ভারতের বিহার রাজ্যে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে গণপিটুনির সংস্কৃতি। চুরির অপবাদ দিয়ে মোহাম্মদ দাউদ নামে এক মুসলিম যুবককে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে অমানবিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি নওয়াদায় আতহার হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে পিটিয়ে হত্যার রেশ কাটতে না কাটতেই এই নতুন ঘটনাটি জনমনে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।বিহারের সমস্তিপুর জেলার কল্যাণপুর থানা এলাকার ফুলহারা গ্রামে গত রাতে এই বর্বরোচিত ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোহাম্মদ দাউদ নামে এক যুবক চার চাকার গাড়ি নিয়ে ওই এলাকায় গেলে গ্রামবাসী তাকে ‘চোর’ সন্দেহে আটক করে। এরপর কোনো বিচার-বিবেচনা ছাড়াই তাকে একটি বিদ্যুতের খুঁটির সাথে বেঁধে সারা রাত ধরে দফায় দফায় মারধর করা হয়।খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুরুতর আহত অবস্থায় দাউদকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পুলিশি তল্লাশিতে দাউদের কাছ থেকে কোনো চুরির সরঞ্জাম বা লুণ্ঠিত মালামাল পাওয়া যায়নি; উদ্ধার করা হয়েছে কেবল তার ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন এবং গাড়ির চাবি। ভুক্তভোগী দাউদ দারভাঙ্গা জেলার বিষাণপুর থানার ফুলবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা বলে শনাক্ত করা হয়েছে।এই ঘটনাটি বিহারের সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সাম্প্রদায়িক অসহিষ্ণুতাকে পুনরায় সামনে এনেছে। গত ৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে নওয়াদায় আতহার হোসেন (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। মৃত্যুর আগে দেওয়া জবানবন্দিতে আতহার জানিয়েছিলেন, হামলাকারীরা তার ধর্ম জিজ্ঞেস করার পর পরিচয় নিশ্চিত হতে তার পোশাক পরীক্ষা করে। এরপর তাকে গরম লোহা দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়া হয় এবং প্লাস দিয়ে কান কেটে ফেলা হয়।মানবাধিকার কর্মীদের মতে, বিহারে বারবার নির্দিষ্ট একটি ধর্মীয় গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে চুরির অপবাদ বা গো-রক্ষার নামে যে গণপিটুনির ঘটনা ঘটছে, তা রাজ্যের সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি। মোহাম্মদ দাউদের ক্ষেত্রেও প্রাথমিক তদন্তে চুরির কোনো প্রমাণ না মেলায় এটি পরিকল্পিত প্রতিহিংসা কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বর্তমানে পুলিশ দাউদকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে এবং ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।