বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কওমী টাইমস

গাজায় স্থায়ী শান্তি ফেরাতে জরুরি বৈঠক: ইস্তাম্বুলে মুসলিম বিশ্বের ঐক্যের বার্তা

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় চলমান মানবিক সংকট এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকরের সর্বশেষ পরিস্থিতি পর্যালোচনার উদ্দেশ্যে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে শুরু হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ এক মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক। তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সভায় ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, সৌদি আরব, জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE) ও কাতারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন। এই সভা থেকে গাজায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা, মানবিক ত্রাণ সহায়তা বৃদ্ধি এবং ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের প্রবণতা রোধে মুসলিম বিশ্বের সমন্বিত কৌশল নির্ধারণের ওপর জোর দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ইস্তাম্বুলের একটি হোটেলে আয়োজিত এই বৈঠকে মূলত গাজায় সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির অগ্রগতি এবং ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে। অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর লক্ষ্য হলো, যুদ্ধবিরতিকে একটি টেকসই ও স্থায়ী শান্তির চুক্তিতে পরিণত করার জন্য একটি সম্মিলিত মুসলিম অবস্থান তৈরি করা।পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বৈঠকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি সমাপ্ত করার জন্য 'অজুহাত তৈরি করা' এবং 'উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডে' লিপ্ত থাকার বিষয়ে আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি জোর দেবেন যে, ইসরায়েলের এই ধরনের কাজের বিপরীতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই একটি সুদৃঢ় ও দৃঢ়চেতা অবস্থান নিতে হবে।ফিদান মনে করেন, গাজায় বর্তমানে যে পরিমাণ মানবিক সহায়তা প্রবেশ করছে, তা একেবারেই অপর্যাপ্ত। এই বিষয়ে ইসরায়েল তার আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা পালন করছে না। তিনি স্পষ্ট করে বলবেন যে, পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী নিরবচ্ছিন্নভাবে গাজায় পৌঁছানো একটি মানবিক ও আইনি বাধ্যবাধকতা। এই লক্ষ্যে ইসরায়েলের ওপর আরও কঠোর চাপ সৃষ্টি করা প্রয়োজন।গাজার ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য ফিদান অবিলম্বে এমন ব্যবস্থা বাস্তবায়নের আহ্বান জানাবেন, যা গাজার নিরাপত্তা ও প্রশাসন পরিচালনার দায়িত্ব ফিলিস্তিনিদের হাতে তুলে দেবে। তিনি ফিলিস্তিনি জনগণের বৈধ অধিকার এবং দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের রূপরেখা অক্ষুণ্ণ রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।বৈঠকে অংশ নেওয়া দেশগুলো জাতিসংঘ প্ল্যাটফর্মে গাজার সংকট নিরসনে কী ধরনের পদক্ষেপ নেবে, সে বিষয়ে নিবিড় পরামর্শ এবং ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রাখার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেছে।উল্লেখ্য, এই দেশগুলোই গত ২৩ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের ৮০তম সাধারণ অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হয়েছিল। সেই বৈঠক শেষে দেওয়া বিবৃতিতে, অংশগ্রহণকারীরা গাজার পুনর্গঠনের জন্য আরব লীগ ও ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা (OIC)-এর পরিকল্পনার ভিত্তিতে একটি বিস্তৃত পরিকল্পনা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছিলেন। সেখানে আন্তর্জাতিক সহায়তার মাধ্যমে ফিলিস্তিনি নেতৃত্বকে সমর্থন এবং গাজায় ফিলিস্তিনিদের জীবন পুনর্নির্মাণের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছিল।এই গুরুত্বপূর্ণ সভার পাশাপাশি, তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুহাম্মদ ইসহাক দারের সাথে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও করেছেন।

গাজায় স্থায়ী শান্তি ফেরাতে জরুরি বৈঠক: ইস্তাম্বুলে মুসলিম বিশ্বের ঐক্যের বার্তা