দেশে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে এবং নতুন করে ১,১৪৭ জন রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার (৩ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। সারাদেশে ডেঙ্গু সংক্রমণের হার এখনও উদ্বেগজনক মাত্রায় রয়েছে। সোমবার প্রকাশিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১,১৪৭ জন রোগীকে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।এর আগের দিন, রোববার (২ নভেম্বর) ডেঙ্গুতে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছিল এবং ১,১৬২ জন নতুন রোগী ভর্তি হন।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ৭২ হাজার ৮২২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে ডেঙ্গুতে প্রাণ হারিয়েছেন ২৮৮ জন।তুলনামূলকভাবে, ২০২৪ সালে জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল এক লাখ এক হাজার ২১৪ জন এবং মারা যান ৫৭৫ জন। তারও আগের বছর, ২০২৩ সালে দেশে ডেঙ্গুর ইতিহাসে সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে—সে বছর প্রাণ হারিয়েছিলেন এক হাজার ৭০৫ জন এবং আক্রান্ত হয়েছিলেন প্রায় ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলতি বছরের শুরুর দিকেই সংক্রমণ কমলেও অক্টোবর-নভেম্বরে তা আবার বেড়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন বিভাগে হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীর চাপ বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, বৃষ্টি বা সামান্য পানি জমে থাকা স্থানগুলোতে এডিস মশার প্রজনন প্রতিরোধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি, জ্বর হলে দ্রুত পরীক্ষা ও চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।