নির্বাচনের আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া তথ্য ও উসকানি ছড়িয়ে পড়ার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে সরকার। মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, “সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নোংরা ও উসকানিমূলক প্রচারণা দেশের ভেতর ও বাইরে থেকে চালানো হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে এর বিরুদ্ধে কার্যকর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গণমাধ্যমসহ সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।”তিনি আরও বলেন, পুলিশ বাহিনী এখন আগের তুলনায় সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। সরকারের লক্ষ্য, আগামী জাতীয় নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও উৎসবমুখর। কোনো পুলিশ সদস্য যদি দায়িত্ব পালনে শিথিলতা দেখায়, তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অতীতে দলবাজির কারণে পুলিশের পেশাদারিত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল; এবার পুলিশকে জনগণের সেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হবে, কোনো রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তি নয়।বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে আগুন লাগার ঘটনায় কিছু আগ্নেয়াস্ত্র লুট হওয়ার সংবাদের বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, “আমরা একটি কমিটি গঠন করেছি। এখনও নিশ্চিত নয়, অস্ত্র সত্যিই হারিয়েছে কি না। তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর বিস্তারিত জানানো হবে।”বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিতদের রাস্তা অবরোধ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ নিয়ে তিনি বলেন, “এবার দীর্ঘদিন পর দেশে উৎসবমুখর নির্বাচন হচ্ছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল মনোনয়ন দিচ্ছে। অনুরোধ থাকবে, এ ধরনের ঘটনা থেকে বিরত থাকুন। রাজনীতি দেশের কল্যাণের জন্য।”চট্টগ্রামের রাউজান ও ফটিকছড়িতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বিষয়ে তিনি জানান, “রাউজানে অভিযান চালিয়ে ১১টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। কিছু সন্ত্রাসীও আটক হয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় সন্ত্রাসীর উপস্থিতি ছিল, আমরা তা নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছি।”স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও নিশ্চিত করেন, নির্বাচনে সেনাবাহিনী সর্বাত্মক ভূমিকা পালন করবে। সেনাবাহিনী ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা নিয়ে মাঠে থাকবে এবং নির্বাচনের সময়ও এই ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। এই সংক্রান্ত পদক্ষেপ ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিশ্চিত করতে চাচ্ছে, যাতে নির্বাচনের সময় আইন-শৃঙ্খলা বজায় থাকে এবং ভোটাররা নিরাপদ পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।