ফিলিস্তিনি বিদ্বেষ ও ইসলামোফোবিয়া রুখে দেওয়ার ঘোষণা নিউইয়র্কের নবনির্বাচিত মেয়রের
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির নবনির্বাচিত মেয়র জহরান মামদানি দায়িত্ব গ্রহণের আগেই বর্ণবাদ ও ধর্মীয় বিদ্বেষের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। বিশেষ করে ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত নাগরিকদের লক্ষ্য করে চালানো ঘৃণা ও অপপ্রচার বন্ধে তিনি আপসহীন লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সম্প্রতি ব্রাউন ইউনিভার্সিটির এক ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীর ওপর চালানো অনলাইন হয়রানির প্রেক্ষিতে তিনি এই কড়া বার্তা দেন।নিউইয়র্ক সিটির নবনির্বাচিত মেয়র জহরান মামদানি বুধবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি ইসলামোফোবিয়া এবং ফিলিস্তিনি বিদ্বেষের বিরুদ্ধে কাজ শুরু করবেন। মূলত গত ১৩ ডিসেম্বর রোড আইল্যান্ডের ব্রাউন ইউনিভার্সিটিতে ঘটে যাওয়া একটি সহিংস ঘটনার পর ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থী মোস্তফা খারবুশকে টার্গেট করে অনলাইনে যে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হয়েছে, তার প্রতিবাদে এই ঘোষণা দেন তিনি।১৩ ডিসেম্বরের ওই সশস্ত্র হামলায় ব্রাউন ইউনিভার্সিটিতে ২ জন নিহত এবং ৯ জন আহত হন। ঘটনার পর কোনো প্রমাণ ছাড়াই অনলাইনে ষড়যন্ত্রকারীরা মোস্তফা খারবুশকে দোষী সাব্যস্ত করার চেষ্টা করে। কেবল মোস্তফার পরনে 'কুফিয়া' (ফিলিস্তিনি রুমাল) থাকায় তাকে ওই হামলার সঙ্গে যুক্ত করার অপচেষ্টা চালানো হয়। এর ফলে এই শিক্ষার্থীকে প্রাণনাশের হুমকি ও তীব্র বর্ণবাদী আক্রমণের শিকার হতে হয়েছে।মামদানি জানিয়েছেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে মোস্তফার সঙ্গে দেখা করেছেন। মোস্তফা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও নৃবিজ্ঞান বিভাগের একজন মেধাবী শিক্ষার্থী, যিনি ভবিষ্যতে পিএইচডি করার স্বপ্ন দেখেন। মামদানি বলেন, "শুধুমাত্র ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত হওয়ার কারণে একজন নিরাপরাধ শিক্ষার্থীকে যে ধরণের নিগ্রহের শিকার হতে হয়েছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।"উল্লেখ্য, জহরান মামদানি বর্তমান মেয়র এরিক অ্যাডামসের স্থলাভিষিক্ত হতে যাচ্ছেন। তার এই অবস্থানকে নিউইয়র্কের সংখ্যালঘু এবং অভিবাসী সমাজ ইতিবাচকভাবে দেখছে।