ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যকার যুদ্ধের শান্তিপূর্ণ সমাধানে তুরস্ক আবারও উদ্যোগী ভূমিকা নিতে যাচ্ছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, কূটনীতি ও সংলাপই এখনো সবচেয়ে কার্যকর পথ এবং ইস্তাম্বুলে চতুর্থ দফা শান্তি আলোচনা আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।শনিবার (১ নভেম্বর) ইস্তাম্বুলে আয়োজিত ‘টিআরটি ওয়ার্ল্ড ফোরাম ২০২৫’-এর এক অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেন, “ইউক্রেন সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানে কূটনীতি এখনও সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম। তুরস্ক বিশ্বাস করে, আলোচনার টেবিলে ফিরে আসাই এই যুদ্ধের সমাপ্তির একমাত্র বাস্তবসম্মত পথ।”তিনি জানান, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার পূর্ববর্তী তিন দফা শান্তি আলোচনায় তুরস্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এবং বন্দি বিনিময়সহ নানা মানবিক উদ্যোগেও সহায়তা দিয়েছে। দুই দেশের সঙ্গে গঠনমূলক সংলাপ বজায় রেখে **‘ইস্তাম্বুল প্রক্রিয়া’**র মাধ্যমে তুরস্ক তাদের পুনরায় আলোচনায় আনতে সক্ষম হয়েছিল।ফিদান বলেন, “আমরা পুনর্ব্যক্ত করছি—ইস্তাম্বুলে চতুর্থ দফা আলোচনা এবং সম্ভাব্য নেতাদের সম্মেলন আয়োজনের জন্য তুরস্ক প্রস্তুত।”তিনি আরও যোগ করেন, “তুরস্ক তার পররাষ্ট্রনীতির মূলভিত্তি হিসেবে সংলাপ ও কূটনীতি বজায় রাখবে। আঙ্কারা বিশ্বাস করে, বহুপাক্ষিকতা ও আঞ্চলিক অংশীদারিত্বই টেকসই শান্তি ও স্থিতিশীলতার পথ খুলে দিতে পারে।”আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে হাকান ফিদান বলেন, বিশ্ব এখন বহুমেরু কাঠামোর দিকে এগোচ্ছে। “বৃহৎ শক্তিগুলোর কার্যকারিতা কমে যাচ্ছে, আর আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নানা সংকটে দুর্বল হয়ে পড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে তুরস্ক সহযোগিতা, সংলাপ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বহুপাক্ষিকতার পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে,” বলেন তিনি। তুরস্ক এর আগেও ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের সময়ে খাদ্যশস্য রপ্তানির ‘ব্ল্যাক সি গ্রেইন ইনিশিয়েটিভ’ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল, যা জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত হয়। এবারও দেশটি একইভাবে শান্তি পুনরুদ্ধারের কূটনৈতিক প্রয়াসে নেতৃত্ব দিতে চায় বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।