শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬
শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬
কওমী টাইমস

নাম জিজ্ঞেস করে হিন্দু ছাত্রদের সরিয়ে দিয়ে দুই মুসলিম শিক্ষার্থীকে স্ক্রু-ড্রাইভার ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করার অভিযোগ

দিল্লীর উত্তর-পূর্বাঞ্চলে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী মুসলিম ছাত্রদের ওপর বর্বরোচিত হামলা



দিল্লীর উত্তর-পূর্বাঞ্চলে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী মুসলিম ছাত্রদের ওপর বর্বরোচিত হামলা

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মুস্তাফাবাদ এলাকায় উচ্চমাধ্যমিক (Class 12) বোর্ড পরীক্ষা দিয়ে ফেরার পথে উগ্রবাদী গোষ্ঠীর হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন দুই মুসলিম শিক্ষার্থী। রোজা রেখে পরীক্ষা শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে কেবল ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে তাদের ওপর এই নৃশংসতা চালানো হয় বলে ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করেছে। এই ঘটনা রাজধানীর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসন এবং স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, অভিযুক্ত হামলাকারীরা ভুক্তভোগী ছাত্রদের পথরোধ করে প্রথমে তাদের নাম জিজ্ঞেস করেছিল। দাবি করা হচ্ছে, হামলাকারীরা শিক্ষার্থীদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর কেবল মুসলিম ছাত্রদের লক্ষ্যবস্তু বানায়। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক উস্কানিমূলক বা ঘৃণ্য অপরাধের ধারা যুক্ত করার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি। উগ্রবাদী গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো বক্তব্য পাওয়া না গেলেও, প্রাথমিক তদন্তে এটিকে সাধারণ হাতাহাতি হিসেবে দেখানোর একটি প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। তবে প্রত্যক্ষদর্শী হিন্দু সহপাঠীদের বক্তব্য অনুযায়ী, আক্রমণকারীরা পরিকল্পিতভাবে মুসলিম ছাত্রদের আলাদা করে হামলা চালিয়েছে, যা নিছক কাকতালীয় ঘটনা হওয়ার দাবিকে দুর্বল করে দেয়।

গত ১৬ মার্চ ২০২৬, সোমবার দুপুরে উত্তর-পূর্ব দিল্লীর তুখমিরপুর এলাকার একটি সরকারি স্কুলের সামনে এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী দুই ছাত্রের নাম মোহাম্মদ ফাইজুন (১৭) এবং তার বন্ধু (যার নামও ফাইজুন)। তারা দুজনই তুখমিরপুরের একটি সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বোর্ড পরীক্ষা দিয়ে বের হয়েছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবারের বর্ণনা অনুযায়ী, ১৭ বছর বয়সী ফাইজুন সেই সময় রোজা ছিলেন এবং তার মাথায় টুপি ছিল। জোহরের নামাজ শেষ করে তিনি যখন বন্ধুদের সাথে বাড়ি ফিরছিলেন, তখন একদল যুবক তাদের গতিরোধ করে।

হামলাকারীরা প্রথমে ছাত্রদের নাম জিজ্ঞেস করে। দলে থাকা হিন্দু ছাত্রদের শনাক্ত করার পর তাদের ধাওয়া দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর দুই ফাইজুনকে একা পেয়ে লাঠি, ঘুঁষি এবং স্ক্রু-ড্রাইভার দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করা হয়। মোহাম্মদ ফাইজুনের মাথা একটি দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের সাথে সজোরে আঘাত করা হলে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তার নাক ফেটে যায় এবং ঠোঁটে একাধিক সেলাই দিতে হয়েছে।

ফাইজুনের ভাই মোহাম্মদ রশিদ জানান, "আমার ভাই রোজা রাখা অবস্থায় পরীক্ষা দিতে গিয়েছিল। তার অপরাধ ছিল সে টুপি পরা ছিল। মারধরের পর তার নাক দিয়ে রক্তক্ষরণ বন্ধ হচ্ছিল না। সে ঈদের জন্য নতুন পোশাক কেনার পরিকল্পনায় ছিল, অথচ এখন সে ব্যথায় বিছানায় পড়ে আছে।" ফাইজুনের মা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন, কারণ সম্প্রতি দিল্লীতে মুসলিমদের ওপর ধারাবাহিক হামলার সংবাদে তারা এমনিতেই আতঙ্কিত ছিলেন। বর্তমানে গুরুতর আহত ফাইজুন তার পরবর্তী পরীক্ষাগুলো দেওয়া নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, যখন কাউকে নির্দিষ্ট ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে আলাদা করে আক্রমণ করা হয়, তখন সেটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের চরম লঙ্ঘন।

শান্তি ও সহাবস্থানের স্বার্থে এই বর্বরোচিত হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিই কেবল ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারে।

বিষয় : ভারত

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬


দিল্লীর উত্তর-পূর্বাঞ্চলে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী মুসলিম ছাত্রদের ওপর বর্বরোচিত হামলা

প্রকাশের তারিখ : ২১ মার্চ ২০২৬

featured Image

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মুস্তাফাবাদ এলাকায় উচ্চমাধ্যমিক (Class 12) বোর্ড পরীক্ষা দিয়ে ফেরার পথে উগ্রবাদী গোষ্ঠীর হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন দুই মুসলিম শিক্ষার্থী। রোজা রেখে পরীক্ষা শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে কেবল ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে তাদের ওপর এই নৃশংসতা চালানো হয় বলে ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করেছে। এই ঘটনা রাজধানীর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসন এবং স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, অভিযুক্ত হামলাকারীরা ভুক্তভোগী ছাত্রদের পথরোধ করে প্রথমে তাদের নাম জিজ্ঞেস করেছিল। দাবি করা হচ্ছে, হামলাকারীরা শিক্ষার্থীদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর কেবল মুসলিম ছাত্রদের লক্ষ্যবস্তু বানায়। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক উস্কানিমূলক বা ঘৃণ্য অপরাধের ধারা যুক্ত করার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি। উগ্রবাদী গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো বক্তব্য পাওয়া না গেলেও, প্রাথমিক তদন্তে এটিকে সাধারণ হাতাহাতি হিসেবে দেখানোর একটি প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। তবে প্রত্যক্ষদর্শী হিন্দু সহপাঠীদের বক্তব্য অনুযায়ী, আক্রমণকারীরা পরিকল্পিতভাবে মুসলিম ছাত্রদের আলাদা করে হামলা চালিয়েছে, যা নিছক কাকতালীয় ঘটনা হওয়ার দাবিকে দুর্বল করে দেয়।

গত ১৬ মার্চ ২০২৬, সোমবার দুপুরে উত্তর-পূর্ব দিল্লীর তুখমিরপুর এলাকার একটি সরকারি স্কুলের সামনে এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী দুই ছাত্রের নাম মোহাম্মদ ফাইজুন (১৭) এবং তার বন্ধু (যার নামও ফাইজুন)। তারা দুজনই তুখমিরপুরের একটি সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বোর্ড পরীক্ষা দিয়ে বের হয়েছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবারের বর্ণনা অনুযায়ী, ১৭ বছর বয়সী ফাইজুন সেই সময় রোজা ছিলেন এবং তার মাথায় টুপি ছিল। জোহরের নামাজ শেষ করে তিনি যখন বন্ধুদের সাথে বাড়ি ফিরছিলেন, তখন একদল যুবক তাদের গতিরোধ করে।

হামলাকারীরা প্রথমে ছাত্রদের নাম জিজ্ঞেস করে। দলে থাকা হিন্দু ছাত্রদের শনাক্ত করার পর তাদের ধাওয়া দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর দুই ফাইজুনকে একা পেয়ে লাঠি, ঘুঁষি এবং স্ক্রু-ড্রাইভার দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করা হয়। মোহাম্মদ ফাইজুনের মাথা একটি দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের সাথে সজোরে আঘাত করা হলে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তার নাক ফেটে যায় এবং ঠোঁটে একাধিক সেলাই দিতে হয়েছে।

ফাইজুনের ভাই মোহাম্মদ রশিদ জানান, "আমার ভাই রোজা রাখা অবস্থায় পরীক্ষা দিতে গিয়েছিল। তার অপরাধ ছিল সে টুপি পরা ছিল। মারধরের পর তার নাক দিয়ে রক্তক্ষরণ বন্ধ হচ্ছিল না। সে ঈদের জন্য নতুন পোশাক কেনার পরিকল্পনায় ছিল, অথচ এখন সে ব্যথায় বিছানায় পড়ে আছে।" ফাইজুনের মা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন, কারণ সম্প্রতি দিল্লীতে মুসলিমদের ওপর ধারাবাহিক হামলার সংবাদে তারা এমনিতেই আতঙ্কিত ছিলেন। বর্তমানে গুরুতর আহত ফাইজুন তার পরবর্তী পরীক্ষাগুলো দেওয়া নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, যখন কাউকে নির্দিষ্ট ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে আলাদা করে আক্রমণ করা হয়, তখন সেটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের চরম লঙ্ঘন।

শান্তি ও সহাবস্থানের স্বার্থে এই বর্বরোচিত হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিই কেবল ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত