বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেছেন। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে পৃথক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তারা সংসদ সদস্য এবং ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর সদস্য হিসেবে শপথ নেন। তবে বিএনপি থেকে নির্বাচিত সদস্যরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ থেকে বিরত ছিলেন, যা রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা প্রথম শপথ গ্রহণ করেন। এরপর পর্যায়ক্রমে ১১-দলীয় ঐক্যের অন্তর্ভুক্ত এনসিপি-র (NCP) সংসদ সদস্যরা শপথ নেন।শপথ অনুষ্ঠান শেষে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে একটি সংসদীয় দলের সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় জামায়াতের এমপিদের পাশাপাশি এনসিপি-সহ জোটের অন্যান্য শরিক দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় আগামী সংসদীয় অধিবেশনে জোটের ভূমিকা এবং সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে প্রাথমিক কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।১১-দলীয় জোট ও এনসিপি-র অবস্থানজামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের শরিক দল এনসিপি থেকে এবার ৬ জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তারা হলেন:নাহিদ ইসলামআখতার হোসেনহাসনাত আবদুল্লাহআবদুল হান্নান মাসউদআবদুল্লাহ আল আমিনআতিকুর রহমান মোজাহিদউল্লেখ্য, এই জোটের সদস্যরা সংসদ সদস্য পদের পাশাপাশি ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর সদস্য হিসেবেও শপথ নিয়েছেন। তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাষ্ট্র সংস্কারের অংশ হিসেবে সংবিধানের প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের লক্ষে তারা সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন।বিএনপির ভিন্ন কৌশলঅন্যদিকে, সংসদের প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে পরিচিত বিএনপির অবস্থান ছিল কিছুটা ভিন্ন। দলটির নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা আইনসভার সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেও ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর সদস্য হিসেবে শপথ নেননি।এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, বিএনপি এখনই সংস্কার পরিষদে যোগ দিচ্ছে না। সংসদ অধিবেশন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার পর দলের উচ্চপর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে এই শপথের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংবিধান সংস্কারের রূপরেখা ও এখতিয়ার নিয়ে পর্যবেক্ষণ করতেই বিএনপি এই কৌশলগত অবস্থান নিয়েছে।রাজনৈতিক তাৎপর্য দীর্ঘদিন পর জামায়াতে ইসলামী একটি বড় জোট নিয়ে সংসদে শক্তিশালী উপস্থিতি জানান দিল। বিশেষ করে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে পরিচিত মুখগুলোর সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ এবং একই সাথে সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়ায় যুক্ত হওয়া দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিপরীতে, বিএনপির এই দ্বিমুখী অবস্থান (এমপি হিসেবে শপথ নিলেও সংস্কার পরিষদে না যাওয়া) ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, সংবিধানের আমূল পরিবর্তনের প্রশ্নে তারা কিছুটা সতর্ক ও পর্যবেক্ষণমূলক নীতি বজায় রাখতে চায়।