সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
কওমী টাইমস

রমজানের শেষ জুমায় কাশ্মীরের প্রধান মসজিদে তালা, ধর্মীয় অধিকার ক্ষুণ্ণ হওয়ার অভিযোগে ক্ষোভ।

শ্রীনগরের ঐতিহাসিক জামে মসজিদে জুমাতুল বিদা’র নামাজে নিষেধাজ্ঞা



শ্রীনগরের ঐতিহাসিক জামে মসজিদে জুমাতুল বিদা’র নামাজে নিষেধাজ্ঞা

পবিত্র রমজান মাসের শেষ শুক্রবার বা জুমাতুল বিদা উপলক্ষে কাশ্মীরের ঐতিহাসিক জামে মসজিদে মুসলিমদের সমবেত হতে বাধা দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলার অজুহাত দেখিয়ে মসজিদের প্রবেশদ্বার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং অল পার্টিস হুররিয়াত কনফারেন্সের চেয়ারম্যান মীরওয়াইজ উমর ফারুককে নিজ বাসভবনে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে।

জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো দীর্ঘ বিবৃতি পাওয়া না গেলেও, আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে শ্রীনগরের স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সরকারি সূত্রের ইঙ্গিত অনুযায়ী, জুমাতুল বিদা এবং 'ইয়াওমুল কুদস' (ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি দিবস) একই দিনে হওয়ায় বড় ধরনের জনসমাগম থেকে রাজনৈতিক অস্থিরতা বা বিক্ষোভের আশঙ্কা করে এই আগাম সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংবাদ সংস্থা 'ইন্দো-এশিয়ান নিউজ সার্ভিস'-এর শেয়ার করা চিত্রে দেখা যায়, মসজিদের আশেপাশে বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং ব্যারিকেড দিয়ে পথ অবরুদ্ধ করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানোই তাদের মূল লক্ষ্য।

পবিত্র রমজানের বিদায়ী জুমায় অংশ নিতে কাশ্মীরের দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার মুসল্লি শ্রীনগরের ঐতিহাসিক জামে মসজিদে সমবেত হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ইসলামি ক্যালেন্ডারে জুমাতুল বিদা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ দিন। তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও মসজিদ কমিটি জানিয়েছে, এদিন সকাল থেকেই মসজিদের প্রধান ফটকগুলোতে তালা ঝুলিয়ে দেয় নিরাপত্তা বাহিনী।

অল পার্টিস হুররিয়াত কনফারেন্সের চেয়ারম্যান এবং জামে মসজিদের খতিব মীরওয়াইজ উমর ফারুকের আজ সেখানে খুতবা দেওয়ার কথা ছিল। তবে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'এক্স'-এ (সাবেক টুইটার) জানিয়েছেন যে, তাকে পুনরায় গৃহবন্দী করা হয়েছে। মীরওয়াইজ তার পোস্টে মসজিদের তালাবদ্ধ গেটের ছবি শেয়ার করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি এই নিষেধাজ্ঞাকে ফিলিস্তিনের আল-আকসা মসজিদে ইসরায়েলি বাহিনীর বিধি-নিষেধের সঙ্গে তুলনা করেন।

তিনি লেখেন, "পবিত্র রমজানের শেষ শুক্রবারে, যখন শহর ও গ্রাম থেকে হাজার হাজার মানুষ দোয়া ও ইবাদতের জন্য ঐতিহাসিক জামে মসজিদে সমবেত হন, তখন আবারও এর চারপাশের গেটগুলো তালাবদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে।" স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, গত কয়েক বছর ধরে জুমাতুল বিদার দিনে এই ঐতিহাসিক মসজিদে নামাজ আদায়ের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

ধর্মীয় স্বাধীনতা প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার, কোনো সুনির্দিষ্ট সহিংসতা বা জরুরি কারণ ছাড়া বারবার একটি ঐতিহাসিক ইবাদতখানায় সম্মিলিত নামাজে বাধা দেওয়া নাগরিক অধিকারের পরিপন্থী বলে মনে করেন আইন বিশেষজ্ঞরা। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইতিপূর্বেও কাশ্মীরে ধর্মীয় ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর কঠোর বিধিনিষেধের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে দীর্ঘস্থায়ীভাবে ইবাদতে বাধা দেওয়া ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার পাশাপাশি সামাজিক অসন্তোষ আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। প্রশাসনের উচিত স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং নাগরিকদের ধর্মীয় আচার পালনে সর্বোচ্চ সহযোগিতা নিশ্চিত করা। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের ধর্মীয় অধিকার সুরক্ষা এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রধান শর্ত। মুসলিম উম্মাহর জন্য অত্যন্ত আবেগ ও তাৎপর্যের এই দিনে এমন কঠোর ব্যবস্থা কাশ্মীরের সাধারণ মানুষের মধ্যে বঞ্চনার বোধ আরও গভীর করছে।

বিষয় : জম্মু কাশ্মীর

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬


শ্রীনগরের ঐতিহাসিক জামে মসজিদে জুমাতুল বিদা’র নামাজে নিষেধাজ্ঞা

প্রকাশের তারিখ : ১৩ মার্চ ২০২৬

featured Image

পবিত্র রমজান মাসের শেষ শুক্রবার বা জুমাতুল বিদা উপলক্ষে কাশ্মীরের ঐতিহাসিক জামে মসজিদে মুসলিমদের সমবেত হতে বাধা দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলার অজুহাত দেখিয়ে মসজিদের প্রবেশদ্বার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং অল পার্টিস হুররিয়াত কনফারেন্সের চেয়ারম্যান মীরওয়াইজ উমর ফারুককে নিজ বাসভবনে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে।

জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো দীর্ঘ বিবৃতি পাওয়া না গেলেও, আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে শ্রীনগরের স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সরকারি সূত্রের ইঙ্গিত অনুযায়ী, জুমাতুল বিদা এবং 'ইয়াওমুল কুদস' (ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি দিবস) একই দিনে হওয়ায় বড় ধরনের জনসমাগম থেকে রাজনৈতিক অস্থিরতা বা বিক্ষোভের আশঙ্কা করে এই আগাম সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংবাদ সংস্থা 'ইন্দো-এশিয়ান নিউজ সার্ভিস'-এর শেয়ার করা চিত্রে দেখা যায়, মসজিদের আশেপাশে বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং ব্যারিকেড দিয়ে পথ অবরুদ্ধ করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানোই তাদের মূল লক্ষ্য।

পবিত্র রমজানের বিদায়ী জুমায় অংশ নিতে কাশ্মীরের দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার মুসল্লি শ্রীনগরের ঐতিহাসিক জামে মসজিদে সমবেত হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ইসলামি ক্যালেন্ডারে জুমাতুল বিদা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ দিন। তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও মসজিদ কমিটি জানিয়েছে, এদিন সকাল থেকেই মসজিদের প্রধান ফটকগুলোতে তালা ঝুলিয়ে দেয় নিরাপত্তা বাহিনী।

অল পার্টিস হুররিয়াত কনফারেন্সের চেয়ারম্যান এবং জামে মসজিদের খতিব মীরওয়াইজ উমর ফারুকের আজ সেখানে খুতবা দেওয়ার কথা ছিল। তবে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'এক্স'-এ (সাবেক টুইটার) জানিয়েছেন যে, তাকে পুনরায় গৃহবন্দী করা হয়েছে। মীরওয়াইজ তার পোস্টে মসজিদের তালাবদ্ধ গেটের ছবি শেয়ার করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি এই নিষেধাজ্ঞাকে ফিলিস্তিনের আল-আকসা মসজিদে ইসরায়েলি বাহিনীর বিধি-নিষেধের সঙ্গে তুলনা করেন।

তিনি লেখেন, "পবিত্র রমজানের শেষ শুক্রবারে, যখন শহর ও গ্রাম থেকে হাজার হাজার মানুষ দোয়া ও ইবাদতের জন্য ঐতিহাসিক জামে মসজিদে সমবেত হন, তখন আবারও এর চারপাশের গেটগুলো তালাবদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে।" স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, গত কয়েক বছর ধরে জুমাতুল বিদার দিনে এই ঐতিহাসিক মসজিদে নামাজ আদায়ের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

ধর্মীয় স্বাধীনতা প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার, কোনো সুনির্দিষ্ট সহিংসতা বা জরুরি কারণ ছাড়া বারবার একটি ঐতিহাসিক ইবাদতখানায় সম্মিলিত নামাজে বাধা দেওয়া নাগরিক অধিকারের পরিপন্থী বলে মনে করেন আইন বিশেষজ্ঞরা। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইতিপূর্বেও কাশ্মীরে ধর্মীয় ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর কঠোর বিধিনিষেধের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে দীর্ঘস্থায়ীভাবে ইবাদতে বাধা দেওয়া ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার পাশাপাশি সামাজিক অসন্তোষ আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। প্রশাসনের উচিত স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং নাগরিকদের ধর্মীয় আচার পালনে সর্বোচ্চ সহযোগিতা নিশ্চিত করা। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের ধর্মীয় অধিকার সুরক্ষা এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রধান শর্ত। মুসলিম উম্মাহর জন্য অত্যন্ত আবেগ ও তাৎপর্যের এই দিনে এমন কঠোর ব্যবস্থা কাশ্মীরের সাধারণ মানুষের মধ্যে বঞ্চনার বোধ আরও গভীর করছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত