ইসরায়েলে আল জাজিরা ও আল মায়াদিন নিষিদ্ধ: গণমাধ্যমের টুঁটি চেপে ধরার অভিযোগ
ইসরায়েল সরকার দেশটিতে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম 'আল জাজিরা' এবং লেবাননভিত্তিক 'আল মায়াদিন' টেলিভিশনের সমস্ত কার্যক্রম ও সম্প্রচার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। সরকারের দাবি, এই মাধ্যমগুলো ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি। তবে এই পদক্ষেপকে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।ইসরায়েলের যোগাযোগ মন্ত্রী শলোমো কারহি সোমবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এক ঘোষণার মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন যে, আজ থেকেই আল জাজিরা এবং আল মায়াদিনের ওয়েবসাইট, টেলিভিশন সম্প্রচার এবং ইউটিউব চ্যানেল ইসরায়েলে ব্লক করা হবে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তাঁর মন্ত্রিসভা গত রবিবার এই নিষেধাজ্ঞার চূড়ান্ত অনুমোদন প্রদান করেন।যোগাযোগ মন্ত্রী কারহি জানান, ইন্টারনেট ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হলেও স্যাটেলাইট সম্প্রচার বন্ধের বিষয়টি প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম 'হারেৎজ'-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে এই নিষেধাজ্ঞা ৯০ দিনের জন্য কার্যকর থাকবে। তবে সময়সীমা শেষ হওয়ার পর সরকার চাইলে তা পুনরায় নবায়ন করতে পারবে।উল্লেখ্য, এই পদক্ষেপটি মূলত বহুল আলোচিত "আল জাজিরা আইন"-এর একটি বর্ধিত রূপ। গত মাসে ইসরায়েলি পার্লামেন্ট (নেসেট) একটি সংশোধনী পাস করে, যা যোগাযোগ মন্ত্রীকে যেকোনো বিদেশি মিডিয়া আউটলেট বন্ধ করার বিশেষ ক্ষমতা প্রদান করে। এই আইনটি কার্যকর হওয়ার ফলে এখন জরুরি অবস্থা জারি না থাকলেও সরকার যেকোনো সময় বিদেশি সংবাদমাধ্যম বন্ধ করতে পারবে।দীর্ঘদিন ধরেই ইসরায়েল অভিযোগ করে আসছে যে, আল জাজিরা ও আল মায়াদিন তাদের প্রতিবেদনে পক্ষপাতিত্ব করছে। অন্যদিকে, এই সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে তারা কেবল গাজা ও লেবানন সীমান্তে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরছে বলেই তাদের মুখ বন্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই পদক্ষেপকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী এবং তথ্য প্রবাহে বাধা সৃষ্টির একটি কৌশল হিসেবে অভিহিত করেছে।