশের সমন্বয়ে বহুস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়। বিদেশি পর্যবেক্ষকরা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে সামগ্রিকভাবে ‘সন্তোষজনক’ বলে অভিহিত করেছেন বলে কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে।
ভোটগ্রহণ শেষে রাজধানীর গুলশানে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বলেন,
“আজকের দিনটি নতুন বাংলাদেশের জন্মদিন। মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে আগামীর বাংলাদেশ গড়বে।”
বিশ্লেষণাত্মক দৃষ্টিকোণ
৫৯.৪৪ শতাংশ ভোটার উপস্থিতি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক নির্বাচনী ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। রাজনৈতিক অস্থিরতার পর এই নির্বাচনকে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার পরীক্ষাস্বরূপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে স্থগিত আসনগুলোর চূড়ান্ত ফলাফল এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশের পর নির্বাচনের সামগ্রিক মূল্যায়ন আরও স্পষ্ট হবে বলে বিশ্লেষকদের মত।

আপনার মতামত লিখুন