বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কওমী টাইমস

অস্তমিত এক রণধ্বনি: দুই দশকের রহস্যভেদ করে বিদায় নিলেন আবু ওবায়দা

ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের সামরিক শাখা ‘ইজ্জুদ্দিন আল-কাসসাম ব্রিগেড’-এর কিংবদন্তিতুল্য মুখপত্র আবু ওবায়দা আর নেই। দীর্ঘ দুই দশক ধরে লাল রুমাল আর সবুজ ফিতা দিয়ে মুখ ঢেকে রাখা এই ব্যক্তিটি ছিলেন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর জন্য এক আতঙ্কের নাম। অবশেষে সোমবার সন্ধ্যায় কাসসাম ব্রিগেডের পক্ষ থেকে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে তার আসল নাম ও পরিচয় জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়েছে।দীর্ঘ ২০ বছর ধরে যার কণ্ঠস্বর ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীকে অস্থির করে তুলেছিল এবং বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের নজর কেড়েছিল, সেই ‘আবু ওবায়দা’র জীবনের অবসান ঘটেছে। হামাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আবু ওবায়দার প্রকৃত নাম হুজাইফা সামির আবদুল্লাহ আল-কাহলুত। ঘোষণার সাথে সাথে তার একটি ছবিও প্রকাশ করা হয়, যা দীর্ঘ দুই দশক ধরে অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে গোপন রাখা হয়েছিল।জন্ম ও বেড়ে ওঠাহুজাইফা আল-কাহলুত ১৯৮৪ সালে উত্তর গাজার জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একটি রক্ষণশীল পরিবারে বেড়ে ওঠেন এবং গাজার ‘ইসলামিক ইউনিভার্সিটি’ থেকে পবিত্র কোরআনের ব্যাখ্যার (তাফসির) ওপর মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত এবং বেশ কয়েকজন সন্তানের জনক ছিলেন।রণক্ষেত্রে উত্থানআবু ওবায়দার সামরিক ও প্রচারণামূলক যাত্রা শুরু হয় ২০০০ সালের দ্বিতীয় ইন্তিফাদার সময়। তবে তিনি প্রথম জনসমক্ষে পরিচিতি পান ২০০৪ সালের অক্টোবর মাসে। ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ‘ডেইজ অফ রেজ’ যুদ্ধের সময় তিনি প্রথম সংবাদ সম্মেলন পরিচালনা করেন। ২০০৫ সালে ইসরায়েল গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করলে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কাসসাম ব্রিগেডের প্রধান মুখপত্র নিযুক্ত হন।ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামাসের প্রতিটি যুদ্ধে আবু ওবায়দা ছিলেন অন্যতম প্রধান সেনানি, তবে তার লড়াই ছিল মূলত তথ্যের ও মনস্তাত্ত্বিক। ২০০৬ সালে ইসরায়েলি সেনা গিলাদ শালিত এবং ২০১৪ সালে শাউল অ্যারনকে বন্দি করার ঘোষণা দিয়ে তিনি ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছিলেন। তার কথা বলার ধরণ এবং নিখুঁত তথ্যের কারণে তাকে 'গাজার কণ্ঠস্বর' বলা হতো।চলতি বছরের ২৯ আগস্ট তিনি শেষবার টেলিগ্রামে একটি বার্তা দেন, যেখানে তিনি ইসরায়েলি সেনাদের রক্তক্ষয়ী পরিণতির হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। এরপর দীর্ঘ সময় তার কোনো খবর পাওয়া যায়নি। গত ৩১ আগস্ট ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছিলেন যে, শিন বেত ও সামরিক বাহিনীর যৌথ অভিযানে তাকে নির্মূল করা হয়েছে। অবশেষে হামাস আজ সেই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে হুজাইফা আল-কাহলুতকে শহীদ হিসেবে ঘোষণা করেছে।গাজায় গত দুই বছরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে গত ১০ অক্টোবর একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হলেও, আবু ওবায়দার প্রস্থান ফিলিস্তিনি প্রতিরোধের ইতিহাসে একটি বড় শূন্যতা তৈরি করল।

অস্তমিত এক রণধ্বনি: দুই দশকের রহস্যভেদ করে বিদায় নিলেন আবু ওবায়দা