শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬
শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬
কওমী টাইমস

বেসামরিক স্থাপনায় হামলার অভিযোগ আফগানিস্তানের, ইসলামাবাদ বলছে লক্ষ্যবস্তু ছিল 'সন্ত্রাসবাদী অবকাঠামো'

কাবুলে মাদক নিরাময় কেন্দ্রে পাকিস্তানের ভয়াবহ বিমান হামলা: নিহত অন্তত ৪০০



কাবুলে মাদক নিরাময় কেন্দ্রে পাকিস্তানের ভয়াবহ বিমান হামলা: নিহত অন্তত ৪০০

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে একটি বড় মাদক নিরাময় কেন্দ্রে পাকিস্তানের ভয়াবহ বিমান হামলায় অন্তত ৪০০ জন নিহত হয়েছেন। সোমবার রাতের এই হামলায় নিরাময় কেন্দ্রটির বিশাল অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। আফগান কর্তৃপক্ষ একে 'মানবতাবিরোধী অপরাধ' হিসেবে অভিহিত করলেও পাকিস্তান দাবি করেছে, তারা নির্দিষ্ট সন্ত্রাসী আস্তানা লক্ষ্য করে এই অভিযান চালিয়েছে।

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে অবস্থিত ২,০০০ শয্যাবিশিষ্ট 'ওমিদ মাদকাসক্তি নিরাময় হাসপাতালে' সোমবার রাত প্রায় ৯টার দিকে পাকিস্তান বিমান বাহিনী হামলা চালায় বলে নিশ্চিত করেছেন আফগান সরকারের উপ-মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তিনি জানান, এই হামলায় এখন পর্যন্ত ৪০০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং প্রায় ২৫০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। উদ্ধারকারী দলগুলো এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে তল্লাশি চালাচ্ছে, ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আফগান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, "এটি আন্তর্জাতিক সমস্ত নীতিমালার পরিপন্থী এবং একটি জঘন্য মানবতাবিরোধী অপরাধ।" তিনি অভিযোগ করেন, পাকিস্তান ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে আফগানিস্তানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে।

অন্যদিকে, পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় কাবুলের এই অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। ইসলামাবাদের দাবি, তাদের লক্ষ্যবস্তু কোনো হাসপাতাল ছিল না, বরং তারা কাবুল ও নানগারহার প্রদেশে অবস্থিত আফগান তালেবান এবং 'ফিতনা আল-খাওয়ারিজ'-এর সামরিক স্থাপনা, প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম ও গোলাবারুদ গুদামে নিখুঁতভাবে হামলা চালিয়েছে। পাকিস্তানের দাবি অনুযায়ী, হামলার পর সেখানে থাকা গোলাবারুদের বিস্ফোরণই প্রমাণ করে যে সেটি কোনো সাধারণ চিকিৎসা কেন্দ্র ছিল না।

গত মাস থেকে আফগানিস্তান ও পাকিস্তান সীমান্তে উত্তেজনা বৃদ্ধির পর দুই দেশের সম্পর্ক চরম অবনতির দিকে মোড় নিয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সীমান্ত সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ১০৭ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। জাতিসংঘ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আকাশপথে হামলা ও গোলাগুলিতে আফগানিস্তানে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। বর্তমান এই হামলা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে আরও হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

বিষয় : আফগানিস্তান

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬


কাবুলে মাদক নিরাময় কেন্দ্রে পাকিস্তানের ভয়াবহ বিমান হামলা: নিহত অন্তত ৪০০

প্রকাশের তারিখ : ১৭ মার্চ ২০২৬

featured Image

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে একটি বড় মাদক নিরাময় কেন্দ্রে পাকিস্তানের ভয়াবহ বিমান হামলায় অন্তত ৪০০ জন নিহত হয়েছেন। সোমবার রাতের এই হামলায় নিরাময় কেন্দ্রটির বিশাল অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। আফগান কর্তৃপক্ষ একে 'মানবতাবিরোধী অপরাধ' হিসেবে অভিহিত করলেও পাকিস্তান দাবি করেছে, তারা নির্দিষ্ট সন্ত্রাসী আস্তানা লক্ষ্য করে এই অভিযান চালিয়েছে।

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে অবস্থিত ২,০০০ শয্যাবিশিষ্ট 'ওমিদ মাদকাসক্তি নিরাময় হাসপাতালে' সোমবার রাত প্রায় ৯টার দিকে পাকিস্তান বিমান বাহিনী হামলা চালায় বলে নিশ্চিত করেছেন আফগান সরকারের উপ-মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তিনি জানান, এই হামলায় এখন পর্যন্ত ৪০০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং প্রায় ২৫০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। উদ্ধারকারী দলগুলো এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে তল্লাশি চালাচ্ছে, ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আফগান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, "এটি আন্তর্জাতিক সমস্ত নীতিমালার পরিপন্থী এবং একটি জঘন্য মানবতাবিরোধী অপরাধ।" তিনি অভিযোগ করেন, পাকিস্তান ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে আফগানিস্তানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে।

অন্যদিকে, পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় কাবুলের এই অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। ইসলামাবাদের দাবি, তাদের লক্ষ্যবস্তু কোনো হাসপাতাল ছিল না, বরং তারা কাবুল ও নানগারহার প্রদেশে অবস্থিত আফগান তালেবান এবং 'ফিতনা আল-খাওয়ারিজ'-এর সামরিক স্থাপনা, প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম ও গোলাবারুদ গুদামে নিখুঁতভাবে হামলা চালিয়েছে। পাকিস্তানের দাবি অনুযায়ী, হামলার পর সেখানে থাকা গোলাবারুদের বিস্ফোরণই প্রমাণ করে যে সেটি কোনো সাধারণ চিকিৎসা কেন্দ্র ছিল না।

গত মাস থেকে আফগানিস্তান ও পাকিস্তান সীমান্তে উত্তেজনা বৃদ্ধির পর দুই দেশের সম্পর্ক চরম অবনতির দিকে মোড় নিয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সীমান্ত সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ১০৭ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। জাতিসংঘ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আকাশপথে হামলা ও গোলাগুলিতে আফগানিস্তানে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। বর্তমান এই হামলা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে আরও হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত