রোববার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রোববার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কওমী টাইমস

আঞ্চলিক উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে 'উইন-উইন' নীতি অনুসরণের আহ্বান তালেবান প্রশাসনের

যুদ্ধ ও হস্তক্ষেপ কারও জন্য কল্যাণ বয়ে আনে না: আফগান উপ-প্রধানমন্ত্রী


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

যুদ্ধ ও হস্তক্ষেপ কারও জন্য কল্যাণ বয়ে আনে না: আফগান উপ-প্রধানমন্ত্রী

আফগানিস্তানের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বিশ্ব সম্প্রদায়ের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। কাবুলে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রীদ্বয় সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, যুদ্ধ এবং একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ কোনো পক্ষের জন্যই সুফল আনে না। বরং গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমেই আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা অর্জন সম্ভব।

আফগানিস্তানের ইসলামিক আমিরাতের উপ-প্রধানমন্ত্রী (অর্থনৈতিক বিষয়ক) মোল্লা আব্দুল গনি বারাদার এবং প্রশাসনিক বিষয়ক উপ-প্রধানমন্ত্রী আব্দুল সালাম হানাফি বৃহস্পতিবার কাবুলে এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে দেশের পররাষ্ট্র ও অভ্যন্তরীণ নীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

মোল্লা আব্দুল গনি বারাদার তার বক্তব্যে বলেন, "আফগানিস্তানের সাথে ইতিবাচক সম্পৃক্ততা বজায় রাখা বর্তমানে সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সংযোগ শক্তিশালী করা এবং অভিন্ন উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অনুসরণ করা এখন অপরিহার্য।" তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে, এই বাস্তবতাকে অস্বীকার করলে তা কেবল উন্নয়নের সম্ভাবনাকেই নষ্ট করবে। রাজনৈতিক এজেন্ডার বলি হয়ে কোনো দেশেরই উচিত নয় এই আঞ্চলিক কানেক্টিভিটির সুযোগ হারানো।

অতীতের কথা উল্লেখ করে বারাদার জানান, আফগানিস্তান এক সময় জাতিগত ও আঞ্চলিক রাজনৈতিক মেরুকরণে বিভক্ত ছিল। তবে বর্তমান সরকার সব আফগানকে একটি একক ইসলামিক ও জাতীয় মঞ্চে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করছে। তিনি দাবি করেন, ইসলামিক আমিরাত ক্ষুদ্র কোনো বিষয়কে বড় করে দেখে কাউকে বাধাগ্রস্ত করার নীতিতে বিশ্বাসী নয়।

একই অনুষ্ঠানে প্রশাসনিক উপ-প্রধানমন্ত্রী আব্দুল সালাম হানাফি প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সম্পর্কের টানাপোড়েন নিরসনে গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, "যুদ্ধ এবং অন্যের বিষয়ে হস্তক্ষেপ কারও উপকারে আসে না। আমাদের উচিত 'উইন-উইন' (সবার জয়) পদ্ধতিতে সামনে এগিয়ে যাওয়া, 'উইন-লুজ' (একপক্ষের জয়, অন্যপক্ষের হার) পদ্ধতিতে নয়। হার-জিতের এই কৌশল কখনোই ইতিবাচক ফল দেয়নি।"

বিশেষ করে পাকিস্তান ও অন্যান্য প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে হানাফির এই বক্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন যে, আফগানিস্তান তাদের কোনো প্রতিবেশীর সাথেই শত্রুতা চায় না, বরং পারস্পরিক উন্নয়নে আগ্রহী।

উপস্থিত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা একমত হন যে, আফগানিস্তান এখন আর কোনো দেশের জন্য ভয়ের কারণ নয়, বরং তারা বিশ্ব দরবারে একটি দায়িত্বশীল অংশীদার হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে বদ্ধপরিকর।

বিষয় : আফগানিস্তান

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

রোববার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


যুদ্ধ ও হস্তক্ষেপ কারও জন্য কল্যাণ বয়ে আনে না: আফগান উপ-প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

আফগানিস্তানের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বিশ্ব সম্প্রদায়ের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। কাবুলে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রীদ্বয় সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, যুদ্ধ এবং একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ কোনো পক্ষের জন্যই সুফল আনে না। বরং গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমেই আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা অর্জন সম্ভব।

আফগানিস্তানের ইসলামিক আমিরাতের উপ-প্রধানমন্ত্রী (অর্থনৈতিক বিষয়ক) মোল্লা আব্দুল গনি বারাদার এবং প্রশাসনিক বিষয়ক উপ-প্রধানমন্ত্রী আব্দুল সালাম হানাফি বৃহস্পতিবার কাবুলে এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে দেশের পররাষ্ট্র ও অভ্যন্তরীণ নীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

মোল্লা আব্দুল গনি বারাদার তার বক্তব্যে বলেন, "আফগানিস্তানের সাথে ইতিবাচক সম্পৃক্ততা বজায় রাখা বর্তমানে সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সংযোগ শক্তিশালী করা এবং অভিন্ন উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অনুসরণ করা এখন অপরিহার্য।" তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে, এই বাস্তবতাকে অস্বীকার করলে তা কেবল উন্নয়নের সম্ভাবনাকেই নষ্ট করবে। রাজনৈতিক এজেন্ডার বলি হয়ে কোনো দেশেরই উচিত নয় এই আঞ্চলিক কানেক্টিভিটির সুযোগ হারানো।

অতীতের কথা উল্লেখ করে বারাদার জানান, আফগানিস্তান এক সময় জাতিগত ও আঞ্চলিক রাজনৈতিক মেরুকরণে বিভক্ত ছিল। তবে বর্তমান সরকার সব আফগানকে একটি একক ইসলামিক ও জাতীয় মঞ্চে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করছে। তিনি দাবি করেন, ইসলামিক আমিরাত ক্ষুদ্র কোনো বিষয়কে বড় করে দেখে কাউকে বাধাগ্রস্ত করার নীতিতে বিশ্বাসী নয়।

একই অনুষ্ঠানে প্রশাসনিক উপ-প্রধানমন্ত্রী আব্দুল সালাম হানাফি প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সম্পর্কের টানাপোড়েন নিরসনে গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, "যুদ্ধ এবং অন্যের বিষয়ে হস্তক্ষেপ কারও উপকারে আসে না। আমাদের উচিত 'উইন-উইন' (সবার জয়) পদ্ধতিতে সামনে এগিয়ে যাওয়া, 'উইন-লুজ' (একপক্ষের জয়, অন্যপক্ষের হার) পদ্ধতিতে নয়। হার-জিতের এই কৌশল কখনোই ইতিবাচক ফল দেয়নি।"

বিশেষ করে পাকিস্তান ও অন্যান্য প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে হানাফির এই বক্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন যে, আফগানিস্তান তাদের কোনো প্রতিবেশীর সাথেই শত্রুতা চায় না, বরং পারস্পরিক উন্নয়নে আগ্রহী।

উপস্থিত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা একমত হন যে, আফগানিস্তান এখন আর কোনো দেশের জন্য ভয়ের কারণ নয়, বরং তারা বিশ্ব দরবারে একটি দায়িত্বশীল অংশীদার হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে বদ্ধপরিকর।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মুস্তাইন বিল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত