অস্ট্রিয়ার সালজবার্গ শহরের একটি নামী রেস্তোরাঁয় হিজাব পরার কারণে এক মুসলিম নারীর জন্মদিনের বুকিং বাতিল করা হয়েছে। এই ঘটনাটি ইউরোপে ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানের 'ড্রেস কোড' বা পোশাকবিধি এবং ব্যক্তির ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকারের মধ্যবর্তী সূক্ষ্ম ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে আইনি ও সামাজিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।অস্ট্রিয়ার প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম 'হেউটে' (Heute)-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, সালজবার্গে দীর্ঘকাল ধরে বসবাসরত এক মুসলিম নারী তাঁর জন্মদিন উদযাপনের জন্য শহরের প্যানোরামিক ভিউ সমৃদ্ধ ‘কুল মামা’ (Cool Mama) হোটেলের রেস্তোরাঁয় একটি ব্রেকফাস্ট ইভেন্টের পরিকল্পনা করেন।ওই নারীর স্বামী যখন ফোন করে বুকিং দিতে যান এবং উল্লেখ করেন যে তাঁর স্ত্রী হিজাব পরিধান করেন, তখনই রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ বুকিং নিতে অস্বীকার করে। কর্তৃপক্ষ সাফ জানিয়ে দেয়, তাদের প্রতিষ্ঠানে সব ধরনের 'হেডস্কার্ফ' বা মাথা ঢেকে রাখার ওপর সাধারণ নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।তদন্তে দেখা গেছে, রেস্তোরাঁটির নিজস্ব ওয়েবসাইটে ড্রেস কোড সংক্রান্ত নীতিমালায় খেলাধুলার পোশাক বা ক্যাজুয়াল পোশাকের পাশাপাশি "সব ধরনের মাথার পোশাক" নিষিদ্ধ করার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। হোটেল ম্যানেজমেন্টের দাবি:এই নিয়মটি কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম বা জাতিসত্তাকে টার্গেট করে তৈরি করা হয়নি।এটি তাদের নিজস্ব ‘গ্যাস্ট্রোনোমিক কনসেপ্ট’ বা বিশেষ পরিবেশ রক্ষার একটি অংশ।নিষেধাজ্ঞাটি বৈষম্যহীনভাবে সকল অতিথির জন্যই সমানভাবে প্রযোজ্য।ভুক্তভোগী নারী এই যুক্তি মানতে নারাজ। তিনি মনে করেন, এই নিয়মটি পরোক্ষভাবে মুসলিম নারীদের ধর্মীয় বিশ্বাসকে আঘাত করছে এবং এটি একটি সচেতন বৈষম্য। প্রতিকার চেয়ে তিনি বিষয়টি অস্ট্রিয়ার ‘ইকুয়াল ট্রিটমেন্ট কমিশন’ বা সমান আচরণ বিষয়ক আইনি সংস্থার কাছে অভিযোগ আকারে জমা দিয়েছেন।ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে ব্যক্তিগত পরিসরে ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহারের সীমাবদ্ধতা নিয়ে এর আগেও আদালত পর্যন্ত জল গড়িয়েছে, যা এখন এই মামলার মাধ্যমে পুনরায় জনস্মুখে ফিরে এলো।