ক্রাইস্টচার্চ হামলা: মসজিদে হামলাকারী ঘাতকের স্বীকারোক্তি প্রত্যাহারের আবেদন
২০১৯ সালে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে ভয়াবহ হামলা চালিয়ে ৫১ জন মুসল্লিকে হত্যার দায়ে দণ্ডিত ব্রেন্টন ট্যারেন্ট চাঞ্চল্যকর মোড় নিয়েছে। সোমবার ওয়েলিংটনের আপিল আদালতে এক শুনানিতে অংশ নিয়ে ট্যারেন্ট তার আগের দেওয়া দোষ স্বীকারোক্তি প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়েছেন। তার দাবি, কারান্তরীণ অবস্থায় প্রতিকূল পরিবেশ এবং মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির কারণে তিনি আগে বাধ্য হয়ে দোষ স্বীকার করেছিলেন।নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসের অন্যতম কলঙ্কিত অধ্যায় ক্রাইস্টচার্চ হামলা। ২০১৯ সালের ১৫ মার্চ জুমার নামাজের সময় ব্রেন্টন ট্যারেন্ট নামের এক বন্দুকধারী আল-নূর এবং লিনউড মসজিদে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ৫১ জনকে হত্যা এবং ৪৯ জনকে গুরুতর আহত করেন। এই ঘটনায় ২০২০ সালে নিউজিল্যান্ডের একটি আদালত তাকে প্যারোলহীন যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়—যা দেশটির ইতিহাসে কঠোরতম শাস্তি।তবে সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) অকল্যান্ড কারাগার থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ওয়েলিংটনের আপিল আদালতে হাজির হয়ে ট্যারেন্ট নতুন দাবি উত্থাপন করেন। তার আইনজীবীর মাধ্যমে তিনি আদালতকে জানান, ২০২০ সালে যখন তিনি দোষ স্বীকার করেছিলেন, তখন তিনি ‘নার্ভাস ব্রেকডাউন’ বা মানসিক বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। নির্জন কারাবাস, অন্য বন্দিদের সাথে যোগাযোগের অভাব এবং সীমিত পড়াশোনার সুযোগের ফলে সৃষ্ট মানসিক চাপে তিনি ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে দাবি করেন।ট্যারেন্টের অভিযোগ, সে সময় তিনি তার পরিচয় ও বিশ্বাস নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিলেন এবং কারাগারের কঠিন পরিবেশ তাকে দোষ স্বীকার করতে প্রভাবিত করেছিল। বর্তমানে তিনি সেই স্বীকারোক্তি প্রত্যাহার করে নতুন করে বিচারের সম্মুখীন হওয়ার পথ খুঁজছেন।তিন সদস্যের একটি বিচারক প্যানেল এই সপ্তাহে ট্যারেন্টের আবেদনটি পর্যালোচনা করবেন। যদি আদালত তার আবেদন গ্রহণ করে, তবে এই মামলার পুনরায় বিচার শুরু হতে পারে। অন্যথায়, তার প্যারোলহীন যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়াটি বিবেচনা করবে আদালত।উল্লেখ্য, হামলার সময় ট্যারেন্ট নিজেই তার নৃশংস কর্মকাণ্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাইভ স্ট্রিম করেছিলেন, যা বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দার ঝড় তুলেছিল। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন দিনটিকে নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসের "সবচেয়ে কালো দিন" হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো ট্যারেন্টের এই নতুন পদক্ষেপকে ক্ষমার অযোগ্য এবং বিচারের নামে প্রহসন হিসেবে দেখছেন।