গোপালগঞ্জে আওয়ামীলীগ বিহীন নির্বাচন: মুফতী শুয়াইবকে ঘিরে নতুন সমীকরণ
গোপালগঞ্জ বরাবরই আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হলেও এবারের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ায় দীর্ঘ কয়েক দশক পর এই প্রথম একচেটিয়া প্রভাবহীন নির্বাচন দেখছে জেলাবাসী। এই শূন্যতায় গোপালগঞ্জের রাজনৈতিক মাঠে নতুন মেরুকরণ শুরু হয়েছে, যেখানে বিশেষ নজর কাড়ছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত ও ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত প্রার্থী মুফতী শুয়াইব ইবরাহীম।গোপালগঞ্জ-২ আসনে মুফতী শুয়াইব ইবরাহীমকে ঘিরে স্থানীয় আলেম সমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তিনি জেলার ঐতিহ্যবাহী ইসলামপুর ভবানীপুর মাদরাসার নাযেম ও ভাইস প্রিন্সিপাল। জেলার শীর্ষস্থানীয় ওলামায়েকেরাম দীর্ঘ পরামর্শের পর মুফতী শুয়াইব ইবরাহীমকে নির্বাচনের জন্য মনোনীত করেছেন। ওলামায়েকেরাম বলছেন, গোপালগঞ্জের মানুষ একদিকে যেমন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভক্ত, তেমনি এ অঞ্চলের মানুষের হৃদয়ে আল্লামা শামসুল হক ফরিদপুরী (রহ.)-এর প্রতি রয়েছে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। সেই ধারাবাহিকতায় ওলামায়েকেরামের প্রতি এখানকার মানুষের সম্মান বরাবরই দৃঢ়।মুফতী শুয়াইব ইবরাহীম মনে করেন, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকায় গোপালগঞ্জবাসীর সামনে কিছু বাস্তব চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। তবে সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ওলামায়েকেরাম মানুষের পাশে থেকে ন্যায় ও ইনসাফের রাজনীতি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে চান। ভোটের মাঠে ১৩ প্রার্থী, নতুন হিসাবগোপালগঞ্জ সদর ও কাশিয়ানী (আংশিক) নিয়ে গঠিত গোপালগঞ্জ-২ আসন। ১৯৮৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এখানে টানা ৮ বার জিতেছিলেন আওয়ামী লীগের শেখ ফজলুল করিম সেলিম। তবে এবার দৃশ্যপট বদলে গেছে। বিএনপির ধানের শীষ বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ‘রিকশা’ মার্কার পাশাপাশি মাঠে রয়েছেন জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদসহ মোট ১৩ জন প্রার্থী।অনেকেই মনে করছেন, আওয়ামী লীগ না থাকায় গোপালগঞ্জের মানুষ এবার ব্যক্তি দেখে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। স্থানীয় ভোটারদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, ইনসাফ ও ন্যায়ের পক্ষে মুফতী শুয়াইব ইবরাহীম একজন শক্তিশালী প্রার্থী হতে পারেন। ভোটারদের মিশ্র প্রতিক্রিয়াসদর উপজেলার লতিফপুর ইউনিয়নের কাজীর বাজারে কথা হয় চা দোকানি ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে। তাদের একজন বলেন, "আগে তো ভোট দেওয়ার সুযোগই পেতাম না। এবার অন্তত প্রার্থীরা বাড়ি বাড়ি আসছে। আমরা এমন একজনকে চাই যিনি স্থানীয় এবং আমাদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকবেন।"অন্যদিকে, চরমানিকদাহ এলাকার অটোরিকশাচালক শফিউল ইসলাম জানান, মানুষের মধ্যে কিছুটা ভয় ও অনিশ্চয়তা কাজ করছে। তবে ওলামায়েকেরামের প্রতি ভক্তি থাকায় 'রিকশা' মার্কা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরব গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। অনেক প্রার্থী সামনাসামনি কিছু না বললেও রিকশা মার্কায় ভোট দিবেন বোঝা যাচ্ছে। চ্যালেঞ্জ ও প্রত্যাশাআওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে গোপালগঞ্জে ভোটের আমেজ থাকলেও মামলা-হামলা ও গ্রেফতারের আতঙ্কে কোনো কোনো ভোটার কেন্দ্রে যাওয়া নিয়ে সংশয়ে আছেন। তবে মুফতী শুয়াইব ইবরাহীমের সমর্থকরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের মতে, গোপালগঞ্জের মানুষ ওলামায়েকেরামকে সম্মান করে। এই ভালোবাসাই ভোটের বাক্সে প্রতিফলিত হবে এবং ইনসাফ কায়েমের লড়াইয়ে 'রিকশা' মার্কা বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াবে।গোপালগঞ্জ-২ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৮৪ হাজার ৩২৬ জন। এখন দেখার বিষয়, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দুর্গের পতন ঘটিয়ে সাধারণ মানুষ ও ওলামায়েকেরামের সর্মথীত প্রার্থী কতটা সফল হতে পারেন।