আফগানিস্তানের সাথে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্পর্কোন্নয়ন এবং থমকে যাওয়া 'দোহা প্রক্রিয়া'কে গতিশীল করতে তিন দিনের সফরে কাবুল পৌঁছেছেন জাতিসংঘের রাজনৈতিক ও শান্তি বিনির্মাণ বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল রোজমেরি ডিকার্লো। শুক্রবার কাবুলে পৌঁছে তিনি আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকিসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মিলিত হন। এই সফরের মূল লক্ষ্য হলো মাদক নিয়ন্ত্রণ, বেসরকারি খাতের উন্নয়ন এবং মানবিক সহায়তার পথ সুগম করা।আফগানিস্তানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠী ইসলামি আমিরাতের সাথে জাতিসংঘের সরাসরি যোগাযোগ বৃদ্ধির অংশ হিসেবে রোজমেরি ডিকার্লোর এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বৈঠকে ডিকার্লো মাদক নির্মূল এবং বেসরকারি খাতের প্রসারে গঠিত দুটি বিশেষ ওয়ার্কিং গ্রুপের মাধ্যমে জাতিসংঘের অব্যাহত সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।জাতিসংঘের এই প্রতিনিধি আফগানিস্তানে বর্তমানে স্থিতিশীলতা রক্ষায় নেওয়া কিছু পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। বিশেষ করে কয়েক মিলিয়ন অভিবাসীর প্রত্যাবর্তন ব্যবস্থাপন এবং মানবিক ত্রাণ বিতরণে স্বচ্ছতা বজায় রাখার বিষয়টি তিনি ইতিবাচকভাবে দেখেন। এছাড়া মাদক চাষ বন্ধ এবং মাদকাসক্তদের চিকিৎসায় তালেবান প্রশাসনের নেওয়া পদক্ষেপগুলোও আলোচনায় গুরুত্ব পায়।তবে এই 'দোহা প্রক্রিয়া' নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। ২৫টিরও বেশি দেশের বিশেষ প্রতিনিধিদের নিয়ে কাতারের দোহায় যে আলোচনা শুরু হয়েছিল, তার ফলাফল এখনো সাধারণ আফগানদের জীবনে দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি। ফ্রান্সে নিযুক্ত আফগানিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত ওমর সামাদ বলেন, "বিগত চার বছরে কিছু সমস্যার সমাধান হলেও অনেক মৌলিক ইস্যু এখনো অমীমাংসিত। আগামী বছর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং ইসলামি আমিরাত—উভয় পক্ষের কাছ থেকেই আরও গঠনমূলক ভূমিকা আশা করছে।"উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের তৃতীয় দোহা বৈঠকের আগেও ডিকার্লো কাবুল সফর করেছিলেন। বর্তমান সফরে তিনি ঝুলে থাকা মানবিক সহায়তা পুনরায় চালু করার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন, যা অর্থনৈতিক সংকটে থাকা আফগান জনগণের জন্য অত্যন্ত জরুরি।