জামালপুরে ঈদানন্দে বিষাদ: ভাসমান সেতু ভেঙে নদে পড়ে ৪ শিশুর মৃত্যু
পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ মুহূর্তেই রূপ নিলো বিষাদে। জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর নির্মিত একটি ভাসমান সেতু শতাধিক দর্শনার্থীসহ ভেঙে পড়েছে। শনিবার বিকেলে ঘটা এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন, যাদের উদ্ধারে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস।জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ থানা সংলগ্ন এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর নির্মিত প্লাস্টিকের ড্রামের ভাসমান সেতুটিতে শনিবার (২১ মার্চ) বিকেলে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। ঈদের ছুটিতে স্থানীয় কয়েকশ মানুষ আনন্দ উপভোগ করতে সেতুটির ওপর ভিড় জমান। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বিকেল ৪টার দিকে অতিরিক্ত মানুষের চাপে বিকট শব্দে সেতুটি মাঝখান থেকে ভেঙে পড়ে। এসময় সেতুর ওপর থাকা শতাধিক মানুষ সরাসরি নদের গভীর পানিতে তলিয়ে যান।দুর্ঘটনার পর পরই স্থানীয়রা উদ্ধারে ঝাঁপিয়ে পড়েন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় জামালপুর ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল। দীর্ঘ তল্লাশির পর নদী থেকে চার শিশুর নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলো— দেওয়ানগঞ্জ ডাকাতিয়াপাড়া গ্রামের জয়নাল মিয়ার মেয়ে মায়ামনি (১০), ঝালুরচর এলাকার শের আলীর ছেলে আব্দুল মোতালেব (৬) ও মেয়ে খাদিজা (১২) এবং বেলতলি এলাকার হাবিবুল্লাহর ছেলে আবির হোসেন (১৪)।এই দুর্ঘটনায় শান্তি নামে এক শিশু গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তবে নিখোঁজের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্থানীয়দের দাবি, আরও বেশ কয়েকজন শিশু ও কিশোর এখনো নিখোঁজ রয়েছে।জামালপুর ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার শেখ রবিউল ইসলাম আকন্দ সংবাদমাধ্যমকে জানান, "সেতুটি ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত ভার সহ্য করতে না পেরে ভেঙে পড়েছে। আমরা এখন পর্যন্ত চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেছি। ডুবুরি দল নিখোঁজদের সন্ধানে নদীতে তল্লাশি অব্যাহত রেখেছে।"ঈদের খুশির মাঝে এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো দেওয়ানগঞ্জ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে ব্রহ্মপুত্রের তীর। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে উদ্ধারকাজে সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে।