নতুন আঞ্চলিক জোটের পরিকল্পনা নেতানিয়াহুর: লক্ষ্য 'সুন্নি ও শিয়া' কট্টরপন্থা মোকাবিলা
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মধ্যপ্রাচ্যে একটি নতুন আঞ্চলিক জোট গঠনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, এই জোটটি তথাকথিত 'উগ্র শিয়া ও সুন্নি' অক্ষের বিরুদ্ধে একটি প্রতিরক্ষা প্রাচীর হিসেবে কাজ করবে। রবিবার তাঁর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই উচ্চাভিলাষী ভূ-রাজনৈতিক পরিকল্পনার কথা জানানো হয়।ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু রবিবার এক বিশেষ বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, তিনি মধ্যপ্রাচ্যের ভেতরে এবং চারপাশে একটি 'ছয়পক্ষীয় জোট' (Hexagonal Alliances) বা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছেন। এই জোটে ভারত, গ্রিস, সাইপ্রাস এবং বেশ কিছু আরব, আফ্রিকান ও এশীয় দেশ অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।নেতানিয়াহুর মতে, এই জোটের প্রধান লক্ষ্য হবে এমন একটি অক্ষ তৈরি করা যারা সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ এবং বাস্তবতাকে একই দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখে। তিনি বলেন, "আমরা একদিকে শিয়া অক্ষকে মারাত্মক আঘাত করেছি, অন্যদিকে একটি কট্টরপন্থী সুন্নি অক্ষ তৈরি হতে দেখছি। এই দুই কট্টরপন্থার বিপরীতে একটি স্থিতিশীল ও শক্তিশালী বলয় তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য।"এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী বুধবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইসরায়েল সফরে যাচ্ছেন। সফরকালে তিনি ইসরায়েলি পার্লামেন্ট 'নেসেটে' ভাষণ দেবেন। দুই নেতার মধ্যে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতার পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের মতো উন্নত প্রযুক্তিতে অংশীদারিত্ব বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হবে।বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গত দুই বছর ধরে গাজায় চলা ভয়াবহ সংঘাতের ফলে আন্তর্জাতিকভাবে ইসরায়েল যে কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতার শিকার হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতেই নেতানিয়াহু এই জোটের তাস খেলছেন। ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় গাজায় এ পর্যন্ত ৭২ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭১ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। জাতিসংঘ জানিয়েছে, গাজার ৯০ শতাংশ অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে এবং এটি পুনর্গঠনে প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন।নেতানিয়াহুর এই প্রস্তাবিত জোট নিয়ে এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট আরব বা আফ্রিকান দেশগুলোর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখল এবং স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনে অস্বীকৃতির কারণে ইসরায়েলের সাথে অনেক মুসলিম দেশেরই সম্পর্কের টানাপোড়েন বিদ্যমান।