বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কওমী টাইমস

গত মাসে মসজিদুল আকসায় ২৬ দফা হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী

ফিলিস্তিনি ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সেপ্টেম্বর মাসে ইসরাইলি বাহিনী ও দখলদার ইহুদিরা মসজিদুল আকসায় অন্তত ২৬ দফা হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে ইব্রাহিম মসজিদে (হারাম ই ইব্রাহিম) মুসল্লিদের প্রবেশ বাধা ও আজান নিষিদ্ধ করা হয়।ফিলিস্তিনি ওয়াক্ফ ও ধর্ম মন্ত্রণালয় জানায়, ইসরাইলি সেনা ও উগ্রপন্থী ইহুদিরা মসজিদুল আকসায় প্রায় প্রতিদিনই অভিযান চালিয়েছে এবং এর চত্বরে তথাকথিত ‘তালমুদিক’ ধর্মীয় আচারে অংশ নিয়েছে। এতে মুসল্লিদের নামাজ ও জুমার খুতবা বাধাগ্রস্ত হয়।প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ইসরাইলি পুলিশ সেপ্টেম্বর মাসে আকসার খতিব শায়খ মুহাম্মাদ সারান্দাহকে গ্রেপ্তার করে এবং মুক্তির পর তাঁর ওপর এক সপ্তাহের জন্য মসজিদে প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ ইমামদের জুমার খুতবায় গাজায় চলমান আগ্রাসন নিয়ে কথা বলা নিষিদ্ধ করেছে।অন্যদিকে, দখলকৃত পশ্চিম তীরের দক্ষিণে অবস্থিত আল-খলিল (হেবরন) শহরের ইব্রাহিম মসজিদেও ইসরাইলি সেনারা একাধিকবার অভিযান চালিয়েছে। গত মাসে সেখানে ৯২ বার আজান বন্ধ করা হয় এবং মুসল্লিদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়। এছাড়া, ইসরাইল মসজিদের ছাদ দখল করার সিদ্ধান্ত নেয়, যা ফিলিস্তিনিরা পবিত্র স্থানের ওপর “অত্যন্ত বিপজ্জনক পদক্ষেপ” বলে আখ্যা দিয়েছে।মক্কা, মদিনা ও জেরুজালেমের পর ইব্রাহিম মসজিদ ইসলাম ধর্মের চতুর্থ পবিত্রতম স্থান হিসেবে বিবেচিত। এখানে নবী ইব্রাহিম (আঃ), ইসহাক (আঃ), ইয়াকুব (আঃ), ইউসুফ (আঃ) ও তাঁদের স্ত্রীদের কবর অবস্থিত।১৯৯৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি, এক ইহুদি চরমপন্থী বারুচ গোল্ডস্টেইন ফজরের নামাজরত মুসল্লিদের ওপর গুলি চালিয়ে ২৯ জনকে শহিদ করে ও ১৫০ জনের বেশি আহত করে। সেই হত্যাকাণ্ডের পর থেকে মসজিদটি ইসরাইল দুই ভাগে ভাগ করে দেয়—এক অংশ মুসলমানদের ও অন্য অংশ ইহুদিদের জন্য বরাদ্দ করে, যা পরবর্তীতে সিনাগগে রূপান্তরিত হয়।ইসরাইল গত রমজান মাসে মুসলমানদের জন্য মসজিদ সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রাখার অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছে এবং ঈদুল ফিতরেও প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে।

গত মাসে মসজিদুল আকসায় ২৬ দফা হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী