পাক-আফগান সীমান্তে চলমান সংঘাত বিশ্ব মুসলিমের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ: চরমোনাই পীর
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম পাক-আফগান সীমান্তে চলমান সামরিক সংঘাত নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি অবিলম্বে উভয়পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের এবং রক্তপাত বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। রবিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, মুসলমানরা পরস্পর ভাই এবং একজন মুসলমানের রক্ত অন্য মুসলমানের জন্য হারাম। পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব ও সহনশীলতার ভিত্তিতে আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।পাক-আফগান সীমান্তে সাম্প্রতিককালে চলমান সংঘাত নিরসনে উভয়পক্ষকে আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, ইসলামি আদর্শ অনুযায়ী মুসলমানরা এক দেহের মতো এবং একজন মুসলমানের ওপর অপর মুসলমানের রক্তপাত সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ (হারাম)। হাদিসের এই নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, চলমান সংঘাতের ফলে বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের মনে রক্তক্ষরণ হচ্ছে।মুফতি সৈয়দ রেজাউল করীম জোর দিয়ে বলেন, পারস্পরিক এই সম্পর্কের ব্যাপারে মুসলমানদের একই বিশ্বাস থাকা সত্ত্বেও পাক-আফগান সীমান্তে সংঘাত কোনোভাবেই কাম্য নয়। তিনি এই সমস্যাকে সহনশীলতা, কৌশল এবং ভ্রাতৃত্বের নীতির ওপর ভিত্তি করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার জন্য উভয়পক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।বিবৃতিতে চরমোনাই পীর উভয় দেশের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, আফগানদের সোভিয়েত বিরোধী সংগ্রামে পাকিস্তানের ইতিবাচক ভূমিকা এবং বিভিন্ন সময়ে লাখ লাখ আফগানির পাকিস্তানে আশ্রয় নেওয়া—উভয় দেশের জনগণের মধ্যে এক কিংবদন্তী তুল্য হৃদ্যতা সৃষ্টি করেছিল। এমন ঐতিহাসিক সম্পর্কের ভিত্তিতে দুই প্রতিবেশী মুসলিম দেশের মধ্যে সীমান্তে সংঘাত 'কোনভাবেই কাম্য নয়' মন্তব্য করে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, উভয় দেশের উলামায়ে কেরাম ও রাজনীতিবিদগণ সম্মিলিতভাবে প্রচেষ্টা চালালে সমস্যার সমাধান সম্ভব। তিনি উভয় দেশের নেতৃবৃন্দকে ধৈর্য ও ভ্রাতৃত্বের ভিত্তিতে বিরাজমান এই সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানে মনোযোগ দেওয়ার জন্য আহ্বান জানান।