বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কওমী টাইমস

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অশ্লীলতার হাতছানি: হুমকির মুখে সামাজিক ও নৈতিক কাঠামো

বাংলাদেশের সমাজ আজ এক গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। প্রযুক্তির অগ্রগতির সাথে সাথে সোশ্যাল মিডিয়া যেমন যোগাযোগের নতুন দ্বার খুলে দিয়েছে, তেমনি এই প্ল্যাটফর্মগুলোই এখন অশ্লীলতা, অনৈতিকতা ও অপরাধের নীরব আখড়ায় পরিণত হয়েছে। ইমু, হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম, ফেসবুকসহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ্যে ও গোপনে চলছে শরীর বিক্রির ডিজিটাল বাণিজ্য—যেখানে কিছু তরুণী নিজেদের শরীরের অঙ্গ প্রদর্শনের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনে জড়িয়ে পড়ছে।এটি শুধু একটি নৈতিক অবক্ষয়ের বিষয় নয়, এটি সরাসরি আমাদের সমাজ, পরিবার ও রাষ্ট্রের জন্য একটি ভয়াবহ হুমকি।অশ্লীলতার জালে জড়িয়ে পড়ছে কিশোর-কিশোরীরাসবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—এই অনলাইন অশ্লীলতার জালে জড়িয়ে পড়ছে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া কিশোর-কিশোরীরা। ছোট ছোট কিছু গ্যাং গোপন গ্রুপ খুলে এসব কর্মকাণ্ডকে ছড়িয়ে দিচ্ছে। তারা নতুনদের প্রলুব্ধ করছে সহজ আয়ের লোভ দেখিয়ে। আজ যে কিশোরী “লাইভ ভিডিও” বা “প্রাইভেট কল” করছে, কাল সে আরও বড় অপরাধচক্রের শিকার হচ্ছে—এটাই বাস্তবতা।এই প্ল্যাটফর্মগুলোতে অশ্লীল ছবি, ভিডিও ও লাইভ কনটেন্ট এমনভাবে ছড়িয়ে পড়ছে যে সাধারণ ব্যবহারকারীরাও অজান্তেই এসবের মুখোমুখি হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে মানসিক স্বাস্থ্যে, পারিবারিক বন্ধনে এবং সামাজিক মূল্যবোধে।প্রশ্ন উঠছে: আইনশৃঙ্খলা কোথায়?বাংলাদেশে সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট, সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন—সবই আছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কার্যকর নজরদারি কোথায়? কেন এই অশ্লীল কনটেন্ট দিনের পর দিন ছড়িয়ে পড়ছে? কেন গোপন গ্রুপ, চ্যানেল ও আইডিগুলো সহজেই টিকে থাকছে?এটি কোনো ব্যক্তি বা একটি গোষ্ঠীর সমস্যা নয়—এটি রাষ্ট্রের সম্মিলিত দায়িত্বের প্রশ্ন।আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি জোরালো আবেদনআমরা বাংলাদেশের সচেতন নাগরিক হিসেবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সাইবার সিকিউরিটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোরালো আবেদন জানাচ্ছি—সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় নজরদারি জোরদার করতে হবে।ইমু, হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম ও ফেসবুকের গোপন গ্রুপ ও চ্যানেলগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।অশ্লীল কনটেন্ট তৈরিকারী ও ছড়ানো চক্রের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।কিশোর-কিশোরীদের জড়িত থাকার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পুনর্বাসন ও সচেতনতামূলক উদ্যোগ নিতে হবে।এটি স্বাধীনতা নয়, এটি ধ্বংসের পথকিছু মানুষ একে “ব্যক্তিগত স্বাধীনতা” বলে চালিয়ে দিতে চায়। কিন্তু মনে রাখতে হবে—স্বাধীনতার নামে যদি সমাজ ধ্বংস হয়, পরিবার ভেঙে যায়, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বিপথে চলে যায়, তবে সেটি স্বাধীনতা নয়, সেটি সর্বনাশ।বাংলাদেশ একটি ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী দেশ। এখানে অশ্লীলতার অবাধ বিস্তার কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।আজ যদি আমরা চুপ থাকি, কাল আমাদের সন্তানদের সামনে দাঁড়ানোর মতো মুখ থাকবে না। সোশ্যাল মিডিয়ার এই অন্ধকার দিক রুখে দিতে এখনই কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ দরকার। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, রাষ্ট্র, পরিবার এবং সমাজ—সবাইকে একসাথে দাঁড়াতে হবে।এটি কোনো একক প্রতিবাদ নয়—এটি একটি সামাজিক বিপ্লবের দাবি।

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অশ্লীলতার হাতছানি: হুমকির মুখে সামাজিক ও নৈতিক কাঠামো