শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন এবং মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে মুসলিম বিশ্বকে শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। এক অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এই গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানে ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি (আইইউটি) এবং সিকো ইউনিভার্সিটিজ নেটওয়ার্কের (সান) মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।রোববার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন মুসলিম দেশগুলোর বর্তমান বৈশ্বিক অবস্থান এবং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ নিয়ে কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, মুসলিম বিশ্বে বিপুল মানবসম্পদ এবং সমৃদ্ধ বুদ্ধিবৃত্তিক ইতিহাস থাকা সত্ত্বেও আধুনিক শিক্ষা, বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তির দৌড়ে এই অঞ্চলটি এখনো অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে।উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন, "শুধুমাত্র গতানুগতিক শিক্ষা নয়, বরং টেকসই উন্নয়ন ও সামাজিক অগ্রগতির জন্য আমাদের প্রয়োজন যুগোপযোগী প্রযুক্তিগত শিক্ষা। মুসলিম উম্মাহর উচিত তাদের তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে শিক্ষা ও উদ্ভাবনী খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ নিশ্চিত করা।"অনুষ্ঠানে ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি (আইইউটি) এবং সিকো ইউনিভার্সিটিজ নেটওয়ার্কের (সান) মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়। এই অংশীদারিত্বকে 'সময়োপযোগী উদ্যোগ' হিসেবে বর্ণনা করে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করেন যে, এর মাধ্যমে ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে যৌথ গবেষণা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময় এবং কারিগরি দক্ষতা বিনিময়ের নতুন পথ উন্মোচিত হবে।নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন আইইউটির ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম এবং সিকো ফাউন্ডেশনের নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সান-এর সদস্য সালাহউদ্দিন কাসেম খান। অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং কূটনৈতিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও স্বীকৃত হবে এবং মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে এটি একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।